দ্য ওয়াল ব্যুরো: র্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্টে লাগাম পরাতে বলল কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক। দু’মাস আগেই রাজ্যগুলির কনটেইনমেন্ট জোনে র্যাপিড টেস্ট বাধ্যতামূলক করেছিল সরকার। সেই মতো অ্যাডভাইজারি জারি করেছিল ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চ (আইসিএমআর)। কিন্তু গত দু’মাসে যেভাবে সংক্রমণ বেড়েছে এবং র্যাপিড টেস্টে বিভ্রান্তিকর রেজাল্ট এসেছে, তাতে করোনা পরীক্ষায় অ্যান্টিজেন টেস্টের সংখ্যা কমানোরই সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বাস্থ্যমন্ত্রক। ৩০-৪০ শতাংশের বেশি র্যাপিড টেস্ট করানো যাবে না বলেই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যসচিব রাজেশ ভূষণ বলেছেন, প্রি-সিম্পটোম্যাটিক রোগীদের ক্ষেত্রেই র্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট করা যেতে পারে। রোগের প্রাথমিক উপসর্গ দেখা দিচ্ছে বা করোনা রোগীদের সংস্পর্শে এসেছেন এমন ব্যক্তিদের শুরুর দিকে এই টেস্ট করানো যেতে পারে। কিন্তু যদি ভাইরাল লোড বেশি হয়ে যায় তাহলে র্যাপিড টেস্টে সঠিক ফল নাও মিলতে পারে। অনেকক্ষেত্রেই দেখা যায় এই ধরনের টেস্টে ‘ফলস পজিটিভ’ রিপোর্ট এসেছে। অর্থাৎ সংক্রমণ না থাকলেও টেস্ট রিপোর্টে ভাইরাস পজিটিভ রিপোর্ট আসতে পারে।
আইসিএমআরের সচিব ডক্টর বলরাম ভার্গব বলেছেন, বেশিরভাগ রাজ্যেই চটজলদি করোনা পরীক্ষা করতে র্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্টেই বেশি ভরসা করা হচ্ছে। তাই অনেকক্ষেত্রেই করোনা রোগীর সঠিক সংখ্যা ধরা যাচ্ছে না। বেশিরভাগ রোগীকে শনাক্ত করাও যাচ্ছে না। ভার্গবের কথায়, অ্যান্টিজেন টেস্ট রিয়েল টাইম আরটি-পিসিআর টেস্টের আগে করানো যেতে পারে। তবে নিশ্চিত হওয়ার জন্য আরটি-পিসিআর টেস্টই সবচেয়ে বেশি কার্যকরী। র্যাপিড টেস্টে ভুলত্রুটি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে ৫০-৬০ শতাংশ।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আরটি-পিসিআর টেস্টে পজিটিভিটি রেট অ্যান্টিজেন টেস্টের চেয়ে আড়াই থেকে সাড়ে তিন গুণ বেশি। পজিটিভিটি রেট হল যতজন কোভিড রোগীর টেস্ট করানো হচ্ছে, তার মধ্যে যতজনের রোগ ধরা পড়ছে তার শতাংশের হিসেব। অ্যান্টিজেন টেস্টে এই রোগ ধরা পড়ার হার কম।
সূত্র বলছে, দেশে এখন আরটি-পিসিআর টেস্টের সংখ্যা ৬০ শতাংশে নেমে এসেছে। তুলনায় র্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্টের সংখ্যা বেশি। বিহারে র্যাপিড টেস্ট প্রায় ৮৮ শতাংশ, কেরলে ৬৩ শতাংশের বেশি, উত্তরপ্রদেশের ৬০ শতাংশের বেশি। কয়েকটি রাজ্যে অ্যান্টিজেন টেস্টের কারণেই করোনা রোগীদের চিহ্নিত করা যায়নি। দিল্লি যার মধ্যে একটি। বিহারে আরটি-পিসিআর টেস্ট কমতে কমতে ১৫ শতাংশে গিয়ে ঠেকেছে, তেলঙ্গানায় ১৭%, গুজরাটে ২২%, পশ্চিমবঙ্গে কিছুটা বেশি ৫৫%। এখনও অবধি মধ্যপ্রদেশ, পাঞ্জাব, তামিলনাড়ু ও রাজস্থানে পিসিআর টেস্ট বেশি করা হচ্ছে প্রায় ১০০ শতাংশ।
বিহার, তেলঙ্গানা, মহারাষ্ট্রের মতো কয়েকটি রাজ্যে লাখের বেশি কোভিড রোগীকে শনাক্ত করাই যায়নি। সংখ্যাগুলোও চমকে দেওয়ার মতো। যেমন মহারাষ্ট্রে ৬ লাখের বেশি করোনা রোগীকে হিসেবেই ধরা হয়নি, কারণ এদের রোগ চিহ্নিত করা যায়নি। খাতায়কলমে হিসেব রয়েছে কোভিড পজিটিভ রোগী ১৭ লাখের বেশি, অথচ আসল সংখ্যা ২৪ লাখ ছাড়িয়েছে। দিল্লিতে চার লাখের বেশি কোভিড রোগীর হিসেব নেই, তেলঙ্গানা, বিহার, অন্ধ্রপ্রদেশে তিন লাখ, পশ্চিমবঙ্গে এক লাখের কিছু বেশি, কেরলে প্রায় তিন লাখের কাছাকাছি কোভিড রোগী হিসেবের খাতার বাইরে। অথচ যেসব রাজ্যে পিসিআর টেস্ট বেশি হয়েছে সেখানে পজিটিভ কেসের হার কম। যেমন, তামিলনাড়ুতে পিসিআর টেস্ট কোটির বেশি, কর্নাটকে ৮৮ লাখ, অন্ধ্রে ৫৪ লাখ।