দ্য ওয়াল ব্যুরো : রাষ্ট্রপতি শাসনের সুযোগ নিয়ে মহারাষ্ট্রে বিধায়ক কেনাবেচার খেলায় নেমেছে বিজেপি। শনিবার দলীয় মুখপত্র ‘সামনা’-য় বিজেপি সম্পর্কে এমনই মন্তব্য করল শিবসেনা। বিধায়ক কেনাবেচাকে তুলনা করা হয়েছে ক্রিকেটের ম্যাচ ফিক্সিং-এর সঙ্গে। কিছুদিন আগে বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ এবং মহারাষ্ট্রের বিজেপি প্রধান চন্দ্রকান্ত পাতিল বলেন, ১৪ জন নির্দল সহ ১১৯ জন বিধায়ক তাঁদের পক্ষে আছেন। বিজেপির সমর্থন ছাড়া কোনও দলের পক্ষে মহারাষ্ট্রে সরকার গড়া সম্ভব নয়। ওই বক্তব্যের বিরোধিতা করা হয়েছে ‘সামনা’-র সম্পাদকীয়তে।
শিবসেনার মুখপত্রে লেখা হয়েছে, “অমিত শাহ বলেছেন, যে দলের ১৪৫ জন বিধায়ক আছে, তারাই সরকার গড়বে। সাংবিধানিকভাবে তিনি ঠিকই বলেছেন। এখন অনেকে বলছেন, বিজেপিই সরকার গড়বে। তাঁরা তো আগেই রাজ্যপালের কাছে বলে এসেছেন, সরকার গঠনের মতো গরিষ্ঠতা তাঁদের নেই। তাহলে এখন তাঁরা সরকার গড়ার কথা বলছেন কী করে?”
এর পরে শিবসেনা প্রশ্ন তুলেছে, “তাহলে বিজেপি কি রাষ্ট্রপতি শাসনের সুযোগে গরিষ্ঠতা অর্জন করেছে?”
অমিত শাহ শিবসেনাকে কটাক্ষ করে বলেন, বিজেপি যেমন সরকার গঠনের চেষ্টা করছে, তেমন উদ্ধব ঠাকরের দলও করতে পারে। কিন্তু কংগ্রেস ও এনসিপির সঙ্গে জোট বাঁধলেও তারা সরকার গঠনের মতো গরিষ্ঠতা পাবে কি? শিবসেনা জানিয়েছে, তাদের সঙ্গে কংগ্রেস ও এনসিপির জোট হলে বিধায়কের সংখ্যা দাঁড়াবে ১৫৪। অর্থাৎ তারা স্বচ্ছন্দে সরকার গড়তে পারবে।
শুক্রবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নীতিন গড়কড়ি মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে ডামাডোলের সঙ্গে ক্রিকেটের তুলনা করেছিলেন। তিনি বলেন, “ক্রিকেট ও রাজনীতিতে সব কিছুই ঘটতে পারে। কখনও হয়তো আপনার মনে হবে ম্যাচে হেরে যাচ্ছেন, কিন্তু খেলার শেষে দেখা যাবে ফলাফল হয়েছে উল্টো”। ‘সামনা’-য় পালটা বলা হয়েছে, এখনকার দিনের স্পোর্টসে খেলার ভাগ কম, বাণিজ্যের ভাগ বেশি। এই প্রসঙ্গেই বলা হয়েছে, বিজেপি ম্যাচ ফিক্সিং-এর চেষ্টা করছে। রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে তারা নিয়ন্ত্রণ করতে চায়।
সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে, “ক্রিকেটে নানাভাবে ম্যাচ ফিক্সিং হয়। যে জেতে তার সত্যিই যোগ্যতা আছে কিনা, তা নিয়ে সন্দেহ থাকে। গড়করি যে মহারাষ্ট্রের রাজনীতির সঙ্গে ক্রিকেটের মতো একটি থ্রিলিং গেমের তুলনা করবেন তাতে আশ্চর্যের কিছু নেই।”