
শেষ আপডেট: 6 October 2021 08:38
মণ্ডপ দাঁড়িয়ে থাকবে আটটি স্তম্ভের ওপর। এই আটটি স্তম্ভ সমাজের বিভিন্ন রকম পেশাকে তুলে ধরবে। কোনও একটি স্তম্ভের পতন হলে পরিবারের যে ক্ষতি হয় তাকেই সর্বহারার সঙ্গে তুলনা করেছেন শিল্পী। কিন্তু এখানেই থেমে থাকা নয়, বিপদকে হারিয়ে সেই মানুষগুলোও একদিন আবার জয়ী হন। বাংলার কোণে কোণে এমন হাজার গল্প আছে। সেইসব মানুষের লড়াই উঠে আসছে উত্তর কলকাতার এই পুজোতে।
শিল্পী সৌরভ নাগের কথায়, "আমরা মূলত বজ্রপাত নিয়ে কাজ করছি। তবে অনেক ক্ষেত্রে এই বজ্রপাতকে আমরা আক্ষরিক অর্থে ব্যবহার করেছি। বজ্রপাতে প্রচুর ক্ষতি হয় মানুষের। অনেকে পরিবারের মূল মানুষটিকেই হারিয়ে ফেলেন। তবে তার পরেও তারা আবার সর্বজয়া হয়ে ওঠে, সেই লড়াইয়ের কথাই দেখাচ্ছি।"
বজ্রপাত কবলিত এলাকায় মূলত যে সব পেশার ওপর পরিবার দাঁড়িয়ে থাকে সেই রকমই আটটি স্তম্ভের ওপর পুরো মণ্ডপটি দাঁড়িয়ে থাকবে। আর থাকবে বাজ পড়ে নষ্ট হওয়া গাছ, ক্ষতি হওয়া বাড়ির চিত্র। এইভাবেই বজ্রপাতে ক্ষতি হওয়া বিভিন্ন দৃশ্য আঁকা হবে গৌরীবেড়িয়া সার্বজনীনের মণ্ডপের মধ্যে।
পুরো আয়োজন যে দর্শকদের জন্য, সেই দর্শকদের জন্যই মণ্ডপে ঢোকার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে কলকাতা হাইকোর্ট। রাজ্যের তরফেও সেই কথা মেনে নেওয়া হয়েছে। তাই এই কাজ সামনে থেকে মানুষের সামনে তুলে ধরতে না পারায় কিছুটা মনমরা ক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক মান্টা মিশ্র। তবে দর্শকদের জন্য ফেসবুকে পুরো মণ্ডপকে তুলে ধরার ভাবনা নিয়েছে গৌরীবেড়িয়া সার্বজনীন।
মান্টা মিশ্র বলেন, "আমাদের আন্দাজ ছিল, এই রকম একটা রায় আসবে। সেই মতোই প্রস্তুতি নিয়েছি। আগের বারের রায়ের কথা মাথায় রেখেই এবার মণ্ডপ তৈরি করেছি। উৎসাহী জনতা যাতে বাইরে থেকেই মণ্ডপ ও প্রতিমা দর্শন করতে পারেন সেইভাবেই ভাবা হয়েছে।"
এই সর্বজয়ার গল্পে আবার বজ্রপাতে সর্বহারা এক মায়ের সন্তানই ভবিষ্যতে বজ্রপাত নিয়ে গবেষণা করছে। কীভাবে বজ্রপাত থেকে বাঁচা যায়, সেইসব উপায়ের ছোট ছোট ঝলকও উঠে আসবে মণ্ডপে। বলাই চলে প্রকৃতির বিরুদ্ধে মানুষের লড়াইয়ের এক প্রতিচ্ছবি।
পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকা 'সুখপাঠ'