.webp)
কলকাতার সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউয়ের এলআইসি বিল্ডিং।
শেষ আপডেট: 20 June 2024 13:32
দ্য ওয়াল ব্যুরো: তাহলে কি বিক্রি হতে চলেছে কলকাতার সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউয়ের বুকের উপর দাঁড়িয়ে থাকা জীবনবিমা নিগমে ঐতিহ্যবাহী বাড়ি? চিত্তরঞ্জন অ্যাভিনিউয়ের এই বাড়ি কলকাতা মহানগরীর বহু ইতিহাসের নীরব সাক্ষী। শেষমেশ তহবিল বৃদ্ধিতে কি জীবনবিমা নিগম এই বাড়িটিও বেচে দিতে চলেছে? যদিও জীবনবিমা নিগম এই বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি বিক্রির খবর অস্বীকার করেছে। গত মঙ্গলবারই এক বিবৃতিতে সংস্থার তরফ থেকে এই সংবাদকে অসত্য বলে দাবি করা হয়েছে।
জীবনবিমা নিগম তাদের বেশ কয়েকটি অতি মূল্যবান সম্পত্তি বেচে ৫০,০৪৩ থেকে ৫৮,৩৮৪ কোটি টাকা (৬-৭ বিলিয়ন ডলার) সংগ্রহের পরিকল্পনা করেছে বলে মিন্ট নামে একটি সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে।
জীবনবিমা নিগম হল ভারতের তৃতীয় বৃহত্তম জমিবাড়ির মালিক। দেশজুড়ে বেশ কয়েকটি অতি মূল্যবান বাড়ি বিক্রি করে তহবিল গঠনের কাজ অতি গোপনে একটি অভ্যন্তরীণ ২ সদস্যের টিমকে দেওয়া হয়েছে। মিন্টের কাছে নাম গোপন রেখে তাঁরা জানিয়েছেন, সম্পত্তি বিক্রির এই প্রক্রিয়া শুরু হবে মুম্বই থেকে। এই তালিকায় কলকাতার চিত্তরঞ্জন অ্যাভিনিউয়ের বাড়িটিও আছে।
দিল্লির কনট প্লেসে রয়েছে জীবন ভারতী বিল্ডিং, কলকাতার চিত্তরঞ্জন অ্যাভিনিউয়ের এলআইসি বিল্ডিং মুম্বইয়ের আকবরাল্লির একটি বিল্ডিং খুবই দামি জায়গায় এবং দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী বাড়ি। এই বাড়িগুলির শেষবার মূল্যায়নে দেখা গিয়েছিল, এগুলির মূল্য ৫০ থেকে ৬০ হাজার কোটি টাকা।
মিন্টকে ওই দুজনের একজন বলেছেন, নিয়মমাফিক বিক্রির প্রক্রিয়া শুরুর আগে যেটা জরুরি সেটা হল এলআইসি-র মালিকাধীন বাড়িগুলির নতুন করে মূল্যায়ন। জীবনবিমার বহু বাড়ি আছে যার এর আগে কোনও বিক্রির রেকর্ড নেই এবং তাদের বাজারমূল্যও জানা নেই। তবে এটুকু বলা যায়, আসলে এগুলির দাম আগের মূল্যায়নের থেকে পাঁচগুণ বেশি হবে। অর্থাৎ, ২.৫-৩ লক্ষ কোটি টাকা।
মিন্টকে অভ্যন্তরীণ দলের একজন আরও বলেন, জীবনবিমার হাতে এছাড়াও উত্তরাখণ্ডের মুসৌরির মল রোডের উপর বিখ্যাত স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া বিল্ডিং রয়েছে। নয়াদিল্লি এবং লখনউয়ের দুটি বাড়িতে দুটি প্রখ্যাত মিডিয়া হাউসের সদর রয়েছে। এরকম ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা অসংখ্য বাড়ি রয়েছে, যার যথার্থ মূল্যায়ন কোনওদিনই করা হয়নি। প্রাথমিক কাজ হচ্ছে, এগুলির চলতি বাজারদাম নির্ধারণ করা।
এ বিষয়ে মিন্টের তরফে জীবনবিমার ডিপার্টমেন্ট অফ ইনভেস্টমেন্ট অ্যান্ড পাবলিক অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট (DIPAM) এবং ডিপার্টমেন্ট অফ ফিনান্সিয়াল সার্ভিসেসের প্রতিক্রিয়া চেয়ে মেল পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু, ওদিক থেকে কোনও জবাব মেলেনি। সরকারি মালিকাধীন সংস্থার সম্পত্তি বেচার বিষয়ে ডিআইপিএএম-এর অনুমতি অত্যাবশ্যক। সেখান থেকে সবুজ সংকেত না এলে সরকারি সম্পত্তি বিক্রি করা যায় না।