
মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ
শেষ আপডেট: 19 January 2025 12:54
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সিনিয়র চিকিৎসকদের নজরদারিতেই প্রসূতিদের অস্ত্রোপচার করা হয়। শুধু তাই নয়, জাতীয় মেডিক্যাল কমিশনের গাইডলাইন মেনেই অপারেশন করা হয়েছে বলে দাবি মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজের জুনিয়র ডাক্তারদের। এই মর্মে তাঁরা হাসপাতালের অধ্যক্ষকে চিঠিও পাঠিয়েছেন, বলেছেন সাসপেন্ডের সিদ্ধান্ত যেন বিবেচনা করা হয়। পিজিটিদের সেই চিঠিই আবার স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিকর্তাকে পাঠালেন হাসপাতালের অধ্যক্ষ।
প্রসূতি মৃত্যু-কাণ্ডে সাসপেন্ড করা হয়েছে ৭ জুনিয়র ডাক্তার-সহ ১৩ জনকে। সেই সাসপেনশন প্রত্যাহারের দাবি করেছে আইএমএ রাজ্য শাখা। এখনও এর প্রতিবাদে হাসপাতালে অবস্থান অব্যাহত। বিক্ষোভকারীদের অধিকাংশই স্ত্রীরোগ বিভাগের জুনিয়র ডাক্তার।
তাঁদের অভিযোগ, যখনই কোনও রোগীকে ভর্তি করার বিষয় থাকে, তখন সিনিয়র ডাক্তারদের নামেই তা করা। শোকজ নোটিস পাঠানোর পর আমাদের কোনও কথা শোনা হয়নি। বরং সাসপেন্ড করে, অনিচ্ছাকৃত খুনের মামলা দায়ের করে দেওয়া হয়।
বস্তুত, সম্প্রতি মেদিনীপুরে এক প্রসূতির মৃত্যু এবং চার প্রসূতির গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনাকে ঘিরে শোরোগোল তৈরি হয়। পরে মৃত্যু হয় এক সদ্যোজাতরও। ঘটনার তদন্তে নেমে মেদিনীপুরে চিকিৎসকদের গাফিলতির বিষয়ে নিশ্চিত হন তদন্তকারীরা।
এরপরই মেদিনীপুরের সুপার-সহ ১২ চিকিৎসককে সাসপেন্ডের ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। পরে আরও একজনকে সাসপেন্ড করা হয়। তখনই মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, গাফিলতির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় অনিচ্ছাকৃত খুনের মামলা রুজু হবে।
পরিষেবার ক্ষেত্রে কারও গাফিলতি যে বরদাস্ত করা হবে না, গত বৃহস্পতিবার তা স্পষ্ট করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'মানুষের জবাব চাওয়ার অধিকার আছে। যেখানে অন্যায় হয়, সেখানে কথা উঠবেই। আমরা যেমন চিকিৎসকদের প্রতি সহানুভূতিশীল, তেমনি মানুষের দিকটাও দেখতে হবে। তাই তদন্তের সমস্ত রিপোর্ট খতিয়ে দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কাউকেই ছাড়া হবে না।'