দ্য ওয়াল ব্যুরো : কয়েক মাস ধরেই দেওনারের বাসিন্দা সুহেইলের ডান হাতের কনুইয়ের নীচে একটা কালো ছোপ দেখা গিয়েছিল। সুহেইল প্রথমে বিশেষ গুরুত্ব দেননি। কারণ সেখানে যন্ত্রণা ছিল না। ২৪ বছরের সুহেইল মুম্বই সেন্ট্রালে এক ইউথ হোস্টেলের ম্যানেজার। গতবছর জুলাই মাসে তাঁর সহকর্মীরা হাতের দাগটি দেখে বলেন, ওটা কুষ্ঠ রোগের চিহ্ন হতে পারে। ভয় পেয়ে সুহেইল এক চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে গেলেন। তিনি সুহেইলকে পাঠালেন বম্বে লেপ্রসি প্রজেক্ট নামে এক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার চুনাভাট্টি ক্লিনিকে। সেখানে পরীক্ষা করে ডাক্তাররা বললেন, কুষ্ঠই হয়েছে তাঁর।
এখন সুহেইলকে ছয় মাস ধরে চিকিৎসা করাতে হবে। তাঁর সৌভাগ্য, আগেভাগে রোগ ধরা পড়েছে।
২০০৫ সালে ঘোষণা করা হয়েছিল, ভারত থেকে কুষ্ঠ রোগ নির্মূল করা গিয়েছে। কিন্তু কয়েক বছর আগে নিঃশব্দে ফিরে এসেছে ওই রোগ। ২০১৮ সালের এপ্রিল থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে ৩৬২ জনের শরীরে কুষ্ঠ ধরা পড়েছে। গত পাঁচ বছরে শুধু মুম্বই শহরেই কুষ্ঠ ধরা পড়েছে আড়াই হাজার মানুষের শরীরে।
চিকিৎসকরা উদ্বিগ্ন হয়ে লক্ষ করছেন, নতুন করে ফিরে আসার পরে কুষ্ঠ এমন সব অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ছে যেখানে আগে ওই রোগের প্রকোপের কথা শোনা যায়নি। তার চেয়েও ভয়ের কথা হল, নতুন যে ব্যক্তিদের কুষ্ঠ ধরা পড়েছে, দের ৬৩ শতাংশের ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে শরীরে কুষ্ঠের ছাপ আছে পাঁচটির বেশি জায়গায়। এর অর্থ তাঁদের দেহে কুষ্ঠরোগ অ্যাডভান্সড স্টেজে। দেরিতে রোগ ধরা পড়লে রোগীদের শরীরে নানা বিকৃতি দেখা যায়। সম্প্রতি যাদের দেহে কুষ্ঠ রোগের লক্ষণ ধরা পড়েছে, তাঁদের ১১ শতাংশের শরীরে বিকৃতি দেখা গিয়েছিল। নতুন করে যারা কুষ্ঠ রোগে আক্রান্ত হয়েছে, তাদের ১২ শতাংশ শিশু। একটি সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, মুম্বইয়ের প্রতিটি এলাকাতেই কুষ্ঠ রোগের প্রকোপ লক্ষ করা গিয়েছে।
কুষ্ঠ নির্মূল হয়ে গিয়েছে বলে ঘোষণার ১৪ বছর বাদে এখন সারা দেশে ওই রোগে আক্রান্তের সংখ্যা কয়েক লক্ষ। ২০১৭-১৮ সালে দেশে ১ লক্ষ ২৬ হাজার মানুষের দেহে কুষ্ঠ ধরা পড়েছিল। সারা বিশ্বে যত জনের শরীরে ওই রোগ ধরা পড়েছে, তাদের ৬০ শতাংশ ভারতের নাগরিক। ৫০ শতাংশ ক্ষেত্রে রোগী একেবারে অ্যাডভান্সড স্টেজে ডাক্তারের কাছে এসেছেন। আক্রান্তদের ৪০ শতাংশ মহিলা। আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা ১২ হাজার।