দ্য ওয়াল ব্যুরো: সুদীপ্ত গুপ্তকে মনে আছে? পুলিশের মারের জন্য অকালে প্রাণ হারান নেতাজি নগর কলেজের ছাত্র বছর ২৩-এর সুদীপ্ত গুপ্ত। সরকার যদিও 'দুর্ঘটনা' বলে হাত ধুয়ে ফেলেছিল। এবারেও সেই স্মৃতি যেন আবার ফিরে এলো। ১১ তারিখ নবান্ন অভিযানে পুলিশের হাতে বেধড়ক মার খেয়ে প্রাণ হারান সিপিএমের যুব নেতা মনসুর আলি মিদ্যা। আর তাঁর মৃত্যুতে শোকাহত প্রত্যেকজন সংবেদশীল মানুষ। বাদ যাননি শ্রীলেখা মিত্র থেকে পরিচালক কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায়, অনীক দত্তের মতো টলিউডের চেনা মুখেরাও, প্রতিবাদে সামিল হয়েছেন।

শ্রীলেখা নিজের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে 'কমরেড লাল সেলাম' বলে শ্রদ্ধা জানান মিদ্যাকে। অপরদিকে এই শাসন ব্যবস্থা, সরকারের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেও এই দুসংবাদের ছবি শেয়ার করেন পরিচালক অনীক দত্ত। মনসুরের মৃত্যুতে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন বাম ছাত্র সংগঠন থেকে শুরু করে রাজ্যের নানা স্তরের মানুষেরা।

পরিচালক কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায় লেখেন প্রতিবাদ জানিয়েন। ছাত্র যুবদের নবান্ন অভিযানে পুলিশের লাঠির ঘায়ে যুবক যুবকের মৃত্যু নিয়ে তিনি সরব হন। লেখেন,''যাঁরা রাজনীতিকে 'খেলা' মনে করছেন, তাঁদের উপরি রোজগার আছে। তাঁরা জানেন না যে বেকারত্বের জ্বালা, প্রতিবাদের মিছিল আর শহীদের মৃত্যু - এর কোনোটাই কিন্তু ছেলেখেলা নয়।'' জনগণ যে আর চুপ করে থাকবেন না, প্রতিবাদ করবেনই সেই কথা উঠে এসেছে তাঁর লেখায়। তাঁরাই সময়মতো এই অন্যায়ের জবাব দেবেন আশা রাখছেন পরিচালক।

গত ১১ ফেব্রুয়ারি নবান্ন অভিযানে গিয়ে পুলিশের হাতে বেধড়ক মার খেয়েছিলেন বাঁকুড়ার কোতলপুরের ডিওয়াইএফআই নেতা মনসুর আলি মিদ্দ্যা। মাথা, কোমর, বুক ও কিডনিতে চোট পান ৩২ বছরের মনসুর। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে কলকাতায় ময়দানের কাছে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই সোমবার সকাল ৭টা নাগাদ মৃত্যু হয়েছে মনসুরের।
পেশায় অটোচালক মনসুর ডিওয়াইএফআইয়ের বাঁকুড়ার গোপীনাথপুর ইউনিটের সেক্রেটারি ছিলেন। দক্ষ সংগঠক হিসেবেই তাঁর পরিচিতি ছিল। গত ১১ ফেব্রুয়ারি বাকি কমরেডদের সঙ্গে তিনিও আসেন নবান্ন অভিযানে। একদম সামনের সারিতে নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন। ব্যারিকেড ভাঙার পরেই পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ শুরু হয় বাম ছাত্র ও যুব নেতাদের। লাঠির আঘাতে রাস্তাতেই লুটিয়ে পড়েন মনসুর। তাঁকে উদ্ধার করে ময়দানের কাছে বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই কয়েক দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছিলেন তিনি। কিন্তু সোমবার সকালে শেষ হয়ে গেল তাঁর লড়াই।
এই মইদুল হয়তো সুদীপ্ত গুপ্তর মৃত্যুতে ফুঁসে উঠেছিলেন। চেয়েছিলেন বিচার, আর আজ অনেকেই চায়ছেন মইদুলের মৃত্যুতে। কিন্তু কথা থামবে না। যে কোনও স্তরের মানুষই প্রশ্ন তুলবেন, থামবে না লড়াই।