
শেষ আপডেট: 28 March 2023 17:04
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সাগরদিঘি (Sagardighi) উপনির্বাচনে বাম সমর্থিত কংগ্রেস প্রার্থী বাইরন বিশ্বাসের জয়ের পর নতুন করে জোট যেন জোর পেয়েছে। সিপিএম-কংগ্রেস নেতানেত্রীদের শরীরী ভাষা, কথাবার্তা ইত্যাদিতেই তা স্পষ্ট। কিন্তু তারপর থেকে সেভাবে রাজ্য স্তরে যৌথ কর্মসূচি দেখা যায়নি। শেষ পর্যন্ত কলকাতায় (Kolkata) বুধবার বামফ্রন্টের ডাকে মিছিলে অংশগ্রহণ করছে কংগ্রেস (Left-Congress joint rally)।
গত শুক্রবার রাজ্য বামফ্রন্টের বৈঠকের পর সাংবাদিক সম্মেলন করে মিছিলের কথা ঘোষণা করেছিলেন ফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু। সেদিন বামেদের পক্ষ থেকে তৃণমূল ও বিজেপি বিরোধী সমস্ত দলকে মিছিলে আসার আহ্বান জানানো হয়েছিল। আলিমুদ্দিন স্ট্রিটের সেই আহ্বানে সাড়া দিল কংগ্রেস।
দ্য ওয়ালকে কংগ্রেস মুখপাত্র সৌম্য আইচ রায় বলেন, ‘আগামীকাল মিছিলে আমাদের কলকাতার সাংগঠনিক শক্তি নিয়ে আমরা উপস্থিত থাকব।’ তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী কি থাকবেন? জবাবে মঙ্গলবার রাত সাড়ে ন’টা নাগাদ তিনি বলেন, ‘সংসদে যা চলছে তাতে কী হবে বুঝতে পারছি না। অধীরবাবু যদি দিল্লি থেকে কলকাতায় আসেন তাহলে নিশ্চিত থাকবেন।’
তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, বাংলার প্রতি কেন্দ্রীয় বঞ্চনার বিরুদ্ধে এই মিছিলের ডাক দিয়েছে রাজ্য বামফ্রন্ট। যে ইস্যুতে বুধবার দু’দিনের ধর্না শুরু করছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একই ইস্যুতে শহিদ মিনারে তৃণমূলের ছাত্র-যুব সমাবেশে বলবেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। আবার কংগ্রেস-বামেরাও সেই এক বিষয় নিয়ে পথে নামতে চলেছেন। তাঁদের বক্তব্য, বাংলায় শাসকদল একশ দিনের কাজের টাকা নিয়ে নয়ছয় করেছে সন্দেহ নেই। তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা হোক। কিন্তু তার জন্য গ্রামীণ মানুষের রোজগার বন্ধ করে পেটে লাথি মারার কোনও অধিকার মোদী সরকারের নেই। আসলে দু’টো সরকারই খেয়োখেয়ি করে গরিব মানুষকে বঞ্চিত করছে।
সাগরদিঘি জয়ের পর কলকাতার রাস্তায় ত্রিপুরার ভোট পরবর্তী হিংসার প্রতিবাদে মিছিল করেছিল বামেরা। ত্রিপুরায় জোট বা আসন সমঝোতা করে বাম-কংগ্রেস লড়লেও কলকাতার মিছিলে যৌথ ফ্রেমে দুটো দলকে দেখা যায়নি। সেই সময়েও প্রশ্ন উঠেছিল, সাগরদিঘি জয়ের পরেও কি যৌথ কর্মসূচি লাগাতার চালিয়ে যাওয়ার কথাটা মাথায় ঢুকছে না আলিমুদ্দিন ও বিধান ভবনের। এতদিনে দেখা গেল সেই জাঢ্য ভাঙতে চলেছে। কাস্তে, হাতুড়ি আর হাত কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নামতে চলেছে মহানগরীর রাস্তায়।