দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিশাখাপত্তনমের গ্যাস লিক কাণ্ডের প্রায় ৮-১০ ঘণ্টা পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে নিশ্চিত করল বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর সদস্যরা। অন্তত আট জনের মৃত্যু হয়েছে এখনও পর্যন্ত। মৃতদের মধ্যে রয়েছে এক শিশুও। কিন্তু উদ্বেগ বাড়িয়েছেন আরও প্রায় ৮০০ মানুষ। অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে তাঁদের।
অন্ধ্রপ্রদেশ পুলিশের ডিরেক্টর জেনারেল দামোদর গৌতম সাওয়াং বৃহস্পতিবার দুপুরে জানিয়েছেন, ছড়িয়ে পড়া গ্যাসের আক্রমণ থামেনো গেছে। আপাতত আর কোনও বিপদ নেই ওই কারখানা থেকে বা গ্যাস থেকে। তাঁর কথায়, "যে ক্ষতি হয়েছে তা থেকে বাঁচার একটি উপায় হল, প্রচুর পরিমাণে জল খেতে হবে। যে কয়েকশো মানুষকে ভর্তি করা হয়েছিল আক্রান্ত অবস্থায় তাঁদের মধ্যে অনেককে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। কীভাবে দুর্ঘটনা ঘটল, সেটা তদন্ত করে দেখা হবে।"
খবর পাওয়ার পরে পরিস্থিতি নিয়ে পর্যালোচনা করতে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা দলের কর্তাদের সঙ্গে বিশেষ বৈঠকও করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেখানে ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিংহও। এর পরে টুইটও করেন মোদী। লেখেন, "স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক এবং বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর কর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছি বিশাখাপত্তনম পরিস্থিতি নিয়ে। খতিয়ে নজর রাখছি। সকলের সুস্থতার জন্য প্রার্থনা করছি আমি।" টুইট করেন অমিত শাহ-ও।
https://twitter.com/narendramodi/status/1258253228308742147
https://twitter.com/AmitShah/status/1258258080438956033
কেন্দ্রীয় সরকার ছাড় দেওয়ায় সবেমাত্র খুলেছিল অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনমের রাসায়নিক কারখানাটি। এর মধ্যেই ঘটে গেল বড়সড় দুর্ঘটনা। বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে ৩টে নাগাদ বেঙ্কটপুরমের এলজি পলিমার্স ইন্ডিয়া প্রাইভেট লিমিটেড নামক ওই বহুজাতিক রাসায়নিক কারখানা থেকে গ্যাস লিক শুরু হয়।
জানা গেছে, সে সময়ে কারখানায় ছিলেন শুধু নিরাপত্তারক্ষীরা। আচমকা গ্যাস লিক হওয়ায় অচৈতন্য হয়ে পড়েন তাঁরা। ফলে কেউ কিছু জানতেই পারেননি, গ্যাস ছড়িয়ে পড়তে থাকে লোকালয়ে। সাড়ে ৪টের দিকে আশপাশের এলাকার বাসিন্দাদের চোখ জ্বালা করতে থাকে ও শ্বাসকষ্ট শুরু হতে থাকে। অস্বস্তিতে ঘুম ভেঙে যায় অনেকের। তখন খবর যায় পুলিশে। জরুরি ভিত্তিতে উদ্ধারের কাজে নামে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী।
সকালে গ্যাস লিকের খবর ফ্যাক্টরিতে পৌঁছনো মাত্র গোটা ফ্যাক্টরির সমস্ত কাজ বন্ধ করে লকডাউন করে দেওয়া হয় কারখানা। পুলিশ-প্রশাসনকে জানানো হয়, ক্ষতিকর গ্যাসটি সঙ্গে সঙ্গে লিকুইডে পরিণত করা হয়, যা বাইরে ছড়িয়ে ক্ষতি বাড়াতে পারবে না। কিন্তু ততক্ষণে যা হওয়ার হয়ে গেছে। যেটুকু গ্যাস লিক হয়েছে, তাতেই আশপাশের অসংখ্য মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত।

ইতিমধ্যেই প্রাথমিক এফআইআর দায়ের হয়েছে পুলিশে। বিশাখাপত্তনমের পুলিশ কমিশনার আরকে মীনা জানিয়েছেন, আশপাশের গ্রামগুলি থেকে সকলকে উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকর্মীরা জানিয়েছেন, কারখানার এক থেকে দেড় কিলোমিটার পরিধির মধ্যে যা ক্ষতি হওয়ার হয়েছে। যদিও গ্যাসের গন্ধ পাওয়া গেছে আড়াই কিলোমিটার দূর পর্যন্ত, কিন্তু মানুষের প্রাণের ক্ষতি অত দূর পর্যন্ত হয়নি।
জগন্মোহন রেড্ডি আরও জানান, ওই কেমিক্যাল প্লান্টের দায়িত্বে থাকা কর্তৃপক্ষকে এই ঘটনার দায় নিতে হবে। সরকারকে জবাব দিতে হবে, কী করে এই ঘটনা ঘটল। "কোন কোন নিয়ম মানা হয়েছে আর কোন কোন নিয়ম হয়নি, তা আমাদের এসে বলতে হবে। পুলিশও তদন্ত করছে গোটা ঘটনার। এই গাফিলতির দায় কার, তা খতিয়ে দেখা হবে। তার পরেই কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে যথাযথ ক্রিমিনাল অ্যাকশন নেওয়া হবে। কাউকে ছাড়া হবে না, কোনও কিছুকে রেয়াত করা হবে না।"-- বলেন জগন্মোহন রেড্ডি।
এই ঘটনায় দুঃখপ্রকাশ করে টুইট করেছেন প্রেসিডেন্ট রামনাথ কোবিন্দও।
https://twitter.com/rashtrapatibhvn/status/1258272802865463297