দ্য ওয়াল ব্যুরো: অবশেষে সূত্র মিলল অন্ধ্র প্রদেশের ইলুরু শহরে রহস্যময় রোগ ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায়! আজই দিল্লি থেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের যে সরকারি দলটি গিয়ে পৌঁছেছে অন্ধ্রে, প্রাথমিক পরীক্ষায় তারা রিপোর্ট দিয়েছে, রোগীদের রক্তে প্রচুর সীসা ও নিকেল পাওয়া গেছে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রের খবর, সরকারের তরফেই তাঁরা একটি মেসেজ পেয়েছেন। সেখানেই বলা হয়েছে, রোগীদের রক্তের নমুনা দিল্লির অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেসে পরীক্ষা করা হয়েছে। বেশির ভাগ নমুনায় সীসা, নিকেল ও অন্যান্য কিছু ভারী ধাতুর উপস্থিতি পাওয়া গেছে। মনে করা হচ্ছে, অসুস্থতার কারণ এই ধাতুই।
স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তরফে একটি বিবৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, উপরাষ্ট্রপতি ভেনকাইয়া নাইডু অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সসের পরিচালকের সঙ্গে কথা বলেছেন এই বিষয়ে। এইমসের বিশেষজ্ঞরা অন্ধ্রের চিকিৎসকদের সঙ্গে এবং সরকারি দলের সঙ্গে সর্বক্ষণ যোগাযোগ রাখছেন।
অন্ধ্রের সরকারি সূত্রের খবর, গতকাল থেকে কম করেও ৫০০ জনকে এমন অজানা রোগের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে। যদিও বিপদের বাইরে রয়েছেন ৩৭০ জন, তবে অবস্থা গুরুতর বেশ কয়েকজনের। ইলুরু শহরের সরকারি জেনারেল হাসপাতালে রবিবার রাতে ৪৫ বছরের এক রোগীর মৃত্যু হয়েছে এই অজানা রোগে। ডাক্তাররা বলছেন, অজ্ঞান হয়ে গিয়েছিলেন রোগী। মাথা যন্ত্রণা, বমিভাব ছিল। মৃগীরোগের মতো উপসর্গ দেখা দিয়েছিল। কিন্তু অসুখটা ঠিক কী সেটা বোঝার আগেই মৃত্যু হয় রোগীর। তাঁর সেরিব্রাল স্পাইনাল ফ্লুইড টেস্ট করানো হয়। তাও স্বাভাবিক আসে। করোনা সংক্রমণও ছিল না।
কেউ কেউ দাবি করেন, কৃষিক্ষেত্রে ব্যবহৃত কোনও রাসায়নিকের কারণে হয়তো খাবারের মাধ্যমে অজানা কোনও সংক্রমণ ছড়িয়েছে এলাকাবাসীর দেহে। অসুস্থদের মধ্যে কেউ কেউ আবার এলাকায় ময়লা জমার কথা এবং শুয়োর চরে বেড়ানোর কথা জানিয়েছিলেন। বিষাক্ত অর্গানোক্লোরিনের মতো টক্সিক পদার্থ শরীরে ঢুকলে এমন খিঁচুনি বা স্নায়ু রোগ দেখা দিতে পারে। কিন্তু সে সব দিক খতিয়ে দেখেও কোনও দিশা পাননি ডাক্তাররা।
এসবের মধ্যেই দিল্লি থেকে বিশেষ টিম ছুটে যায় ইলুরু। তারা আক্রান্তদের বাড়ি থেকে ভোজ্যতেল, চালের দানা সংগ্রহ করেছে ল্যাবে বিশ্লেষণের জন্য। রোগীদের মূত্র ও রক্তপরীক্ষার সব রিপোর্ট খতিয়ে দেখছে তারা। নমুনা পাঠানো হয় দিল্লিতেও। শেষমেশ দেখা গেছে সীসা ও নিকেলের কারণেই বিষক্রিয়া ঘটেছে রোগীদের শরীরে।
অন্ধ্রের মুখ্যমন্ত্রী জগনমোহন রেড্ডি নিজে সরকারি হাসপাতালে গিয়ে রোগীদের সঙ্গে দেখা করেছেন। আক্রান্তরা সর্বোচ্চ পরিষেবা পাবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। ইতিমধ্যেই পূর্ব গোদাবরীর ইলুরু শহরে ২৪ ঘণ্টার কন্ট্রোল রুম খুলে ফেলা হয়েছে। রাজ্যের মুখ্যসচিব নীলম সহনে বলেছেন সবরকম জরুরি পদক্ষেপ করা হচ্ছে। বিজয়ওয়াড়ার হাসপাতালগুলিতে অতিরিক্ত শয্যার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
এমনিতেই করোনাভাইরাসের ঝড়ে টালমাটাল গোটা দেশ। সংক্রমণের নিরিখে পৃথিবীর দু'নম্বর দেশ ভারত। খুব তাড়াতাড়ি কোটি ছাড়িয়ে যাবে আক্রান্তের সংখ্যা। দেশের মধ্যে অন্ধ্রের অবস্থান খুব একটা ভাল নয় সংক্রমণের নিরিখে। তারই মধ্যে এই নতুন অসুখে প্রমাদ গণছে ইলুরু।