কেন্দ্রীয় প্রকল্পে বাধা, আইনশৃঙ্খলা, অনুপ্রবেশ ও দুর্নীতি, সিঙ্গুরের সভামঞ্চ থেকে তৃণমূল (TMC) সরকারকে বিঁধতে কোনও ইস্যুই বাদ রাখলেন না প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)।

মোদী ও মমতা
শেষ আপডেট: 18 January 2026 18:33
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কেন্দ্রীয় প্রকল্পে বাধা, আইনশৃঙ্খলা, অনুপ্রবেশ ও দুর্নীতি, সিঙ্গুরের সভামঞ্চ থেকে তৃণমূল (TMC) সরকারকে বিঁধতে কোনও ইস্যুই বাদ রাখলেন না প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। রাজ্যের তরুণ, কৃষক, মৎস্যজীবী এবং মা-বোনেদের স্বার্থে কাজ করতে চাইলেও তৃণমূল সরকার কেন্দ্রীয় প্রকল্প বাস্তবায়নে ইচ্ছাকৃতভাবে ‘ব্রেক’ কষছে বলে দাবি করেন তিনি (Modi In Singur)।
কেন্দ্রীয় প্রকল্পে বাধা
প্রধানমন্ত্রীর (PM Modi) অভিযোগ, মোদী বা বিজেপির সঙ্গে রাজনৈতিক বিরোধিতা থাকতেই পারে, কিন্তু তৃণমূল সরকার কার্যত শত্রুতা করছে সাধারণ মানুষের সঙ্গেই। তাঁর বক্তব্য, “তৃণমূল পশ্চিমবঙ্গের তরুণ, কৃষক, মৎস্যজীবী ও মা-বোনেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে খেলছে।”
মৎস্যজীবীদের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের চালু করা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের উদাহরণ টেনে মোদী বলেন, দেশের বিভিন্ন রাজ্য সেখানে মৎস্যজীবীদের নাম নথিভুক্ত করলেও পশ্চিমবঙ্গে সেই প্রক্রিয়ায় ইচ্ছাকৃত বাধা দেওয়া হচ্ছে। এ নিয়ে বারবার চিঠি দিলেও মুখ্যমন্ত্রী বা প্রশাসনের তরফে সহযোগিতা মেলেনি বলেও অভিযোগ তাঁর।
তৃণমূল সরকারের ‘নির্মমতা’
দিল্লির উদাহরণ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেখানে আগের সরকার কেন্দ্রীয় প্রকল্প কার্যকর হতে দেয়নি বলেই মানুষ তাদের ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিয়েছে। তাঁর দাবি, পশ্চিমবঙ্গের ভোটাররাও এখন জেগে উঠেছেন এবং তৃণমূল সরকারের ‘নির্মমতা’র জবাব দিতেই তাঁরা বিজেপিকে ক্ষমতায় আনতে স্থির করেছেন।
বাদ যায়নি একদা বামশাসিত ত্রিপুরার প্রসঙ্গও। মোদী জানান, সেখানে আগে বাম সরকার থাকাকালীন মাত্র চার শতাংশ বাড়িতে পানীয় জল পৌঁছত। বিজেপির ডবল ইঞ্জিন সরকার আসার পর তা বেড়ে হয়েছে ৮৫ শতাংশ। তাঁর দাবি, পশ্চিমবঙ্গেও বিজেপি ক্ষমতায় এলে একই পরিবর্তন হবে, যেখানে এখনও অর্ধেক মানুষের বাড়িতে জল পৌঁছয় না।
রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা
আইনশৃঙ্খলা নিয়েও তৃণমূলকে তীব্র আক্রমণ করেন প্রধানমন্ত্রী। কলেজে ধর্ষণ ও হিংসা রুখতে বিজেপিকে ক্ষমতায় আনার প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি। সন্দেশখালির মতো ঘটনা আর যাতে না ঘটে, কিংবা শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির জেরে হাজার হাজার শিক্ষক যাতে চাকরি না হারান— তার জন্যও বিজেপিকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
মোদীর অভিযোগ, মাফিয়াদের প্রশ্রয় দেওয়া হচ্ছে, সর্বত্র সিন্ডিকেট ট্যাক্স চাপানো হয়েছে, যার ফলে রাজ্যে বিনিয়োগ আসছে না। এই সিন্ডিকেট ও মাফিয়াবাদের অবসানের প্রতিশ্রুতিকেই তিনি ‘মোদীর গ্যারান্টি’ বলে তুলে ধরেন।
সীমান্ত সুরক্ষা ও অনুপ্রবেশ
রোববার সীমান্ত সুরক্ষা ও অনুপ্রবেশ প্রসঙ্গেও তৃণমূলকে কাঠগড়ায় তোলেন মোদী। তাঁর দাবি, তৃণমূল সরকার অনুপ্রবেশকারীদের সুবিধা দেয়, তাদের ভোটব্যাঙ্ক হিসেবে ব্যবহার করে এবং ভুয়ো নথি তৈরিতেও মদত দেয়। গত ১১ বছর ধরে কেন্দ্র বারবার সীমান্তে কাঁটাতার দেওয়ার জন্য জমি চাইলেও রাজ্য সরকার সহযোগিতা করেনি বলে অভিযোগ করেন তিনি। অনুপ্রবেশ সম্পূর্ণ বন্ধ করা এবং ভুয়ো নথির জোরে দেশে ঢুকে পড়া লোকজনকে ফেরত পাঠানোর কথাও জোরের সঙ্গে বলেন প্রধানমন্ত্রী।