দ্য ওয়াল ব্যুরো : কয়েক সপ্তাহ আগেই বিজেপি শাসিত দুই রাজ্য কর্নাটক ও হরিয়ানা ইঙ্গিত দিয়েছিল, লাভ জেহাদের বিরুদ্ধে তারা আইন করতে পারে। মঙ্গলবার বিজেপি শাসিত মধ্যপ্রদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নরোত্তম মিশ্র জানালেন, তাঁদের রাজ্যে লাভ জেহাদের বিরুদ্ধে আইন আসছে শীঘ্রই। সম্ভবত বিধানসভার পরবর্তী অধিবেশনেই লাভ জেহাদ ঠেকাতে বিল আসবে। সেখানে অপরাধীদের পাঁচ বছর সশ্রম কারাদণ্ডের ব্যবস্থা থাকবে।
মন্ত্রী বলেন, "লাভ জেহাদ নিয়ে মামলা হবে জামিন অযোগ্য ধারায়। অভিযুক্ত ব্যক্তি তো বটেই, সেই সঙ্গে যে লাভ জেহাদে সাহায্য করবে, তাকেও অপরাধী বলে গণ্য করা হবে।" পরে তিনি বলেন, "কেউ যদি স্বেচ্ছায় ভিন্ন ধর্মে বিবাহ করতে চান, তাঁকে এক মাস আগে জেলাশাসকের কাছে আবেদন করতে হবে।"
গত ফেব্রুয়ারিতে সংসদে কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়েছিল, চলতি আইনে লাভ জেহাদের কোনও সংজ্ঞা দেওয়া হয়নি। কোনও কেন্দ্রীয় সংস্থা লাভ জেহাদ নিয়ে মামলাও করেনি। গত ৬ নভেম্বর কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী বি এস ইয়েদুরাপ্পা বলেন, লাভ জেহাদের নামে যাতে ধর্মান্তরিত না করা হয়, সেজন্য তাঁর সরকার আইন আনতে চায়। একইদিনে হরিয়ানার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনিল ভিজ বিধানসভায় জানান, তাঁর রাজ্যের সরকারও লাভ জেহাদের বিরুদ্ধে আইন করার কথা ভাবছে। হিমাচল প্রদেশের সরকার গত বছরই এক আইন পাশ করে বলেছে, গায়ের জোরে, লোভ দেখিয়ে বা বিয়ের নাম করে কারও ধর্মান্তর করা যাবে না। গত সেপ্টেম্বরে এলাহাবাদ হাইকোর্ট বলে, বিয়ের জন্য ধর্মান্তর মেনে নেওয়া যায় না।
লাভ জেহাদ নিয়ে ইতিমধ্যে সর্বভারতীয় ক্ষেত্রে একাধিকবার বিতর্ক হয়েছে। কিছুদিন আগে শোনা যায়, জাতীয় মহিলা কমিশনের চেয়ারম্যান রেখা শর্মা মহারাষ্ট্রের রাজ্যপাল ভগৎ সিং কোশিয়ারির সঙ্গে লাভ জেহাদ নিয়ে আলোচনা করেছেন।
রেখা শর্মা রাজ্যপালকে বলেছিলেন, মহারাষ্ট্রে 'লাভ জিহাদ' বাড়ছে। ভিন্ন ধর্মের নারীপুরুষের পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে বিবাহ এবং 'লাভ জিহাদ'-এর পার্থক্যের ওপরে তিনি জোর দেন। দক্ষিণপন্থী গোষ্ঠীগুলি 'লাভ জিহাদ' বলতে মুসলিম পুরুষের সঙ্গে হিন্দু নারীর বিবাহ বোঝায়। তাদের মতে, এইভাবে কৌশলে হিন্দু নারীদের ধর্মান্তকরণ করা হয়। মহিলা কমিশন থেকে রাজ্যপালের সঙ্গে রেখা শর্মার বৈঠকের ছবি টুইট করা হয়। তাতে লেখা হয়, আমাদের চেয়ারপার্সন রেখা শর্মা মহারাষ্ট্রের রাজ্যপাল ভগৎ সিং কোশিয়ারির সঙ্গে বৈঠক করেছেন। কোভিড সেন্টারে মহিলা রোগীদের ধর্ষণ, যৌন নিগ্রহ এবং লাভ জিহাদের সংখ্যাবৃদ্ধি নিয়ে কথা হয়েছে।
এই টুইটের পরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকে বিরূপ মন্তব্য করেন। এক ব্যক্তি লেখেন, "জাতীয় মহিলা কমিশন ও তার চেয়ারপার্সন কি দয়া করে ব্যাখ্যা করবেন লাভ জিহাদ কাকে বলে? কয়েকটি কট্টরপন্থী গোষ্ঠী ওই কথাটি বলে যা বোঝাতে চায়, আপনারাও কি তাই বোঝাতে চাইছেন? যদি তাই হয়, তাহলে আপনারা কি অন্যের ব্যাপারে নাক গলানো অনুমোদন করছেন।"