দ্য ওয়াল ব্যুরো: জইশ-ই-মহম্মদ, লস্কর-ই-তৈবার মতো পাকিস্তানের মদতপুষ্ট জঙ্গি সংগঠনগুলি ফের নাকি বড়সড় হামলার ছক কষছে কাশ্মীরে! একটি সর্বভারতীয় ইংরাজি দৈনিকের দাবি, এমনই খবর পেয়েছেন ভারতীয় গোয়েন্দারা। ওই রিপোর্টে নাকি গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন, জাঁকিয়ে শীত পড়লেই ফের কাশ্মীরে হামলার ছক কষছে লস্কর ও জইশের মতো সংগঠন।
'হিন্দুস্তান টাইমস' তাদের প্রতিবেদনে পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্য দিয়েছে গোয়েন্দা রিপোর্টের ব্যাপারে। তাদের দাবি, গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন, বাহওয়ালপুরের জইশ হেড কোয়ার্টার থেকে প্রশিক্ষিত জঙ্গি নেতা উসমান আলিকে নতুন হামলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। লস্করের তরফে কাশ্মীরে আত্মঘাতী হামলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে আবু উজাইলকে। দুই সংগঠনই হামলার সময় হিসেবে আগামী শীতকে ব্যবহার করতে চায় বলে ওই রিপোর্টে নাকি উল্লেখ করা হয়েছে।
ওই রিপোর্টে এইচটি আরও বলেছে, ইতিমধ্যেই দুই জঙ্গি গোষ্ঠীর তরফে তৎপরতা শুরু হয়ে গিয়েছে। নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর প্রচুর জঙ্গিকে তারা প্রস্তুত রেখেছে অনুপ্রবেশের জন্য। ওই সংবাদ মাধ্যমের দাবিএই রিপোর্ট পেয়ে পাক সীমান্তে পাল্টা তৎপরতা শুরু করেছে ভারতীয় নিরাপত্তাবাহিনীও।
চলতি বছরের ১৪ ফেব্রুয়ারি দক্ষিণ কাশ্মীরের পুলওয়ামায় ভয়াবহ জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটেছিল। বিস্ফোরণ ঘটিয়ে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল সিআরপিএফ জওয়ানদের কনভয়। মৃত্যু হয়েছিল ৪০ জন সিআরপিএফ জওয়ানের। তারপর থেকেই উত্তপ্ত কাশ্মীর। পাল্টা পাকিস্তানের অনেকটা ভিতরে ঢুকে ভারতীয় বায়ুসেনার বিমান হানার ঘটনা কূটনৈতিক চাপানউতরকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল।
এর মধ্যেই গত অগস্টে জম্মু ও কাশ্মীর থেকে বিশেষ সাংবিধানিক মর্যাদা প্রত্যাহার করে নেয় কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকার। জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখকে দুটি পৃথক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ভাগ করে দেয় দিল্লি। এই সিদ্ধান্তে তেলে বেগুনে জ্বলে ওঠে পাকিস্তান। আন্তর্জাতিক স্তরে ভারতের বিরুদ্ধে নালিশ করাকে কার্যত রুটিনে পরিণত করে ফেলেছিল ইমরান খান প্রশাসন।
গত ৩১ অক্টোবর সরকারি ভাবে কেন্দ্র শাসিত অঞ্চল হিসেবে পথ চলা শুরু হয়েছে জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখের। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ৩৭০ ধারা কাশ্মীর আর উন্নয়নের মাঝে দেওয়াল হিসেবে দাঁড়িয়েছিল। এবার সেটা ভেঙে গেল। কাশ্মীর এখন সন্ত্রাসবাদ থেকে মুক্ত হবে।
অনেকের মতে, ভারতকে 'শিক্ষা দিতে'ই ফের হামলার ছক কষছে জঙ্গিরা। গত তিনমাসে একাধিক হিংসার ঘটনা ঘটেছে উপত্যকায়। যার সর্বশেষ নিদর্শন কুলগামে বাঙালি শ্রমিকদের হত্যা। পর্যবেক্ষকদের মতে, এই গোয়েন্দা রিপোর্ট পাওয়ার পর ভারতের কাছেও চ্যালেঞ্জ হামলা ঠেকিয়ে দেওয়া।