দ্য ওয়াল ব্যুরো : গত ফেব্রুয়ারি থেকে শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট মৈত্রীপাল শ্রীসেন ও প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমসিংহের মধ্যে ঝগড়া চলছিল। শুক্রবার আচমকা প্রধানমন্ত্রীকে বরখাস্ত করলেন প্রেসিডেন্ট। তাঁর বদলে প্রধানমন্ত্রী হলেন মৈত্রীপাল শ্রীসেনের পুরানো শত্রু মহেন্দ্র রাজাপক্ষে। শ্রীলঙ্কায় মানবাধিকার লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগ আছে তাঁর বিরুদ্ধে। প্রেসিডেন্ট এইভাবে প্রধানমন্ত্রীকে বরখাস্ত করতে পারেন কিনা, সেই নিয়ে ইতিমধ্যে প্রশ্ন তুলেছেন দেশের কয়েকজন মন্ত্রী। বিক্রমসিংহকে বরখাস্ত করা নিয়ে আগামী দিনে দ্বীপরাষ্ট্রের রাজনীতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠার সম্ভাবনা থেকে যাচ্ছে।
রাজাপক্ষে দীর্ঘ ১০ বছর শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট ছিলেন। তাঁর আমলে দেশে গৃহযুদ্ধের অবসান হয়। সেই সময়েই শ্রীলঙ্কার বাহিনী মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে বলে অভিযোগ ওঠে। পশ্চিমী দেশগুলি এই অভিযোগে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করার কথা ভাবছিল। ২০১৫ সালে শান্তি ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় আসেন মৈত্রীপাল শ্রীসেন ও রনিল বিক্রমসিংহে। মৈত্রীপাল বলেছিলেন, তিনি পরবর্তী নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হবেন না। কিন্তু পরে জানান ফের প্রার্থী হবেন। তাতে রেগে যান বিক্রমসিংহে। কারণ এর পরে প্রেসিডেন্ট হতে চেয়েছিলেন তিনি। মৈত্রীপাল গত এপ্রিল মাসে বিক্রমসিংহেকে ইমপিচ করার উদ্যোগ নেন। যদিও তা সফল হয়নি। গত সপ্তাহে ভারতকে কন্টেনার টার্মিনাল ভাড়া দেওয়া নিয়ে দুজনের কথা কাটাকাটি হয়।
শ্রীলঙ্কার অর্থমন্ত্রী মঙ্গল সমরবীর টুইটারে লিখেছেন, দেশে গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে ক্যু ঘটিয়েছেন মৈত্রীপাল। বিক্রমাসিংহে নিজে এখনও প্রতিক্রিয়া জানাননি।