
শেষ আপডেট: 17 January 2024 18:13
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভাঙড় ২ নম্বর ব্লকের বাঁশবাগানে বোমা পড়ে থাকতে দেখে কাশীপুর থানার পুলিশকে খবর দিয়েছিলেন বাসিন্দারা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ যা করল, তার জেরে পুলিশের অন্দরেই ফিরছে লালগড়, নানুরের ভয়াবহ স্মৃতি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানাচ্ছে, এদিন বোম ডিস্পোজাল টিম ছাড়াই বোমা উদ্ধার করেছে কাশীপুর থানার পুলিশ। এমনকী কর্তব্যরত সাংবাদিকদের দেখতে পেয়ে বোমা উদ্ধারের সময় এক পুলিশ কর্মী নাকি এও বলেন, ‘ভাল করে ছবি নে, মরলে টাকা পাব’!
খালি হাতে পুলিশের বোমা উদ্ধার এবং এক পুলিশ কর্মীর এমন মন্তব্য নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে পুলিশের অন্দরেই। সেই সঙ্গে তাঁদের অনেকের স্মৃতিতে ফিরছে লালগড়, নানুরের সেই ভয়াবহ স্মৃতি।
কী ঘটেছিল লালগড়, নানুরে?
২০০৬ সালের সেপ্টেম্বর। পশ্চিম মেদিনীপুরের লালগড়ের ঝিটকার জঙ্গলে সেই সময় সক্রিয় মাওবাদীরা। ঝিটকার জঙ্গলে মাইন এর খবর পেয়ে হাজির হয়েছিলেন লালগড় থানার পুলিশ কর্মীরা। কোনও ধরনের বিশেষ পোশাক ছাড়া ছেনি-হাতুড়ি নিয়ে ক্যান-মাইন নিষ্ক্রিয় করতে গিয়ে ঘটেছিল ভয়াবহ বিস্ফোরণ। বিস্ফোরণে মৃত্যু হয়েছিল বম্ব স্কোয়াডের দু’জন কর্মীর।
পুলিশের এক কর্তা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, এদিন যেভাবে সংবাদমাধ্যমের একাংশকে সঙ্গে নিয়ে পুলিশ খালি হাতে বোমা উদ্ধার করেছে, দেড় দশক আগেও ঝিটকার জঙ্গলে সেদিন মাইন উদ্ধারে পুলিশ সঙ্গী করেছিল সংবাদমাধ্যমকে। ঘটনায় ৭ জন সাংবাদিক, চিত্র সাংবাদিক-সহ ১৯ জন জখম হয়েছিলেন।
এভাবে কোনও ধরনের প্রোটেকশন ছাড়া পুলিশের মাইন উদ্ধারের ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। ভাঙড়ের ক্ষেত্রেও নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। যদি সত্যি বোমা বিস্ফোরণ ঘটতো? প্রতিক্রিয়া মেলেনি স্থানীয় থানার পুলিশের।
লালগড়ের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটেছিল তারও ৫ বছর পর। ২০১১ সালে বীরভূমের নানুরেও বোমা নিষ্ক্রিয় করার সময় বিস্ফোরণে মৃত্যু হয়েছিল জেলা গোয়েন্দা দফতরের এক কর্মীর।
ওয়াকিবহাল মহলের মতে, একের পর এক ঘটনার পরেও যে পুলিশকর্মীদের একাংশ শিক্ষা নেননি, ভাঙড়ের এদিনের ঘটনায় তার প্রমাণ।