লখিমপুরে (Lakhimpur) গাড়ি চাপা দিয়ে কৃষক হত্যা মামলায় শেষমেশ শনিবার সকালে পুলিশের কাছে হাজিরা দেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অজয় মিশ্রর ছেলে, অভিযুক্ত আশিস মিশ্র। দীর্ঘ ১২ ঘণ্টার জেরার পরে গ্রেফতার করা হয় তাঁকে। এর পর রবিবার সকালে তাঁকে বিশেষ আদালতে তোলা হলে ১৪ দিনের জন্য বিচারবিভাগীয় আদালতে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।
পাশাপাশি খোঁজ শুরু হয়েছে আশিসের এক বন্ধুর খোঁজ, যে এই ঘটনায় জড়িত বলে জানতে পেরেছে পুলিশ। সেই বন্ধু আবার লখিমপুরের প্রাক্তন সাংসদ, প্রয়াত অখিলেশ দাসের ভাইপো অঙ্কিত দাস।
ধরা পড়ার পরে আশিস পুলিশের কাছে দাবি করেছেন, ঘটনার সময়ে তিনি অনুষ্ঠানেই হাজির ছিলেন। গাড়ি নিয়ে কোথাও যাননি। তিনি বলেন, "ওই থর জিপটি আমার। আমাদের ড্রাইভার হরিওম মিশ্র গাড়ি চালাচ্ছিলেন। আমার বন্ধু এবং বিজেপি কর্মী অঙ্কিত দাস ওই গাড়ির মালিক। তিনি গাড়ি দুটি নিয়ে প্রধান অতিথিদের আনতে গিয়েছিলেন। কিন্তু তারপর তিনি কোথায় গেছেন আমি জানি না। ঘটনার পর থেকে অঙ্কিত আমার সঙ্গে আর যোগাযোগ করেননি।"
নিজের বক্তব্যের সপক্ষে একাধিক ছবি ও ভিডিও ফুটেজও পেনড্রাইভে করে নিয়ে পুলিশকে জমা দিয়েছেন আশিস। এর পর থেকেই অঙ্কিতকে খুঁজছে পুলিশ।
ইতিমধ্যেই গত রবিবারের দুর্ঘটনার একটি ভিডিও ক্লিপে দেখা গেছে, দুর্ঘটনার পরে মাথায় চোট নিয়ে ঘাতক গাড়িটি থেকে নেমে পালাচ্ছেন এক ব্যক্তি। তাঁকে বলতে শোনা গেছে, গাড়িতে আরও চার জন রয়েছেন, অঙ্কিত দাসও রয়েছেন। কিন্তু ঘটনার পর থেকে তাঁকে আর পাওয়া যায়নি। পাওয়া যায়নি অঙ্কিতের ড্রাইভার শেখর ভারতী এবং সঙ্গী সুমিত জয়সওয়ালকেও।
তদন্তকারীরা মনে করছেন, অঙ্কিত ও বাকি দু'জনের খোঁজ পেলে জেরায় অনেক কিছু জানা যেতে পারে।
গত রবিবার উত্তরপ্রদেশের লখিমপুর খেরিতে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা ছিল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অজয় কুমার মিশ্র ও উপমুখ্যমন্ত্রী কেশব মৌর্য্যের। মন্ত্রীদের আসার পথেই বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন কৃষকরা। আচমকাই কনভয় থেকে একটি কালো রঙের এসইউভি গাড়ি কৃষকদের ধাক্কা মারে। এরপরই সংঘর্ষ শুরু হয়। ঘটনায় ৪ কৃষক সহ মোট ৮ জনের মৃত্যু হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই উত্তাল হয়ে ওঠে জাতীয় রাজনীতি।