
শেষ আপডেট: 16 February 2024 13:52
দ্য ওয়াল ব্যুরো, হগলি: ছাগলের অস্বাভাবিক মৃত্যুর পড়েই সন্দেহ গিয়ে পড়েছিল ঠিকাদারের উপর। গালিগালাজও করেছিলেন। তারই জেরে গলা কেটে খুন করা হয় প্রৌঢ়াকে। পোলবা খুনে এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এল। গ্রেফতার করা হয়েছে ঠিকাদার শঙ্কর সাদাকে (৫৪)। তার বাড়ি বিহারের খাগারিয়া জেলায়।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি রাতে পোলবার সুগন্ধার একটি ইট ভাটার পাশে সার কারখানার পিছনের একটি পরিত্যক্ত চৌবাচ্চা থেকে জ্যোৎস্না জানার(৫৫) গলা কাটা মৃতদেহ উদ্ধার হয়। মহিলা ও তাঁর স্বামী ওই ইট ভাটায় থাকতেন। মহিলা ছাগল পুষতেন। অনেকগুলি ছাগল ছিল তাঁর। রোজই ছাগল চড়াতে যেতেন সার কারখানার পিছন দিকে। মাসখানেক আগে তার একটি ছাগলের অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, সার কারখানার পিছনে শ্রমিকদের থাকার মেস আছে। শ্রমিকদের উচ্ছিষ্ট খাবার খেয়ে ছাগলটির মৃত্যু হয় বলে মনে করে শ্রমিকদের দেখলেই গালিগালাজ করতেন জ্যোৎস্না। ওইদিন শঙ্কর আকণ্ঠ মদ্যপান করেছিল। মহিলা ছাগল নিয়ে যাওয়ার সময় তাকে দেখে গালিগালাজ শুরু করেন। তখনই মেস থেকে সবজি কাটার ছুরি নিয়ে এসে মহিলার গলা কেটে খুন করে পরিত্যক্ত চৌবাচ্চায় ফেলে দেয়। এরপর হাতমুখ ধুয়ে সন্ধের পর ব্যান্ডেল থেকে ট্রেন ধরে সোজা বিহারে চলে যায়।
এদিকে ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ সূত্র খুঁজতে শুরু করে। কী কারণে একজন প্রৌঢ়াকে এভাবে খুন করা হল, খুনের মোটিভ কী, খুনি কী একজন না একাধিক? এসব প্রশ্নের উত্তর পেতে ওই মেসের শ্রমিকদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। আততায়ীর হদিশ পেতে পূর্ব বর্ধমান থেকে স্নিফার ডগ নিয়ে আসা হয়। স্নিফার ডগ সেই মেসে গিয়ে রক্তের দাগ খুঁজে পায়। তারপরেই পুলিশ ওই ঘর থেকে নমুনা সংগ্রহ করে।
শুক্রবার পোলবা থানায় সাংবাদিক বৈঠক করেন হুগলি গ্রামীণ পুলিশের ডিএসপি প্রিয়ব্রত বক্সি বলেন, "ঘটনার ৭২ ঘণ্টার মধ্যেই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হল। পোলবা থানার ওসি নজরুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছিল। সার কারখানার শ্রমিকদের জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা যায় ওই কারখানায় শ্রমিক সাপ্লাই করে শঙ্কর সাদা। ঘটনার পর থেকে সে বেপাত্তা ছিল। জানা যায় স্ত্রী অসুস্থ বলে বিহারে দেশের বাড়ি চলে গিয়েছিল শঙ্কর।" ডিএসপি জানান, শঙ্করের পাঠানো শ্রমিকরা কাজ করছে না জানিয়ে কারখানার ম্যানেজার ফোন করে তাকে ডাকে। বৃহস্পতিবার সে ফিরে আসতেই তাকে গ্রেফতার করা হয়। শুক্রবার ধৃতকে চুঁচুড়া আদালতে পেশ করা হয়। পুলিশের পক্ষ থেকে সাত দিনের পুলিশ হেফাজতের আবেদন জানানো হয়েছে।