
শেষ আপডেট: 4 November 2023 19:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কাঁথির সাংসদ শিশির অধিকারীর সম্পত্তির ওঠা পড়া নিয়ে বড় প্রশ্ন তুললেন তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ। টুইটে কাঁথির সাংসদ শিশিরবাবুর সম্পত্তির বিবরণ সংক্রান্ত বেশ কিছু তথ্য তুলে ধরে কুণাল জানতে চেয়েছেন, “পরিসংখ্যান সত্য নাকি ভুল? ১০ লাখ কীভাবে ১০ কোটি টাকা হল? কীভাবে ১০ কোটি কমে ৩ কোটিতে এলো? এটা কি জাদু?”
নিজের বয়ানের সপক্ষে টুইটে নির্বাচন কমিশন এবং ভারত সরকারকে দেওয়া শিশিরবাবুর বেশ কিছু তথ্য তুলে ধরেছেন কুণাল। তাতে দাবি করা হয়েছে, ২০০৯ সালে সাংসদ হিসেবে শিশির অধিকারী নির্বাচন কমিশনকে জানিয়েছিলেন তাঁর সম্পত্তির পরিমাণ ছিল ১০ লাখ টাকার কিছু বেশি। তিন বছরের ব্যবধানে, ২০১২ সালে তখন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী থাকাকালীন ভারত সরকারকে জমা দেওয়া তথ্যে দেখা যাচ্ছে শিশিরবাবুর সম্পত্তির পরিমাণ ১০ কোটির কিছু বেশি। আবার ২০১৯ সালে লোকসভার সময় কমিশনকে জমা দেওয়া শিশিরবাবুর তথ্য অনুযায়ী তাঁর সম্পত্তির পরিমাণ ৩ কোটির কিছু বেশি।
Sisir Adhikari, MP
— Kunal Ghosh (@KunalGhoshAgain) November 4, 2023
2009- ( Election declaration) Total assets: rs 10 lacs+
Became central minister.
2012- (PM office declaration)- assets rs 10 cr+
2019- rs 3 cr+
Whether the figures are TRUE or wrong?
How 10 lacs became 10 crores?
How 10 cr came down to 3 cr?
Is it magic? pic.twitter.com/bPz0t8vnBD
কুণালের এই টুইটকে ঘিরে শোরগোল পড়ে গিয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে। কারণ, শিশিরবাবু অফিসিয়ালি এখনও তৃণমূল সাংসদ। অন্যদিকে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর বাবা।
রাজনৈতিক মহলের মতে, শুভেন্দু বিজেপিতে যাওয়ার পর থেকেই দলের সঙ্গে দূরত্ব বজায় রেখে চলেছেন শিশির অধিকারাী। এমনকী একুশের বিধানসভা ভোটে নন্দীগ্রামে মমতা-শুভেন্দুর মুখোমুখি লড়াইয়ের সময় তাঁকে নন্দীগ্রাম আন্দোলন এবং নেত্রীর ভূমিকা নিয়ে বেশ কিছু প্রশ্ন তুলতে দেখা গিয়েছিল। তখন থেকেই তৃণমূলের প্রকাশ্য কোনও কর্মসূচিতে দেখা যায়নি তাঁকে।
রেশন দুর্নীতি কাণ্ডে সম্প্রতি জ্যোতিপ্রিয় মল্লিককে গ্রেফতার করে ইডি। সাংবাদিক বৈঠক থেকে বিজেপির বিরুদ্ধে প্রতিহিংসার অভিযোগ আনার পাশাপাশি নাম না করে শুভেন্দুকে ইঙ্গিত করে বুধবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক থেকে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, হলদিয়া এবং দিঘায় সরকারি জমি কেনা বেচার বেনয়িমের অভিযোগের তদন্ত শুরু হবে। বিজেপি নেতাদের সম্পত্তি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী।
তমলুক সাংগঠনিক জেলা বিজেপির পক্ষ থেকে নন্দকুমারে " বিজয়া সম্মিলনী"র আয়োজন করা হয়। সেই অনুষ্ঠানে এদিন উপস্থিত হন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা তথা নন্দীগ্রামের বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী। মঞ্চে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, "শিক্ষা আগেই জেলে গিয়েছে, এবার খাদ্য মন্ত্রী। এদের মাথা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর সেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সব থেকে বড় চোর। তাঁকে গ্রেপ্তার করতে হবে। আসল চোরকে ধরতে হবে।"
এরপরই বৃহস্পতিবার সকাল হতেই সোশ্যাল মাধ্যমে তাঁর সর্বশেষ আয়কর রিটার্ন পোস্ট করে পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছোড়েন বিরোধী দলনেতা। তাঁর চ্যালেঞ্জ, এর বেশি ১ পয়সাও বেশি তিনি রোজগার করেছেন তা প্রমাণ করে দেখাক সরকারি গোয়েন্দা বাহিনী। তারই পরিপ্রেক্ষিতে কুণালের এই পোস্ট বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। তবে পাল্টা দিয়েছেন শিশির অধিকারীও। শনিবার বিকেলে সাংবাদিকদের সামনে তিনি বলেছেন, "কোনও জেলখাটা আসামির মন্তব্যের জবাব দেব না।"