
কুণাল ঘোষ ও শতরূপ ঘোষ।
শেষ আপডেট: 17 September 2024 11:07
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিতর্কের শুরুটা হয়েছিল তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষের 'ঘটকালি' দিয়ে! সোশ্যাল মাধ্যমে দলের তরুণ নেতা দেবাংশুর জন্য 'বৌমা' খুঁজে দিয়েছিলেন কুণাল। বর্তমানে যা কুণাল বনাম সিপিএম নেতা শতরূপ ঘোষের ফেসবুক যুদ্ধে পরিণত হয়েছে। কুণালের বিরুদ্ধে ফেসবুকে বেআইনি আচরণের অভিযোগ এনেছিলেন শতরূপ।
পাল্টা হিসেবে একটি ইঁদুরছানা হাতে নিয়ে হাসিমুখে ছবি তুলে পোস্ট করেন কুণাল ঘোষ। ক্যাপশনে লেখেন, ‘নাম রাখছি শতরূপ’। ব্যস, শতরূপই বা চুপ থাকেন কি করে!
কুণালের পোস্ট করা ছবিতে দেখা যাচ্ছে খাঁচাবন্দি একটি খরগোশকে। পাল্টা পোস্টে শতরূপ লেখেন, ‘ধন্যবাদ কুণালদা। মুক্ত ইঁদুরটির নাম শতরূপ রাখার জন্য। কৃতজ্ঞতাস্বরূপ পাশের জেলবন্দি খরগোশটির নাম রাখলাম কুণাল ঘোষ।’
কুণালও থামবার পাত্র নন। কিছু পরে তিনিও পাল্টা পোস্টে লেখেন, এসব খরগোশ, ইঁদুরকে হাতের তালুতে রাখি!
সোশ্যাল মাধ্যমে তৃণমূল-সিপিএম নেতার লড়াই এখানেই থামে নাকি আরও কিছু অপেক্ষা করে রয়েছে তা নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়েছে সব মহলে।
ঘটনার সূত্রপাত,আরজি কর কাণ্ড নিয়ে এক সংবাদমাধ্যমকে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে টলি অভিনেত্রী মৌসুমি ভট্টাচার্য কুণাল ঘোষ এবং দেবাংশু ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধেও ক্ষোভ উগড়ে দেন।
মৌসুমি বলছিলেন, 'কুণাল ঘোষ আর ওই ছেলেটা, নাম ভুলে যাই কী যেন দেবাংশু। যেদিন পাবলিকের হাতে পড়বে দেখব কী হয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও বাঁচাতে আসবেন না। বাড়িতে বসে খালি লেকচার দেয়। একদিন পাবলিকের সামনে আসতেই হবে। ডাক্তারের কাছেও যেতে হবে। অসুস্থ তো সবাই হয়। ওই দিনটা খুব ভয়ানক ওদের কাছে।'
এর পরই তাঁর বলা এই ভিডিও কুণাল তাঁর নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন। পাল্টা অভিনেত্রীর নাম করে দেবাংশুকে ট্যাগ করে লেখেন, 'হ্যাঁরে @ItsYourDev (দেবাংশুর এক্স হ্যান্ডলের নাম), তোর পাত্রী দেখার কাজটা এগোব? তোর সঙ্গে বেশ মানাবে। রাগের মধ্যেই থাকে অনুরাগের বীজ। তাছাড়া, কেমন সংস্কার মানে, স্বামীর নাম মুখে আনতে চায় না। আমার তো নিজেকে এখনই ভাসুর ভাসুর লাগছে।'
সঙ্গে সঙ্গেই দেবাংশু তাঁর এক্স হ্যান্ডলে লেখেন, 'গলা শুনেই মনে হচ্ছে বড় দজ্জাল মহিলা গো! বিনয় কোঙ্গারের মত 'লাইফ হেল' করে দেবে…'। এখানেই থেমে থাকেননি দেবাংশু ভট্টাচার্য। পাশাপাশি নিজের ফেসবুকে পোস্ট করে তৃণমূল নেতা লেখেন, 'বলছ তাহলে Kunal দা? তুমি খুঁজে দিচ্ছ মানে এত সহজে কি না বলতে পারি! কিন্তু গলা শুনে মনে হচ্ছে বড় দজ্জাল.. টিকবে কি? এ বাবা! এমা.. দাঁড়াও দাঁড়াও… বিবাহিত তো! সরি… সিরিয়ালে কাজ নেই। বদন বিগড়ে গেছে। ডাক্তারদের আন্দোলনে বিরিয়ানি খেতে গেছে। আমাদের নাম নিয়ে একটু ফুটেজও খাক।'
এরপরই ফেসবুকে বেআইনি আচরণের অভিযোগে কুণালের বিরুদ্ধে মুখ খোলেন সিপিএম নেতা শতরূপ ঘোষ। তিনি বলেন, "এঁদের নেতাদের দেখলেই বোঝা যায় তাঁদের বড় একটা অংশ এক একজন পোটেনশিয়াল মলেস্টার। সেটা এই ঘটনা থেকেও প্রমাণিত। যে কাজটা দেবাংশু-কুণাল করেছেন সেটা বেআইনি। আর সেটা দেবাংশু জানে বলেই সমালোচনার পরে পোস্ট এডিট করেছে। এরা পোটেনশিয়াল মলেস্টার বলেই যে কোনও ধর্ষণের ঘটনায় ধর্ষকদের সঙ্গে রিলেট করতে পারে, আর সেই ঝাঁঝ আন্দোলনকারীদের ওপর গিয়ে পড়ে।"
তারপর থেকেই শুরু হয়েছে টুইট যুদ্ধ।