
শেষ আপডেট: 10 July 2023 15:42
রাজ্যসভা নির্বাচনে ৬ জন প্রার্থীর নাম সোমবার ঘোষণা করেছে তৃণমূল (TMC Rajyasabha Candidate)। দেখা গেল, সেই তালিকায় দলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষের (Kunal Ghosh) নাম নেই। তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠনের রাজ্য সভাপতি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়েরও (Ritabrata Banerjee) নাম নেই।
কুণাল ও ঋতব্রত রাজ্যসভায় (Rajya Sabha) টিকিটের প্রত্যাশী ছিলেন কিনা বলা শক্ত। কারণ, তাঁরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে এ ব্যাপারে তাঁদের কোনও ইচ্ছার কথা আদৌ বলেছেন কিনা তা জানা যায়নি। আর প্রকাশ্যেও কিছু বলেননি। তবে হ্যাঁ, তৃণমূলের মধ্যে অনেকের ধারণা ছিল এঁদের দু’জনেরই আগ্রহ রয়েছে।
কুণাল (Kunal Ghosh) অতীতে তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ ছিলেন। সারদা কাণ্ডে জামিন পাওয়ার পর কুণাল যেভাবে ফিনিক্স পাখির মতো তৃণমূলের সংগঠনে নিজের অবস্থানকে ক্রমশ মজবুত করেছেন তা দেখার মতো। অনেকের ধারণা ছিল, কুণাল এবার রাজ্যসভার সদস্য পদটিও ফিরে পেতে চাইছেন।
ঋতব্রত সিপিএমের রাজ্যসভা সাংসদ ছিলেন। রাজ্যসভায় সাংসদ হিসাবে তাঁর ভূমিকা প্রশংসাও পেয়েছিল। অন্য দলের রাজনীতিক থেকে শুরু করে তৎকালীন রাজ্যসভার চেয়ারম্যান তথা উপ রাষ্ট্রপতি হামিদ আনসারির স্নেহের পাত্র ছিলেন ঋতব্রত। তৃণমূলে যোগ দেওয়ার পর নতুন দলে তাঁর উত্থানও হয়তো পড়শির ইর্ষার কারণ। অভিষেকের অত্যন্ত আস্থাভাজন শ্রমিক সংগঠনের নেতা বলে তিনি পরিচিত।
কালীঘাটের ঘনিষ্ঠ এক নেতার কথায়, এবার তিন নতুন মুখ আনার সুযোগ ছিল। তার মধ্যে শান্তা ছেত্রীর বিকল্প হিসাবে উত্তরবঙ্গ থেকে একজন নেতাকে টিকিট দিতেই হত। সেই ফর্মুলাতেই আলিপুরদুয়ারের জেলা সভাপতি তথা আদিবাসী নেতা প্রকাশ চিক বরাইককে প্রার্থী করা হয়েছে। দ্বিতীয়ত, বাংলায় তৃণমূলের জন্য বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একজন সংখ্যালঘু নেতাকে প্রার্থী করা জরুরি হয়ে পড়েছিল। তাই সামিরুল ইসলামকে প্রার্থী করা হয়েছে। আর সাকেত গোখেলকে তৃণমূলে সামিল করার আগে রাজ্যসভায় প্রার্থী (TMC Rajyasabha Candidate) করার ব্যাপারে ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছিল তৃণমূল।
এগুলোই যে একমাত্র কারণ তাও নয়। সূত্রের মতে, তৃণমূলের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এখন লোকসভা ভোটে প্রার্থী বাছাই করা। ৪২টি আসনের মধ্যে তৃণমূল গত ভোটে জিতেছিল ২৪টি আসনে। তার মধ্যে শিশির অধিকারী ও দিব্যেন্দু অধিকারী দলে থেকেও নেই। ফলে লোকসভা ভোটের জন্য এমনিতেই দলকে কম করে ২০টি নতুন মুখের সন্ধান করতেই হবে। তা ছাড়া বর্তমান সাংসদদের মধ্যে অনেককে পুনরায় প্রার্থী করতে চান না অভিষেক। কারণ, তাঁদের বিরুদ্ধে স্থানীয় স্তরে প্রতিষ্ঠান বিরোধিতা রয়েছে। এমনকি উপনির্বাচনে জিতলেও আসানসোলে শত্রুঘ্ন সিনহা ফের মনোনয়ন পাবেন কিনা সন্দেহ রয়েছে।
প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে তৃণমূলের সমস্যাটা কতটা গভীর তা সামিরুল ইসলামকে মনোনয়ন দেওয়া দেখেই বোঝা যেতে পারে। রসায়নের অধ্যাপক সামিরুল সরাসরি তৃণমূল করতেন না। তিনি ছিলেন সমাজকর্মী। কিন্তু দলের মধ্যে কোনও উপযুক্ত সংখ্যালঘু মুখ খুঁজে পাননি মমতা-অভিষেক। লোকসভা ভোটে তফসিলি জাতির জন্য সংরক্ষিত আসনে প্রার্থী বাছাই করার ক্ষেত্রে একই রকম চাপ থাকবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
তৃণমূল শীর্ষ সূত্রের মতে, কুণাল ও ঋতব্রতকে লোকসভা ভোটে প্রার্থী করা হলে বিস্ময়ের কারণ থাকবে না। কুণালকে তমলুক সাংগঠনিক জেলায় পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব দিয়ে রেখেছেন অভিষেক। সপ্তাহের অধিকাংশ দিন সেখানেই পড়ে থাকছেন কুণাল। গোটা পঞ্চায়েত ভোটে নন্দীগ্রাম সহ তমুলকের বিস্তীর্ণ জায়গায় সংগঠনের বিষয়আশয় দেখেছেন তিনি। ঋতব্রতও পঞ্চায়েতের প্রচারে ব্যস্ত ছিলেন। একদা সংসদের উচ্চকক্ষের এই দুই প্রতিনিধিকে এবার হয়তো নিম্নকক্ষের জনপ্রতিনিধি হয়ে ওঠার লড়াইয়ে নামিয়ে দিতে পারেন মমতা-অভিষেক। আগামী দিনে তা ক্রমশ পরিষ্কার হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: ‘দিদি মোদীর সেটিং আছে, খোকাবাবু তুমি কিচ্ছু জানো না’ শুভেন্দুকে খোঁচা অধীরের