
শেষ আপডেট: 1 May 2025 12:40
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতের সংবিধানে 'সেকুলার' (Secular) বা 'ধর্মনিরপেক্ষ' শব্দটি ভবিষ্যতে থাকবে কিনা, এক দশকের লাগাতার বিরোধিতায় তা নিয়ে খুব সফল ভাবে জনমনে একটি সংশয় সৃষ্টি করতে পেরেছে বিজেপি (BJP)। যদি বিজেপি ২০২৪-এর লোকসভা ভোটে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেত, তাহলে সংবিধান থেকে ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ শব্দটি মুছে দিতেও পারত। যদিও সেটা হয়নি।
হিন্দুত্ববাদীদের বক্তব্য, এই শব্দটি অ-ভারতীয়, বিদেশ থেকে আমদানি করা। আরএসএস-এর একটানা ৩৩ বছরের সরসঙ্ঘচালক, এমএস গোলওয়ালকরও এমনই মত দিয়েছিলেন তাঁর লেখাপত্রে। এটা ঠিক যে ভারতের সংবিধানে গোড়ার দিকে 'সেকুলার' শব্দটি ছিল না। ১৯৭৬ সালে জরুরি অবস্থার সময় সংবিধানের ৪২তম সংশোধনীর মাধ্যমে ইন্দিরা গান্ধী সংবিধানের প্রস্তাবনায় 'সোশ্যালিস্ট'-এর সঙ্গে 'সেকুলার' শব্দটিও যুক্ত করেছিলেন। সম্প্রতি হিন্দু-মুসলমান নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে এই শব্দের বাড়বাড়ন্ত যথেষ্ট।
এবার 'সেকুলার' বলতে আসলে ঠিক কী বোঝায় সেই ব্যাখ্যা দিলেন তৃণমূলের কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh)। যদিও নিজে আলাদা করে কিছু বলেননি। বরং বুধবার কাঁথিতে যে হিন্দু সনাতনী সভা ছিল, সেখানে কার্তিক মহারাজের (Kartik Maharaj) খানিকটা ভাষণের ভিডিও পোস্ট করে ধর্মনিরপেক্ষতার সংজ্ঞা দিয়েছেন কুণাল।
ওই ভিডিওতে ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘের সন্ন্যাসী স্বামী প্রদীপ্তানন্দ বা কার্তিক মহারাজকে বলতে শোনা যায়, "আমরা সব জায়গায় দেখেছি আমাদের সনাতন হিন্দু ধর্মের মানুষ মন্দিরে গেলে মন্দিরে যাওয়ার নাম নেই আগে খাবার খেতে বসে যায়। আরে মুসলমানদের কাছে শিক্ষা নিন। এক মাস একটু জল পর্যন্ত খায় না। আমরা এরকম দুর্দিনে এত বড় আয়োজন (পড়ুন সনাতনী সভা) করেছে, এত অর্থ ব্যয় করে আমরা সবাই চলে যাচ্ছি খাওয়ার জন্য? আমরা কি খাবার পাই না? প্রসাদ পাই না? লজ্জা লাগছে আমার নিজেকে বাঙালি হিন্দু হিসেবে পরিচয় দিতে।"
স্বাভাবিকভাবেই কার্তিক মহারাজের এহেন ক্ষোভ নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে। সুযোগ বুঝে কুণালও ভিডিও পোস্ট করতে দেরি করেননি। সঙ্গে বিজেপির অমিত মালব্যের নাম উল্লেখ করে তিনি লিখেছেন, "দয়া করে কার্তিক মহারাজের কথাগুলো শুনুন। তিনি মুসলিমদের থেকে শিক্ষা নেওয়ার কথা বলছেন। যেহেতু সভায় কোনও লোকজন নেই।"
শেষে কুণাল বোঝালেন, "একেই বলে সেকুলারিজম। আমাদের সকলের উচিত অন্য ধর্মের মানুষকে সম্মান করা। আশা করি আপনি এই বক্তব্য সমর্থন করবেন।"