.webp)
শেষ আপডেট: 3 January 2024 18:04
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সংক্রান্তির আগে গ্রাম মফস্বলে যখন আরেকটু ঠান্ডা ঠান্ডা পড়েছে, তখন বলতে গেলে পরিবেশ গরম রেখেছে তৃণমূল। গোটা ব্যাপারটার মধ্যে বাংলায় শাসক দলের অভ্যন্তরীণ রসায়ন জড়িয়ে রয়েছে। কিন্তু তা নিয়েই ব্যাপারটা এখন বেশ হাতে গরম।
এবার ‘অর্জুন বনাম কুণাল’ পর্ব শুরু হল। ব্যারাকপুরের সাংসদ অর্জুন সিং বুধবার বলেছেন, “যাঁরা দলের বিরুদ্ধে কথা বলছেন, তাঁদের নিরাপত্তা তুলে নেওয়া হোক”। অর্জুনের মতে, তাহলেই সব ঠান্ডা হয়ে যাবে।
অর্জুনের এ কথা মাটিতে পড়তে পারেনি। শূন্যে থাকতে থাকতেই ব্যাটে-বলে করে মাঠের বাইরে পাঠানো চেষ্টা করেছেন দলীয় মুখপাত্র কুণাল ঘোষ। তাঁর কথায়, “ওনাকে তৃণমূল নিয়ে বেশি দরদ দেখাতে হবে না। গত লোকসভা ভোটের আগে যখন দল ছেড়ে গিয়েছিলেন, তখন দরদ কোথায় ছিল?” কুণাল আরও বলেন, “দলের ব্যাপারটা উনি দলকে বুঝে নিতে দিন, অর্জুন সিং বরং নিজের এলাকা সামলান।”
অর্জুন সিং উনিশের লোকসভা ভোটে জোড়াফুলের টিকিট না পেয়ে পদ্মফুলে গিয়েছিলেন। সেবার জিতেছিলেন। কিন্তু একুশের বিধানসভা ভোটে ব্যারাকপুর লোকসভা কেন্দ্রের মধ্যে ৭টি বিধানসভা আসনে ৬টিতেই হেরে যায় বিজেপি। সেই থেকে অমিত শাহরাও অর্জুনকে কদর করা কমিয়ে দেন। শোনা যায় একদিন সংসদের সেন্ট্রাল হলে একা একা বসেছিলেন অর্জুন। পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন তৃণমূলের এক রাজ্যসভার নেতা। তিনি ব্যারাকপুরের সাংসদকে দেখে বলেন, কী অর্জুন, কে একা বসে আছো যে? শুনে অর্জুন বলেন, আর ভাল লাগছে না। তখন তৃণমূলের সাংসদটি বলেন, ঘর ওয়াপসির কথা ভাববে কি? বলো তো কথা বলছি।
তৃণমূলের ওই সাংসদই ঘটকালি করেন। তার পর ফের তৃণমূলে ফেরেন অর্জুন। তবে তাঁর ছেলে পবন সিং বিজেপির বিধায়ক হিসাবেই থেকে গিয়েছেন। শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে ভাল সম্পর্ক রেখে চলেন তিনি। বিজেপি জাতীয় স্তরের নেতাদের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখেন।
এদিকে অর্জুন তৃণমূলে ফিরে এলেও তেলেজলে আর পুরোপুরি মিশ খাচ্ছে না। গত মাস খানেক ধরে জগদ্দলের তৃণমূল বিধায়ক সোমনাথ শ্যাম উঠতে বসতে অর্জুনের সমালোচনা করছেন। এমনকি এও বলছেন, অর্জুন জোড়াফুলে থেকে পদ্মফুলেও একটা সুতো বেঁধে রেখেছেন। সোমনাথকে রাজ্য নেতারা বকে ঝকেও থামাতে পারছেন না।
হতে পারে এই পরিস্থিতিতে এদিন অর্জুন দল বিরোধীদের নিরাপত্তা তুলে নেওয়ার কথা বলেছেন। তা নিয়েই প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন কুণাল ঘোষ। অনেকের মতে, তৃণমূলের অন্দরমহল এখন ছুঁইমুইয়ের (লজ্জাবতী) মতো হয়ে আছে। খুবই স্পর্শকাতর। কেউ কিছু বললেই অন্য একজন খ্যাক করে উঠছেন। যা নিয়ে জমজমাট হয়ে আছে বাংলার রাজনীতি।