
শেষ আপডেট: 1 March 2024 00:12
দ্য ওয়াল ব্যুরো: লোকসভা ভোটে আসছে। মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহে দিনক্ষণ ঘোষণা হয়ে যাবে। তার আগে উত্তর কলকাতায় স্থানীয় সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে যেন দলের মধ্যেই অসন্তোষের পাহাড় তৈরি হয়েছে।
একে তো বয়স বিতর্কের মধ্যে রয়েছেন সুদীপ। ৭০ বছরের বেশি বয়সী দলের কোনও নেতাকে লোকসভায় প্রার্থী করার পক্ষে নন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তার উপর সুদীপের কার্যকারিতা নিয়ে উত্তর কলকাতার নেতারাই লাগাতার প্রশ্ন তুলছেন।
বৃহস্পতিবার সর্বশেষ বোমা ফাটিয়েছেন কুণাল ঘোষ। এদিন রাত সওয়া ৯টা নাগাদ টুইট করে কুণাল লিখেছেন, “নেতা অযোগ্য গ্রুপবাজ স্বার্থপর। সারাবছর ছ্যাঁচড়ামি করবে আর ভোটের মুখে দিদি, অভিষেক এবং দলের প্রতি কর্মীদের আবেগের উপর ভর করে জিতে যাবে, ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধি করবে, সেটা বারবার হতে পারে না।”
ণাল কারও নাম করেননি। তবে তাঁর ঘনিষ্ঠজনেরা বলছেন, ‘গত সাত-দশদিনে কুণালের কানে বেশ কিছু কথা এসেছে। সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় কিছু কথা বলে বেড়াচ্ছেন। দাদা চুপ করে থাকবেন না’।
এ ব্যাপারে কুণালকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “কার উদ্দেশে বলেছি তা এখনই বলব না। পড়েছে কথা সবার মাঝে, যার উদ্দেশে কথা তার গায়ে ঠিক বাজবেই। দলের লোকেরও বুঝতে পারবে। বাকি ঠিক সময়ে বলব।”
শাসক দলের মধ্যে কুণাল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আস্থাভাজন বলে পরিচিত। ফলে তাঁর এই টুইট নিয়ে দলের মধ্যে তো বটেই রাজ্য রাজনীতিতেও কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
এর আগে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে খোলাখুলি সমালোচনা করেছেন বরানগরের বিধায়ক তথা উত্তর কলকাতার বহুদিনের দাপুটে নেতা তাপস রায়। এমনকি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতে দলের এক ঘরোয়া আড্ডায় তাপস রায় পষ্টাপষ্টি জানিয়ে দেন, উত্তর কলকাতা লোকসভা আসনে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফের প্রার্থী করা হলে তিনি সেখানে কোনও প্রচার করবেন না। কারণ, ‘ওই লোকটা’ না দলের হোমে লাগে না যজ্ঞে। শুধু তা নয়, সুদীপ দলের স্বার্থ না দেখে দিল্লিতে বিজেপিকে তোয়াজ করে চলে বলে তাপসের অভিযোগ। তাঁর কথায়, “বাংলায় ইডি-সিবিআই যখন তৃণমূলের বিরুদ্ধে প্রতিহিংসার রাজনীতি করছে, তখন দলেরই এক সাংসদ প্রধানমন্ত্রী মোদীর সঙ্গে আদিখ্যেতা করছেন। দলের কর্মীদের তা সহ্য হবে কেন?”
সুদীপ অবশ্য প্রতিক্রিয়ায় বারবারই একটা চটুল হিন্দি কথা বলেছেন—‘হাতি চলে বাজার..।’
উত্তর কলকাতায় দীর্ঘদিনের সাংসদ হলেন সুদীপ। পর্যবেক্ষকদের অনেকের মতে, তাঁর বিরুদ্ধে একটা স্বাভাবিক প্রতিষ্ঠান বিরোধিতা রয়েছে। যেটা কালের নিয়মে হয়। কিন্তু তার উপর দলের মধ্যে থেকেই তাঁর বিরুদ্ধে এই অসন্তোষ শুভ লক্ষ্ণণ নয়। বিশেষ করে সেই অসন্তোষ এখন আর চাপা নেই। প্রকাশ্যেই যা নয় তাই বলছেন গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা নেতারা।