
শেষ আপডেট: 4 March 2024 13:33
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিভিন্ন বিষয় নিয়ে অনেকদিন ধরেই দলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ জমেছিল। কিন্তু তৃণমূল বিধায়ক তাপস রায়ের ক্ষোভের আঁচ যে বাড়তে বাড়তে চরমে পৌঁছেছে তা রবিবার কানাঘুষোয় শোনা যায়। তৃণমূল আর তিনি করবেন না, সোমবার দুপুরেই বিধানসভায় গিয়ে ইস্তফা দেবেন, রবিবাসরীয় দুপুরে এমনটাই রটেছিল। দলের সংকট সামলাতে সোমবার সাতসকালে তাপস রায়ের বাড়িতে হাজির হন ব্রাত্য বসু এবং কুণাল ঘোষ।
এরপরই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তাপস রায়ের গলায় ঝরে পড়ে একরাশ অভিমান। শুধু তাই নয়, উপস্থিত সাংবাদিকদের জানান, তাঁর বাড়িতে থাকাকালীনই কুণালের কাছে সুব্রত বক্সীর শো কজ নোটিস এসেছে। যদিও কুণালকে যে দল শো কজ করতে চলেছে তা শনিবার রাত থেকেই জল্পনায় ছিল।
বাড়িতে ইডি হানা এবং সেই ঘটনা নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সহ দলের নীরবতা, দুর্নীতি ইত্যাদি বিভিন্ন বিষয়ে বলার মাঝেই তাপসবাবু বলে ওঠেন, “ব্রাত্য, কুণাল আমায় ভালোবাসে। ওঁরা এসেছিল। কিন্তু অবাক হয়ে গেলাম কুণাল যখন আমার সিদ্ধান্ত পুর্নবিবেচনার জন্য এসেছে, তখনই নাকি ওঁর কাছে সুব্রিত বক্সীর শো কজ নোটিস আসে। এই তো দল..”
বৃহস্পতিবার এক্স হ্যান্ডেলে নাম না করে প্রথমবার উত্তর কলকাতার সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে বোমা ফাটান কুণাল ঘোষ। এর ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই সুদীপকে ‘রোজভ্যালির দালাল’ থেকে ‘ধেড়ে শাহজাহান’, কোনও কিছু বলতেই ছাড়েননি তৃণমূলের প্রাক্তন মুখপাত্র। সেদিন কুণালের কথায় পরোক্ষভাবে সায়ও দিয়েছিলেন তাপস রায়। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, কুণাল এবং তাপস রায় উভয়ের ক্ষোভই রয়েছে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে।
শুক্রবারই কুণাল তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক ও মুখপাত্র পদ থেকে ইস্তফা দেন। শনিবার মুখপাত্র পদে কুণাল ঘোষের ইস্তফা গৃহীতও হয়েছে। এরপর তাঁকে যে শোকজ নোটিস পাঠাতে চলেছে দল সে খবরও তৃণমূল সূত্রে পাওয়া গিয়েছিল। কাকতালীয়ভাবে তৃণমূলের আরেক বিক্ষুদ্ধ নেতা তাপস রায়কে দলত্যাগ না করার অনুরোধ করতে গিয়েই দলের শো কজ নোটিস এল কুণালের কাছে!