দ্য ওয়াল ব্যুরো: (Kali Pujo) 'শেষ মুহূর্তে যে অর্ডার ঢুকেছে সেই কাজই হচ্ছে, বাকি ঠাকুর তৈরির কাজ শেষ', হাতের কাজ মিটিয়ে রোদে বসে কারিগরদের কাজ তদারক করতে করতে জানালেন শিল্পী নিলাম পাল। কোনও স্টুডিওতে চলছে এখনও মাটির কাজ, কোনওটিতে রং করার পর্ব, কোথাও আবার সাজ-পোশাক পরানোর কাজ। বেশিরভাগ স্টুডিওতেই ঠাকুর প্রায় তৈরি। অপেক্ষা শুধু মণ্ডপে যাওয়ার।
হাতে বাকি আর দিন কয়েক। সকাল থেকে রাত অবধি তাই কাজ চলছে কুমোরটুলিতে (Kumortuli)। দুপুরে শুধু খাওয়ার পরে খানিক বিশ্রাম। শেষ মুহূর্তে কুমোরটুলির অধিকাংশ গোলারই একই গল্প। রবিবার থেকেই বেশিরভাগ কালী ঠাকুরের যাত্রা শুরু হবে মণ্ডপের দিকে। তাই সেইসব মূর্তির কাজই আগে শেষ করার ব্যস্ততা। সঙ্গে সঙ্গে নতুন অর্ডারের মূর্তির কাজও চলছে।
উত্তর কলকাতার রবীন্দ্র সরণির বিখ্যাত জায়গা কুমোরটুলি ঘুরলেই চোখে পড়বে বিভিন্ন কালী ঠাকুরের থরে থরে সাজানোর চিত্র। গোলা ভর্তি শুধু নানা রঙের, নানা রূপের কালী। শ্যামা কালী, দক্ষিনেশ্বরী কালী, ধূমা কালী নানান রূপে মা ধরা দিয়েছে কলকাতার এই কুমোরপাড়ায়।
চোখে দেখেই বোঝা যায় ধাক্কা সামলে ভালোই অর্ডার ঢুকেছে কুমোরটুলিতে। ২০২০ সালের মতো আক্ষেপ নেই শিল্পীদের গলাতেও। তুলনামূলক ভালো কাজ হওয়ায় খুশি তাঁরাও। "আগের বছরের থেকে এবার অনেক ভালো। আগের বছর যেমন খদ্দের-পত্তর ছিল না, বিক্রি হয়নি, সেই তুলনায় এবছর ভালো অর্ডার এসেছে", জানালেন এক শিল্পী।
আরও পড়ুন:
বাজি ফাটানোয় সার্বিক নিষেধাজ্ঞায় জনমনে আছে খানিক আফসোসের সুরও
শিল্পীদের খুশি হওয়ার আরও একটি কারণ হল বড় ও মাঝারি কালী ঠাকুরের অর্ডার আসায়। আগের বছর বড় কালীর অর্ডার ছিল না বললেই চলে। এবার সেই খরা কাটিয়ে বড় কালীর চাহিদা বেড়েছে ভালোই। নিলামবাবুর কথায়, "এবার বড় কালীর খদ্দের এসেছে। আগেরবার যেমন শুধু ছোট কালী বিক্রি হয়েছিল, এবছর সে তুলনায় বড় কালীর অর্ডার বেশি আসছে।"
কথায় নয়, কুমোরটুলির চিত্রটাও তাই বলছে। সব গোলার সামনেই দাঁড়িয়ে আছে বড় বড় কালী মূর্তি। কারোর উচ্চতা ৮ ফুট, তো কারোর ১০। ষোলো-সতেরো ফুটের কালীও তৈরি হচ্ছে কুমোরপাড়ার গোলায়। মিন্টু পালের স্টুডিও সামনেই দেখা মিলল এমন একটি বড় কালী মূর্তি। ১৬ ফুটের কালীর মাটির কাজ শেষ, রঙ চড়বে এবার।

শিল্পীর কথায়, "গত বছর ১০-১২ ফুটের কালীর সেইরকম চাহিদা একদমই ছিল না। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে এবছর বড় কালী ঠাকুরের অর্ডার ভালোই এসেছে।"
তবে কি লাভ হচ্ছে তেমন? "এবছর সেভাবে লাভের কথা বলতে পারব না। গতবছর যে হারে দাম নেমে গিয়েছিল, সে হারে এবছর অত দাম নামেনি ঠিকই তবে ২০১৯-এর দাম পাচ্ছি না। আগেরবার মতো বাজার নাহলে লাভের পরিমাণটা কমই।' বললেন আর এক শিল্পী।
কালী ঠাকুরের বাজার ভালো হওয়ায় কুমোরটুলির তরুণ শিল্পী অভিলাস পালের গলাতেও খুশির ছোঁয়া। বাবার সঙ্গে ঠাকুর তৈরির কাজ করেন তিনি। পাশাপাশি আর্ট কলেজ থেকে স্নাতকোত্তর পাশ করে রবীন্দ্র সরণির বুকে খুলেছেন নিজের একটি আর্ট গ্যালারি। সবসময় অভিনবত্ব কিছু করার তাগিদ তাঁর। কিন্তু মরসুমে দুর্গা-কালী তৈরির কাজেই বাবার হাতে সাহায্য করেন তিনি। তাঁর কথাতেও এবার ধরা পড়ল বাজারের চাহিদা বৃদ্ধির গল্প।

কুমোরটুলি মৃৎশিল্প সংস্কৃতি সমিতির যুগ্ম সম্পাদক বাবু পাল জানান, "আটফুট-নয়ফুটের কালীর চাহিদা বেশি। ৫-৬ ফুটের কালী আছে এখনও। বড় কালীর চাহিদা বেশি আগের বছরের তুলনায়। এখনও পর্যন্ত যা দেখা যাচ্ছে, এবার কালীর বাজার ভালোই যাবে।"
কলকাতা ও তাঁর পার্শ্ববর্তী এলাকার মণ্ডপেও কালী যায় এই কুমোরটুলি থেকে। ইতিমধ্যেই চলে এসেছেন প্রতিমা বাহকেরা। বাজার ভালো হওয়ায় খুশি মনে শেষ মুহূর্তের কাজে ব্যস্ত কুমোরটুলি।
পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকা 'সুখপাঠ'