
ধৃত দুই মহিলা
শেষ আপডেট: 26 February 2025 14:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মধ্যমগ্রামের বীরেশপল্লীর বাসিন্দা কুমোরটুলি কাণ্ডে (Trolley Murder Case) ধৃত ফাল্গুনী এবং আরতি ঘোষ। খুনের পর কাটা দেহ ট্রলিব্যাগে ভরে তাঁরা বেরিয়েছিলেন কলকাতা যাওয়ার জন্য। প্রথমে একটি ভ্যান ভাড়া করেছিলেন তাঁরা। সেই ভ্যানচালককে জিজ্ঞাসাবাদ করে বেশ কিছু তথ্য জেনেছে পুলিশ (Kolkata Police)। ওই চালক জানিয়েছেন, দুজনে দোলতলায় যাওয়ার জন্য বলেছিলেন। এর জন্য ১৩০ টাকা ভাড়া দিয়েছিলেন। পুলিশ জানতে চায়, তাঁদের কাছে ভারী ব্যাগ থাকায় তাঁর সন্দেহ হয়েছিল কিনা। ভ্যানচালক বলেন, অস্বাভাবিক কিছু নজরে আসেনি।
এরপরে দোলতলা থেকে কুমোরটুলি যাওয়ার জন্য হলুদ ট্যাক্সি ভাড়া করেছিলেন ফাল্গুনীরা। ওই ট্যাক্সিচালককেও জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। তিনি জানিয়েছেন, কুমোরটুলি ঘাট পর্যন্ত যাওয়ার জন্য ৬০০ টাকা ভাড়া হয়েছিল। তবে নামার সময়ে তাঁকে ১০০ টাকা আরও বেশি দেন তাঁরা। তবে ভারী ট্রলিব্যাগ নিয়ে সন্দেহ হওয়ায় তিনি দুজনকে প্রশ্ন করেছিলেন বলে জানান ট্যাক্সিচালক। উত্তরে মা-মেয়ে নাকি তাঁকে জানিয়েছিলেন, ব্যাগে বাসনপত্র, জামাকাপড় আর খাবার ছিল। গাড়ির মধ্যেও নাকি শুধু খাবার নিয়ে আলোচনা করেছিলেন তাঁরা।
মঙ্গলবার কলকাতা পুলিশ কমিশনার মনোজ ভার্মা (Manoj Verma) সাংবাদিক বৈঠক করে জানিয়েছিলেন মধ্যমগ্রামের ঘটনার পুনর্নির্মাণ করা হবে। বারাসত পুলিশের সঙ্গে মিলে কাজ করবে কলকাতা পুলিশ। সেই প্রেক্ষিতে বুধবারই এই ঘটনা অন্যতম ধৃত ফাল্গুনীকে নিয়ে নর্থ পোর্ট থানার পুলিশ ফরেনসিক আধিকারিকদের সঙ্গে নিয়ে মধ্যমগ্রামে যান। যে বাড়িতে তাঁরা ভাড়া থাকতেন সেই বাড়ির পাশের পরিত্যক্ত জমি থেকে উদ্ধার করা হয়েছে খুনে ব্যবহৃত সেই ইট।
ফাল্গুনী পুলিশকে জানিয়েছেন, মাথায় ইট মেরে তিনি খুন করেন তাঁরা পিসিশাশুড়িকে। সেই ইটের পাশাপাশি আরও বেশ কিছু জিনিস ঘটনাস্থল এবং আশপাশ থেকে বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। তার মধ্যে রয়েছে ধৃতদের মোবাইল, ভোটার কার্ড, আধার কার্ড এবং ভ্যানিটি ব্যাগ। তবে যে অস্ত্র দিয়ে পা কাটা হয়েছিল সেটা উদ্ধার হয়নি। এই কাজে ফাল্গুনীদের কেউ সাহায্য করেছিলেন নাকি তাঁরা নিজেরাই এই কাজ করেছেন, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
এখন প্রশ্ন, এত জায়গা থাকতে ঝুঁকি নিয়ে কুমোরটুলিতেই কেন এলেন মা-মেয়ে? লালবাজার সূত্রে খবর, পুলিশ জানতে পেরেছে আরতি ঘোষের স্বামী অর্থাৎ ফাল্গুনীর বাবা কুমোরটুলি অঞ্চলে থাকতেন এক সময়ে। গঙ্গার ঘাট এলাকা, আহিরীটোলা অঞ্চলে স্বাভাবিকভাবেই যাতায়াত ছিল মা-মেয়ের। এক্ষেত্রে অনুমান, ওই অঞ্চলের ওলি-গলি ভালমতোই চিনতেন দুজন। তাই ট্রলিব্যাগে মৃতদেহ ভরে কোথায় ফেললে কেউ টের পাবে না, তা আন্দাজ করেছিলেন তারা। যদিও শুধুমাত্র এই কারণেই মধ্যমগ্রাম থেকে এতদূর তারা এসেছিলেন কিনা, এখনই নিশ্চিত হতে পারছে না পুলিশ।