
শেষ আপডেট: 23 October 2023 12:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: অষ্টমীতে বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী পুজো মণ্ডপ এবং অনেক বনেদি বাড়িতে কুমারী পুজোর প্রচলন আছে।রীতি মেনে বর্ধমানের অধিষ্ঠাত্রী দেবী সর্বমঙ্গলা মন্দিরে কুমারী পুজো হয় নবমীতে।
ন'জন কুমারীকে দেবী দুর্গার নয় রূপে পুজো করা হয় এই মন্দিরে। ১৩ বছর পর্যন্ত বয়সের নাবালিকাদের দেবী দুর্গার বিভিন্ন রূপে পুজো করার নিয়ম সর্বমঙ্গলা মন্দিরে। দেবী এখানে অষ্টাদশভুজা। বয়সের প্রকারভেদ অনুসারে উমা, মালিনী, কুজ্জ্বিকা, সুভাগা, কালসন্দর্ভা সহ দেবীর ন'টি রূপে এখানে কুমারী পুজো করার চল।
পূর্ব বর্ধমানের সবচেয়ে প্রাচীন আর জাগ্রত বলে পরিচিতি দেবী সর্বমঙ্গলা মন্দির। রাজা তেজচন্দের আমলে এই মন্দির নির্মাণ হয়েছিল। মন্দির ঘিরে অনেক গল্পকথা আছে। চুনুরী বাড়ির মেয়েরা নাকি দেবীর পাষাণপ্রতিমায় গুগলি থেতো করতেন। স্বপ্নাদেশ পেয়ে দেবীকে এই প্রাচীন মন্দিরে প্রতিষ্ঠা করা হয়। দেবী দুর্গা এখানে সর্বমঙ্গলা রূপে পুজিতা। সারাবছর বিরাজ করেন তিনি।
পুজোর দিনগুলোয় ঐতিহ্য মেনে চলা হয় অক্ষরে অক্ষরে। নিয়মনিষ্ঠায় কোনও নড়চড় হয় না। যেহেতু সর্বমঙ্গলা মন্দিরে নবরাত্রির পুজো হয়, তাই এখানে নবমীতেই কুমারী পুজো হয়ে আসছে বহু বছর ধরে। নবকুমারী পুজো দেখতে প্রতিবছর সর্বমঙ্গলা মন্দিরে বহু মানুষের সমাগম হয়।
প্রথা মেনে প্রতিপদে ঘটস্থাপন হয় সর্বমঙ্গলা মন্দিরে। কার্যত সেইদিন থেকেই পুজোর ঢাকে কাঠি পড়ে বর্ধমানে। প্রথা মেনে প্রতিপদে রাজাদের খনন করা কৃষ্ণসায়র থেকে জল ভরা হয় ঘটে। ঘটস্থাপনের মাধ্যমে কার্যত গোটা রাঢ়বঙ্গে দুর্গাপুজো শুরু হয়। বর্ধমানের রাজারা জন্মসূত্রে ছিলেন পাঞ্জাবী। পরে বধূ হিসেবে নানা রাজ্যের মেয়েরা এসেছেন পরিবারে। নানা সংস্কৃতি, লোকাচারের মিশেল হয়েছে এখানে। প্রতিবার প্রতিপদে শুরু হয় রাঢ়-জননী সর্বমঙ্গলার পুজো। কৃষ্ণসায়র থেকে আচার মেনে জল ভরা হয়। এরপর হয় ঘটস্থাপন। পুজো চলে নবমী অর্থাৎ নবরাত্রি পর্যন্ত।
মন্দিরের পুরোহিত অরুণকুমার ভট্টাচার্য জানান, প্রথা মেনে নবমীর দিন নব কুমারী পুজোর আয়োজন করা হয়। পুজোর চারদিন ষোড়শোপচারে দেবী আরাধনা হয় সর্বমঙ্গলা মন্দিরে। আগে মহিষ ও পাঁঠা বলি হত। এখন বলি বন্ধ। আগে সন্ধিপুজোর মহালগ্নে কামান দাগা হত। ১৯৯৭ এ বিস্ফোরণের পর থেকে বন্ধ হয়ে যায় সেই প্রথা। তবে দেবী আরাধনা ঘিরে ভক্তদের আবেগ কোনও ভাটা পড়েনি।