
শেষ আপডেট: 28 August 2023 18:40
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মাত্র ২৪ঘণ্টা। তার মধ্যেই তরতাজা দুটো প্রাণ চলে গেল। চলে গেল বলা ভুল, প্রত্যাশা আর বাস্তবের মধ্যে যে সুবিশাল ফারাক, তা যেন হঠাৎই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল। তাই পরীক্ষা দিয়ে আসার পরই পরপর আত্মহত্যা করল রাজস্থানের কোটার দুই পড়ুয়া (Kota suicide)।
মহারাষ্ট্রের বাসিন্দা ১৭ বছরের আবিষ্কার সাংবাজি কাসলে এবং বিহার থেকে আসা ১৮ বছরের আদর্শ রাজ, দুজনেই কোটায় কোচিং সেন্টারে পড়তে এসেছিলেন। রবিবার দুজনেই আত্মহত্যা করেছেন। আবিষ্কার কোচিং সেন্টারের ৬ তলা থেকে ঝাঁপ দিয়ে নিজেকে শেষ করে দিয়েছিলেন। আর আদর্শ ভাড়াবাড়ির ঘরের ভিতর গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেন।
২০২৩ সালে এই নিয়ে এখনও পর্যন্ত ২৩ জন পড়ুয়া আত্মহত্যা করেছেন। বিভিন্ন বছরের নিরিখে যা সর্বাধিক। ২০২২ সালে এই সংখ্যাটা ছিল ১৫। তবে সবচেয়ে অভিশপ্ত মাস ছিল সেই বছরের ডিসেম্বর। ওই মাসে একদিনে কোটায় পড়তে আসা ৩ জন আত্মহত্যা করেছিলেন। তারপর থেকে এখনও পর্যন্ত এই মৃত্যুমিছিল রুখতে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা আটকাতে সিলিং ফ্যানে স্প্রিং লাগানো হয়েছে (Kota spring fan)। বারান্দা কিংবা ছাদ থেকে ঝাঁপ দেওয়া রুখতে লোহার জাল লাগানো হচ্ছে।
কিন্তু তা সত্ত্বেও যত দিন যাচ্ছে, ছাত্রমৃত্যুর ঘটনা কমার বদলে বেড়েই চলেছে কোটায়। সর্বভারতীয় মেডিক্যাল এবং ইঞ্জিনিয়ারিং-এর প্রবেশিকা পরীক্ষার সাফল্য লাভের জন্য অজস্র কোচিং সেন্টার রয়েছে রাজস্থানের এই শহরে। প্রতিবছর ২ লক্ষেরও বেশি পড়ুয়া নিট এবং জয়েন্ট এন্ট্রান্স এক্সামিনেশনের মতো প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য কোটার বিভিন্ন কোচিং সেন্টারে ভর্তি হয়। কিন্তু এখানে পড়তে এসে বহু পড়ুয়ারই আর বাড়ি ফেরা হয় না। কারণ, পরীক্ষায় চান্স পাওয়ার চাপ হোক, বা অন্য কোনও কারণ, প্রতিবছর শুধু নয়, প্রায় প্রতি মাসেই কোটায় একের পর এক পড়ুয়া আত্মহত্যা করেন। ছাত্রছাত্রীদের উপর চাপ কমাতে কোচিং সেন্টারগুলির ব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন পরিবর্তন আনা হলেও আত্মহত্যা রোখা যায়নি।
বিভিন্ন তথ্য থেকে জানা যাচ্ছে, কোভিড-১৯ অতিমহামারীর পর থেকে এই আত্মহত্যার সংখ্যা ৬০% বেড়েছে। ২০১৭ সালে কোটায় আত্মহত্যা করেছিল ১০ জন পড়ুয়া। ২০১৮ সালে সংখ্যাটা ছিল ১২। তারপর অতিমহামারীর সময় কমেছিল সেই সংখ্যা। কিন্তু ২০২১ সালে কোটায় আত্মঘাতী হওয়া পড়ুয়ার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৯ জন।
তিনি আরও জানিয়েছেন, লকডাউনের সময়, ছাত্রদের উপর কোনও চাপ ছিল না কারণ তাদের পরিবারের সমর্থন ছিল এবং তারা বাড়িতে ছিল। কিন্তু লকডাউনের পরে সেই চাপ ফিরে এসেছে, এবং বাবা-মায়ের সেই সমর্থনও নেই। 'যেসব ছাত্রছাত্রীরা ১৫-১৬ বছর বয়সে কোচিং ইনস্টিটিউটে ভর্তি হয় তারা খুব অল্পবয়সি। তারা পড়াশোনার বাইরের অন্য কাজ, খেলা, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দেওয়ার মতো জিনিসের অভাব বোধ করে। কোচিং সেন্টারগুলোর কঠোর নিয়মে তারা অত্যন্ত চাপের মধ্যেও থাকে,' জানিয়েছেন তিনি।
ছাত্রমৃত্যু রোখার অন্যতম পদক্ষেপ হিসেবে কোচিংগুলিতে ভর্তি হওয়ার জন্য পড়ুয়াদের ন্যূনতম বয়স বেঁধে দেওয়ার পক্ষপাতী ডাঃ ভারত সিং শেখাওয়াত। তাতে অন্তত পড়াশোনা এবং নিয়মের এই বজ্রআঁটুনিতে আটকা পড়ার আগে আগে মানসিকভাবে একটু পরিণত হওয়ার সুযোগ পাবে বলে মনে করছেন তিনি। 'কোচিং ইনস্টিটিউটগুলির উচিত কোচিং ইন্ডাস্ট্রিকে নিয়ন্ত্রণ করা এবং প্রতিষ্ঠানগুলিতে শিক্ষার্থীদের জন্য একটি স্বাস্থ্যকর পরিবেশ তৈরি করা, জানিয়েছেন এই মনোবিদ।
উত্তর প্রদেশের সেই শিশুটির পড়াশোনার ভার নিতে চাইল কেরলের সিপিএম সরকার