ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 30 November 2024 23:32
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মেরেকেটে আর এক মাস। তারপর শহর কলকাতার রাস্তায় আর দেখা যাবে না হলুদ ট্যাক্সি? সময় যত গড়াচ্ছে এই আশঙ্কাই প্রকট হচ্ছে। ধীরে ধীরে রাস্তা থেকে উধাও হয়ে যেতে বসেছে শহরের চেনা আইকন।
কেন এমন সিদ্ধান্ত
কোভিডের পর থেকেই ধীরে ধীরে এই প্রবণতা চোখে পড়ে। সূত্রের খবর, আগে এই শহরের বিভিন্ন প্রান্তে প্রায় আঠেরো হাজার ট্যাক্সি চলত। কিন্তু বর্তমানে তা এসে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৬ হাজারে। কারণ হিসাবে জানা গেছে, লকডাউনের ধাক্কায় বহু ট্যাক্সির মালিকই গাড়ি বেচে দিয়ে অন্য ব্যবসা করতে বাধ্য হয়েছেন।
অন্যদিকে অনেক গাড়ির বয়স ১৫ বছরেরও বেশি সময় পেরিয়েছে। ফলে ক্রমেই একের পর এক ট্যাক্সিতে সমস্যা দেখা দিয়েছে। সে কারণেই কলকাতার এই চেনা গাড়ি তৈরিই এখন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে খবর। আশঙ্কা করা হচ্ছে চলতি বছরের শেষে একলাফে প্রায় সাড়ে চার হাজার হলুদ ট্যাক্সি চলাচল বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
জানা যাচ্ছে, কোভিড শুরুর আগে এই শহরে হলুদ ট্যাক্সি চলত প্রায় আঠেরো হাজার। আজ তা কমে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজারে! আসলে লকডাউনের ধাক্কায় বহু ট্যাক্সির মালিকই গাড়ি বেচে দিয়ে অন্য ব্যবসায় চলে গিয়েছেন। পাশাপাশি ১৫ বছরের অনেক বেশিই বয়স হয়ে গিয়েছে অধিকাংশ গাড়ির। ফলে ক্রমেই একের পর এক বসে যাচ্ছে অ্যাম্বাসাডর। আর ওই কোম্পানিও নতুন করে গাড়ি তৈরি করছে না। ১৫ বছর বয়সের যে সব ট্যাক্সি বাতিল হয়েছে, তাদের বিকল্প হিসেবে নতুন গাড়ির পারমিট দেওয়ার কথা পরিবহণ দফতরের। কিন্তু সেই পারমিটও দেওয়া হচ্ছে না। ফলে ক্রমশ বাজার দখল করে নিচ্ছে বিভিন্ন অ্যাপ-ক্যাব সংস্থাগুলি। সে কারণেই চলতি বছরের শেষে একলাফে বসে যাবে প্রায় সাড়ে চার হাজার হলুদ ট্যাক্সি!
সম্প্রতি হলুদ ট্যাক্সিকে বাঁচাতে রাজ্যের পরিবহণমন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তীকে চিঠি লিখেছেন রাজ্যের ট্যাক্সি মালিক এবং শ্রমিক ইউনিয়নগুলি। পনেরো বছরের নিয়ম মেনে ট্যাক্সি বসে গেলেও গাড়ি মালিকদের দাবি, ওই পারমিটেই নতুন গাড়ি নামাতে দেওয়া হোক। তার রং হোক হলুদ। কলকাতার নস্ট্যালজিয়া জড়িয়ে রয়েছে হলুদ ট্যাক্সির সঙ্গে। এটাকে উঠিয়ে দেওয়া একেবারেই ঠিক হবে না।
ট্যাক্সি চালক সংগঠনের অভিযোগ, বর্তমানে শহরে মোট হলুদ ট্যাক্সির সংখ্যা ১২ হাজার। এর মধ্যে কোভিডের পর থেকে রাস্তায় মাত্র সাড়ে ৫ হাজার ট্যাক্সির দেখা মেলে। এর মধ্যে পনেরো বছরের বেশি হয়ে যাওয়ায় যদি আড়াই হাজার ট্যাক্সি রাতারাতি বাতিল হয়ে যায়, সেক্ষেত্রে যাত্রীদের চাহিদা সামলানো রীতিমতো অসম্ভব। এত সংখ্যক ট্যাক্সি এক সঙ্গে বসে গেলে অনেক পরিবার সমস্যায় পড়তে পারেন।