
শেষ আপডেট: 1 January 2024 11:00
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কলকাতা থেকে শীত কি পাততা়ড়ি গুটোচ্ছে? আবহাওয়ার মতিগতি দেখে এমনই প্রশ্ন শীত-প্রত্যাশী বাঙালির। ‘‘মাঘের বাঘা শীত তো দূর অস্ত্, জানুয়ারির শেষ পর্যন্ত আদৌ শীত টিকবে তো?’’ এই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে সকলের মুখে মুখে। বর্ষশেষের সন্ধেয় হিমেল হাওয়ায় মনে আশা জেগেছে শীত টিকলেও টিকতে পারে। কিন্তু তাপমাত্রার স্কেলে খুব একটা বদল নেই। আলিপুর হাওয়া অফিস আশা জাগিয়েছে, আগামী দুই থেকে তিন দিন শীত শীত ভাব থাকলেও তাপমাত্রা থাকবে স্বাভাবিকের উপরেই। কিন্তু তারপর থেকে ফের পারদ নিম্নমুখী হতে পারে।
শীত যে টিকবে, এমন আশ্বাস জোরালো ভাবে দিতে পারছেন না আবহবিদেরাও। তাঁদের অনেকেই বলছেন, এই সপ্তাহের শেষে পারদ সামান্য যদিও বা নামে, তার পরে কিন্তু রাতের তাপমাত্রা উপরে ওঠার ইঙ্গিতই দিচ্ছে। তাঁদের পূর্বাভাস, এ মাসের শেষে কলকাতার তাপমাত্রা আরও দুই ডিগ্রি কমতে পারে।
দিল্লিতে শৈত্যপ্রবাহের সতর্কতা জারি হয়েছে। এদিকে বছরের শুরুতে ঠান্ডায় ঠকঠক করে কাঁপল না শহর। হাওয়া অফিসের পূর্বাভাস, নতুন বছরের প্রথম দিন রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমলেও, তাতে খুব একটা কিছু হেরফের হবে না। বছরের শুরুতে কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৬.২। রবিবারের থেকে তাপমাত্রা সামান্য নামলেও সোমবারের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের থেকে ২ ডিগ্রি উপরেই আছে।
পশ্চিমী ঝঞ্ঝা থমকে গেছে। বাংলাদেশে ঘূর্ণাবর্তের কারণে পুবালি হাওয়া শনশন করে বইছে। এই দুইই শীতের পথে কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কাশ্মীরি বরফ-ছোঁয়া বাতাসে সামান্য উত্তুরে হাওয়াটুকুই যা সম্বল বাংলায়। বেলা গড়ালেই হাওয়া উধাও, শীতও ভ্যানিশ।
এ বছর অবশ্য শীত এক ঝটকায় বেশ কাবু করেছিল কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গকে। পারদ পতনে সর্বকালের রেকর্ড গড়বে কি না, তা নিয়েও জল্পনা শুরু হয়েছিল। শীত নেই, শীত নেই বলে যাঁরা হাহাকার করছিলেন তাঁদেরও মন ভরেছিল উত্তুরে হাওয়ার ধাক্কায়। কিন্তু বছর পড়তেই আবার যে কে সেই। শীত যেন ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে যাচ্ছে। তবে আলিপুর হাওয়া অফিস আশ্বাস দিয়েছে, ৪ জানুয়ারির পর থেকে ফের রাতের তাপমাত্রা নামার সম্ভাবনা আছে।
তবে শুধু দু্র্বল ঝঞ্ঝা নয়, শীতের এই দুর্বলতার পিছনে অনেকে দূষণকেও দায়ী করছেন। পরিবেশবিদদের অনেকেই বলছেন, পৌষের মাঝামাঝি শীত এমন আচমকা নিখোঁজ হয়ে যায় না। এখনও তাপমাত্রা যতটা নামছে, ততটা কিন্তু শীত মালুম হচ্ছে না। এর পিছনে তাঁরা দায়ী করছেন মহানগরের মাত্রাতিরিক্ত দূষণকে। বাতাসে অতিরিক্ত কার্বন ডাই অক্সাইড তাপ শোষণ করে বাতাসকে গরম করে তুলছে। আবহাওয়া ক্রমশ খামখেয়ালি হচ্ছে। তাই শীতকালেও শীতের দেখা পাওয়া যাচ্ছে না তেমনভাবে।