
ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 26 February 2025 13:39
দ্য ওয়াল ব্যুরো: খুন হয়েছে মধ্যমগ্রামে, আর দেহ লোপাটের জন্য বেছে নেওয়া হল কলকাতার কুমোরটুলি (Kumartali Case)! কেন, এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে পুলিশ। এই ঘটনায় ধৃত মা (আরতি ঘোষ) এবং মেয়ে (ফাল্গুনী ঘোষ) বিষয়টি নিয়ে পুলিশকে এখনও স্পষ্টভাবে কিছু জানাননি। তবে পুলিশের অনুমান, ধৃতদের সঙ্গে কুমোরটুলির যোগসূত্র রয়েছে। সে কারণেই এত জায়গা থাকতে, ঝুঁকি নিয়ে মধ্যমগ্রাম থেকে কলকাতায় এসেছিলেন তাঁরা (Trolley Murder Case)।
কলকাতা পুলিশের তরফে জানানো হয়েছিল, বারাসত পুলিশের সঙ্গে মিলে এই ঘটনার তদন্ত করা হবে এবং ঘটনার পুনর্নির্মাণ করা হবে। সেই অনুযায়ী বুধবারই ফাল্গুনীকে নিয়ে নর্থ পোর্ট থানার পুলিশ সহ ফরেনসিক আধিকারিকরা তথ্য সংগ্রহ এবং ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্য আসেন মধ্যমগ্রামের সেই ভাড়া বাড়িতে। তবে ধৃতরা মধ্যমগ্রাম থেকে হঠাৎ কলকাতায় কেন গেল দেহ লোপাটের জন্য, তা এখনও কারও কাছে পরিষ্কার নয়।
লালবাজার সূত্রে খবর, পুলিশ জানতে পেরেছে আরতি ঘোষের স্বামী অর্থাৎ ফাল্গুনীর বাবা কুমোরটুলি অঞ্চলে থাকতেন এক সময়ে। গঙ্গার ঘাট এলাকা, আহিরীটোলা অঞ্চলে স্বাভাবিকভাবেই যাতায়াত ছিল মা-মেয়ের। এক্ষেত্রে অনুমান, ওই অঞ্চলের ওলি-গলি ভালমতোই চিনতেন দুজন। তাই ট্রলিব্যাগে মৃতদেহ ভরে কোথায় ফেললে কেউ টের পাবে না, তা আন্দাজ করেছিলেন তারা। যদিও শুধুমাত্র এই কারণেই মধ্যমগ্রাম থেকে এতদূর তারা এসেছিলেন কিনা, এখনই নিশ্চিত হতে পারছে না পুলিশ।
ইতিমধ্যে জানা গেছে, অসমের যোরহাট এবং কলকাতায় কিছু সম্পত্তি রয়েছে নিঃসন্তান সুমিতা ঘোষের। সে কারণেই তাঁকে খুন করা হয়েছে কি না, ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে সে কথা জানার চেষ্টা করছে পুলিশ। এদিকে ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে যা বেরিয়েছে তা ভয়ানক।
রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, মৃতার দেহে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। মাথা থেকে শুরু করে ঘাড়, দুই হাত, পায়ের গোড়ালি, সবেতে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন। খুলিও ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছিল এবং মাথায় রক্ত জমাট বাঁধার চিহ্নও মিলেছে। শুধু তাই নয়, কাটা হয়েছিল দু-পায়ের নীচের অংশ এবং দুটি গোড়ালিও। এই কাজের জন্য বঁটি ব্যবহার করেছিলেন দুই অভিযুক্ত। রিপোর্টে এও বলা হয়েছে, ময়নাতদন্তের ৪৮-৫০ ঘণ্টা আগে খুন করা হয়েছিল। যদিও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে এখনও ধোঁয়াশা রয়েছে। ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্ট না এলে সে সম্পর্কে বেশ কিছু বলা যাবে না।