
আহত দুই ভাই - ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 21 February 2025 16:32
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাড়িতে যে সময়ে তিনজনের মৃতদেহ পড়ে, সেই সময়ে ট্যাংরার দে পরিবারের (Tangra Triple Deaths) বাকি তিন সদস্য দুর্ঘটনা ঘটিয়েছেন ই এম বাইপাসে (EM Bypass Accident)। এখনও পর্যন্ত তাঁরা ভর্তি রয়েছেন হাসপাতালে। ট্যাংরা কাণ্ড (Tangra) যে খুনের ঘটনাই তা আপাতত স্পষ্ট হয়েছে ময়নাতদন্তের রিপোর্টে। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে, বাকি সবথেকে ছোট দুই সদস্যকেও কেন এত কষ্ট দেওয়া হল? দুই ভাই প্রণয় এবং প্রসূনকেই এই ঘটনার 'মূল' হিসেবে ধরছে পুলিশ। তাঁরা কি সত্যিই তাঁদের সন্তানদের বাঁচাতে চাননি?
ট্যাংরার 'চিত্তনিবাস'-এর বাইরের একটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছিল, গাড়ির সামনে উঠে বসেছিল নাবালক। দুর্ঘটনার আগে সে জায়গা বদলও করেনি। পুলিশ সূত্রে খবর, বয়ানে দুই ভাই জানিয়েছে, আত্মহত্যার জন্য অনেক আগেই তাঁরা মনস্থির করে ফেলেছিল। তাই পিলারে ধাক্কা মারার আগে নাবালককে তাঁরা গাড়ি থেকে নেমে যেতে বলেছিল। কিন্তু সে কথা শোনেনি। হাসপাতাল সূত্রে খবর, প্রণয় এবং প্রসূন দুজনেই স্থিতিশীল রয়েছেন। তবে একটু হলেও সঙ্কটজনক ওই নাবালক।
দে পরিবারের যে ব্যবসা ছিল তা শেষ কয়েক বছরে মন্দার মুখ দেখছিল। বাজারে তাঁদের যে বিপুল অঙ্কের দেনা হয়ে গেছিল সে তথ্যও জেনেছে পুলিশ। এও জানা গেছে, দেনা মেটাতে বাড়ি বন্দক রেখেছিলেন প্রণয়, প্রসূন। কিন্তু তাতেও লাভ হয়নি। যত দিন যাচ্ছিল তত বেশি পাওনাদারদের চাপ বাড়ছিল। একই সঙ্গে, ব্যাঙ্ক ছাড়াও অনেক সংস্থা থেকে ঋণ নিয়েছিলেন তাঁরা। তা শোধ দিতেও কালঘাম ছুটছিল তাঁদের। অনুমান, যা ঘটেছে তা এইসব ঘটনার ফল।
ট্যাংরার পরিবারের তিনজনের দেহ তিনটি আলাদা ঘর থেকে মিলেছিল। চিকিৎসকেরা আগেই জানিয়েছিলেন, 'নিখুঁত ভাবে' দুই বধূর হাতের শিরা কাটা হয়েছিল। যেরকম নিখুঁত ভাবে শিরা কাটা হয়েছে তা একমাত্র ঘুমন্ত বা অচৈতন্য অবস্থায় থাকলেই সম্ভব। কাটার সময়ে দু'জনের কারও হাত সে ভাবে নড়েইনি পর্যন্ত। অনুমান, ঘুমের ওষুধ মেশানো পায়েস খাওয়ার যে দাবি করা হচ্ছে তা খেয়েই অচৈতন্য হয়ে পড়েছিলেন তাঁরা। সে সময়েই তাঁদের খুন করেন দুই ভাই।
পুলিশের নজরের আপাতত যা এসেছে তাতে, বাড়ির বাইরে ৭-৮টি ক্যামেরা লাগানো। ভিতরে আরও বেশ কয়েকটি। ছাদেও ক্যামেরা রয়েছে। কিন্তু কোনও ক্যামেরাই চালু নয়। অনুমান করা হচ্ছে, ঘটনার বেশ কয়েক ঘণ্টা আগে থেকেই তা কেউ বন্ধ করে দিয়েছিল। এই কাজ দুই ভাইয়ের মধ্যে একজন বা দুজনে মিলে করতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে। এখন কোনও ভাবে সেগুলি চালু করে তার থেকে বিশেষ কোনও ফুটেজ পাওয়া যায় কিনা, সেই চেষ্টা করা হচ্ছে।