
নিজস্ব চিত্র
শেষ আপডেট: 27 February 2025 10:13
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বছর পেরোলেই রাজ্যের বিধানসভা ভোট (West Bengal Elections)। সেই নির্বাচনকে মাথায় রেখে এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস (TMC)। বৃহস্পতিবার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে (Netaji Indoor Stadium) এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসতে চলেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। বৈঠক উপস্থিত থাকবেন দলের সর্বস্তরের নেতা-কর্মীরা। কী বার্তা দেন তৃণমূল নেত্রী, তা শোনার অপেক্ষায় সকলে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়া এই মঞ্চ থেকে বক্তৃতা দেবেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তাঁরা ছাড়া মঞ্চ সঞ্চালনা করতে গিয়ে রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সী দু-চার কথা হয়তো বলতে পারেন। এই অনুষ্ঠানের জন্য বুধবার সন্ধে থেকেই নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে মঞ্চ সজ্জার কাজ চলেছে জোরকদমে। যদিও মঞ্চের ছবিতে শুধুই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কর্মিসভার পোস্টার, ব্যানারে অভিষেকের ছবি নেই।
সূত্রের খবর, দলের বিধায়ক, সাংসদ, জেলা পরিষদের সভাধিপতি, শাখা সংগঠনের প্রধান ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদাধিকারীদের এই বৈঠকে ডাকা হয়েছে। গত নভেম্বরে তৃণমূলের জাতীয় কর্মসমিতির বৈঠকে মমতা ঘোষণা করেছিলেন যে, দলের সমস্ত স্তরের নেতাদের নিয়ে তিনি আলোচনা করবেন। তবে বিধানসভার বাজেট অধিবেশনের কারণে সেই বৈঠক কিছুটা পিছিয়ে যায়। অবশেষে ২৭ ফেব্রুয়ারি, বৃহস্পতিবার এই গুরুত্বপূর্ণ সভার আয়োজন করা হচ্ছে।
ক'দিন আগে ভুতুড়ে ভোটার কার্ড নিয়ে বিধানসভায় সরব হয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন, মহারাষ্ট্র-দিল্লিতে যা হয়েছে, তা বাংলায় হতে দেবেন না। এরপরই ভোটার তালিকায় ভুতুড়ে ব্যাপার স্যাপার ঠেকাতে প্রশাসনকে কড়া নির্দেশ দিয়েছিলেন রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ। নবান্ন থেকে জেলায় জেলায় নির্দেশ গেছিল।
মুখ্যসচিবের বক্তব্য ছিল, কোনওভাবেই ভুয়ো ভোটার কার্ড তৈরি হতে দেওয়া যাবে না। আবেদন জমা পড়ার পর যথাযথ যাচাই করতে হবে। কোনও নির্দিষ্ট এলাকায় যদি অস্বাভাবিক সংখ্যক ভোটার কার্ডের আবেদন জমা পড়ে, তবে সেখানে আরও কড়া নজরদারি চালাতে হবে। কোনও অনিয়ম ধরা পড়লে ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রয়োজনে আইনি ব্যবস্থাও নেবে সরকার।
বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেছিলেন, অনলাইন ভোটার তালিকার নামে কারসাজি করা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করে এই কাজ করা হচ্ছে এবং কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলিকে কাজে লাগানো হচ্ছে। মমতার এও দাবি ছিল, একটি "ভুতুড়ে রাজনৈতিক দল" বিহারের লোকেদের নাম অনলাইনে ভোটার তালিকায় ঢুকিয়ে দিচ্ছে। অনুমান, আজকের বৈঠক থেকে সেই ইস্যুতেই ফের বড় বার্তা দিতে পারেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
ভূতুড়ে ভোটার নিয়ে সরব হয়েছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তিনিও বলেছিলেন, "দিল্লিতেও একইভাবে ভোটার তালিকায় কারসাজি করা হয়েছে। মাত্র আট মাসে ৪ লক্ষ নতুন নাম যুক্ত হয়েছে, যা গত ১৪ বছরে হয়নি। নয়াদিল্লি আসনে ২০ হাজার ভোট কমে গিয়েছে, আবার কোথাও ৩০ হাজার বেড়েছে। গোটা দিল্লিতে ৪-৪.৫ লক্ষ নতুন ভোটার যোগ হয়েছে।" অভিষেক নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন। এদিনের বৈঠকে তাঁরও উপস্থিত থাকার কথা। তিনিও এই নিয়ে কথা বলতে পারেন।
তবে মঞ্চে অভিষেকের ছবি না থাকাটা কি কোনও বার্তাবহণ করছে? কালীঘাটের ঘনিষ্ঠ সূত্রে বলা হচ্ছে, যে মতান্তরের ক্ষেত্র তৈরি হয়েছিল, তার পুরোটা ঠিক না হলেও কিছু বিষয়ে দুজনেই সহমত হয়েছেন। এ ব্যাপারে গত পক্ষকালে একাধিকবার মমতা-অভিষেকের বৈঠক হয়েছে। মাঝে গত সপ্তাহে একবার আই-প্যাকের প্রতীক জৈনকে ডেকেও কথা বলেছেন দিদি। তারপরই নেতাজি ইন্ডোরের মিটিং ডাকা হয়েছে। তাই এই মিটিংয়ে অভিষেক ও মমতার বক্তৃতার মধ্যে একটা তালমিলও দেখা যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।
সেই প্রেক্ষিতে মনে করা হচ্ছে, এই বৈঠক থেকে বেশ কিছু রদবদল হতে পারে। ইতিমধ্যে তৃণমূলের শিক্ষক সংগঠন ও অধ্যাপক সংগঠনে বদল আনা হয়েছে। দলীয় সূত্রে খবর, কিছু পুরসভার চেয়ারম্যান ও ভাইস-চেয়ারম্যান পদেও পরিবর্তন আসতে পারে। দলের একাংশের মতে, মার্চের প্রথম সপ্তাহেই সাংগঠনিক রদবদল সম্পন্ন করা হতে পারে। সেই সিদ্ধান্তই বৈঠকে গৃহীত হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
এর আগে শেষবার নেতাজি ইন্ডোরে তৃণমূলের বর্ধিত কর্মিসভা হয়েছিল ২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে। তার পর থেকে ১ বছর ৩ মাস অতিবাহিত। ঘটনাচক্রে সেই সভাতেও অভিষেকের কোনও ছবি ছিল না। বৈঠকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও ছিলেন না। মমতা অবশ্য জানিয়েছিলেন, চোখের চিকিৎসার জন্য অভিষেক হাসপাতালে ছিলেন।