
শেষ আপডেট: 6 December 2021 12:07
ব্যবসায়ীরা জানাচ্ছেন, মুখ্যমন্ত্রী পোস্তা বাজারকে নতুন করে সাজাতে একটি 'মাস্টার প্ল্যান' তৈরির জন্য পুর প্রশাসক ফিরহাদ হাকিমকে নির্দেশ দিয়েছিলেন। জানা গিয়েছিল, সেই কাজের জন্য কোনও কনসালট্যান্সি সংস্থাকে দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। কিন্তু সেই কাজ আর এগোয়নি।
পোস্তা বাজারের সবথেকে বড় সমস্যা পার্কিং। নাগপুর, বেঙ্গালুরু, কর্ণাটক-সহ একাধিক রাজ্য থেকে রোজ প্রায় দেড়শো-দুশো পণ্যবোঝাই ট্রাক আসে। মুখ্যমন্ত্রীর প্রস্তাব ছিল, পোস্তা এলাকায় সরকারি উদ্যোগে তৈরি হবে বহুতল মার্কেট কমপ্লেক্স। তার মধ্যে থাকবে ব্যবসায়ীদের অফিস ঘর, কনফারেন্স রুম, ব্যাঙ্ক, এটিএম এবং গেস্ট হাউস। থাকবে আন্ডারগ্রাউন্ড পার্কিং জোন। তার জন্য মোট ১০ একর জমি লাগবে। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে সেই জমি চিহ্নিত করার জন্য তখনকার মেয়রকে নির্দেশ দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। বলা হয়েছিল, এর জন্য যে অর্থ খরচ হবে, তার পুরোটাই বহন করবে রাজ্য সরকার। কিন্তু সেই প্রস্তাবের অগ্রগতির বিষয়ে জানেন না বেশিরভাগ ব্যবসায়ী।
মশলা ব্যবসায়ী জগদীশ মানপুরিয়ার অভিযোগ, যেখানে পার্কিংয়ের অনুমতি নেই, সেখানেও গাড়ি দাঁড়িয়ে যাচ্ছে। হাত দিয়ে দেখালেন তাঁর দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা লরি। বললেন, 'পেট্রোল পাম্পের পিছনে গিয়ে দেখুন, পুলিশ পয়সা নিয়ে এসব করছে।' তিনি আরও বললেন, এই এলাকায় একটাও খাবারের দোকান নেই। আমার কর্মীরা খিদে পেলে সমস্যায় পরে।' জানালেন, পার্কিংয়ের সমস্যার জন্য তিনি গাড়ি নিয়ে এই এলাকায় আসতে পারেন না। ড্রাইভার কিছুটা দূরে নামিয়ে দেয়। পরে ফোন করে ডাকতে হয়।'
বাজারের আলুপট্টির মুটে মুকেশ কুমার বললেন, ' সারাদিন খাটাখাটনির ফাঁকে বাজারে বিশ্রামের জায়গার বড়ই অভাব। যে যার গদিতে কাজ সেখানেই বস্তা পেতে গড়িয়ে নেয়। নতুন মার্কেটে আমাদের জন্য ব্যবস্থা থাকবে শুনেছিলাম।'
পোস্তা বাজার সমিতির সম্পাদক রতন কুমার সাহা জানালেন, বাজারের সংস্কার প্রয়োজন। কিন্তু কিছুই হচ্ছে না। লরিগুলোর জন্য এলাকায় তীব্র যানজট লেগেই থাকে। মুটেদের বিশ্রাম নেওয়ার কোনও জায়গা নেই। গদিতেই তাঁরা শুয়ে থাকেন। নেই পর্যাপ্ত শৌচাগারও। তিনি বললেন, 'ব্রিজ ভাঙার পর থেকে প্রচুর ট্রাক ঢোকা বন্ধ রয়েছে। এখন ওয়াগন বুক করে মাল আসছে। রেল ইয়ার্ড থেকে মাল আসছে লরিতে। যেকারণে মাল আনতে একটু দেরি হচ্ছে।'
কলকাতা পুরসভার প্রশাসকমন্ডলীর বাজার বিষয়ক বিদায়ী সদস্য আমিরুদ্দিন ববি জানালেন, 'বিষয়টি সরাসরি ফিরহাদ হাকিম দেখছেন। আমি বলতে পারব না।'
পুরসভাসূত্রে খবর, গঙ্গার পাশে সরকারি খাস জমিতেই ১০-১২ তলা মার্কেট কমপ্লেক্স গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। সেখানে অন্তত এক হাজার ব্যবসায়ীকে অফিসঘর বানানোর জন্য জায়গা দেওয়া যাবে। পোস্তা এলাকায় সবমিলিয়ে প্রায় ৬৫০-৭০০ ব্যবসায়ী রয়েছেন। তাঁদের অধিকাংশই মূলত পাইকারি বিক্রেতা।
এখন পোস্তা বাজারের ব্যবসায়ীরা যেখানে বসে ব্যবসা করেন সেগুলো সবই পুরনো ভবন। তার মধ্যে কিছু বিপজ্জনক বাড়ি রয়েছে বলে জানা গেছে। পাইকারি ব্যবসায়ীরা যেখানে বসে ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলেন, সেটাকে বলা হয় গদিঘর। সেখানেই ব্যবসায়িক লেনদেন হয়। তার সুবাদে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ সেখানে যাতায়াত করেন। অত্যন্ত ঘিঞ্জি এবং অপ্রশস্ত রাস্তার পাশে গদিঘরগুলি অবস্থিত হওয়ায় ব্যবসায়ী এবং ক্রেতারা সমস্যায় পড়েন। রাস্তার উপরে বড় বড় ট্রাক দাঁড় করিয়ে মালপত্র ওঠানো এবং নামানো হয়। কলকাতা পুরসভার সৌন্দর্যায়নে শহরের বহু বাজারের সংস্কার হলেও পোস্তা রয়ে গিয়েছে সেই অন্ধকারেই।