
সুপ্রিমকোর্টের প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড় ও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
শেষ আপডেট: 29 June 2024 12:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আদালতকে বলা হয় ন্যায় এবং বিচারের মন্দির। কিন্তু তা ভেবে বিচারকদের দেবতা ভাবা ভুল হবে। এটা খুব বিপদেরও। মন্তব্য দেশের সর্বোচ্চ আদালতের প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড়ের।
হাইকোর্টের অনুষ্ঠান উপলক্ষে শুক্রবার কলকাতায় এসেছেন সুপ্রিমকোর্টের প্রধান বিচারপতি। শনিবার বাইপাসের ধারের একটি হোটেলে বিচারব্যবস্থা সংক্রান্ত বিষয়ে একটি আলোচনা চক্রের আয়োজন করেছিল ন্যাশনাল জুডিশিয়াল অ্যাকাডেমি। উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় , কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানম- সহ অন্যান্যরা। সেখানেই একথা বলেন প্রধান বিচারপতি।
প্রসঙ্গত, এর আগেই বক্তৃতায় বিচারব্যবস্থার নিরপেক্ষতা বজায় রাখার আর্জি জানান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তারপর ভাষণ দিতে উঠে প্রধান বিচারপতি বলেন, "আদালতকে বলা হয় ন্যায় এবং বিচারের মন্দির। আমরা নিজেদেরকে সেই মন্দিরের দেবতা ভেবে ভুল করি। এটা খুব বিপদের। মনে রাখতে হবে আমাদেরও নিজস্ব চিন্তা ভাবনা রয়েছে। সেই চিন্তাভাবনার সঙ্গে বিচারকে গুলিয়ে ফেললে হবে না।"
প্রধান বিচারপতি মনে করিয়েছেন, ‘‘সাংবিধানিক নৈতিকতা বলে যে, বৈচিত্র্যকে গ্রহণ করো এবং সহনশীল হও।’’ বলেছেন, "আমার সামনে আদালতকে কেউ মন্দির বললে আমি তাঁদের বাধা দিই। কারণ, মন্দির বললেই মনে হয় বিচারকরা দেবতা। কিন্তু তা নয়, বিচারকরা মানুষের সেবক।"
পরামর্শের সুরে প্রধান বিচারপতি আরও বলেন, "বিচারকেরা বিচার করুন কিন্তু অন্যের সম্পর্কে আগেভাগে কোনও ধারণা তৈরি করে ফেলবেন না। সহানুভূতি রাখতে হবে। মনে রাখতে হবে, আমাদের সামনে যাঁরা দাঁড়িয়ে থাকেন তাঁরাও মানুষ।’’
এর আগে এদিন বিচারব্যবস্থার প্রসঙ্গে প্রধান বিচারপতির উদ্দেশে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "আমি কোনও উদ্দেশ্য নিয়ে বলছি না, কাউকে আঘাতও করতে চাই না। তবে এটা বলতে চাই, বিচারব্যবস্থায় রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্ব থাকলে মানুষ কোথায় যাবে? আমার অনুরোধ, বিচারব্যবস্থায় কোনও রকম রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্ব থাকা উচিত নয়। বিচারব্যবস্থার সৎ এবং নিরপেক্ষ থাকা উচিত। বজায় রাখা উচিত গোপনীয়তাও।"
তথ্য প্রযুক্তির সাহায্যে দেশের বিচারব্যবস্থাকে আরও উন্নত করার জন্য এই আলোচনা সভার আয়োজন বলেও জানান প্রধান বিচারপতি।