
নিহত বিতান এবং তাঁর স্ত্রী
শেষ আপডেট: 24 April 2025 17:16
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পাটুলির বৈষ্ণবঘাটার বাসিন্দা বিতান অধিকারীর (Bitan Adhikari) কফিন বন্দি দেহ বুধবার রাতেই কলকাতায় ফিরেছে। জম্মু-কাশ্মীরের পহেলগামে জঙ্গি হামলায় (Jammu Kashmir Pahalgam Terror Attack) যে ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে তাদের মধ্যে বিতান একজন। সন্তানকে নিয়ে বেঁচে ফিরলেও তাঁর স্ত্রী স্বাভাবিকভাবেই এখনও আতঙ্কিত। হামলার ওই মুহূর্ত তিনি ভুলতে পারছেন না। ঘটনার কথা বলতে গিয়ে এখনও গলা কাঁপছে তাঁর।
প্রথমে বুঝে উঠতে পারেননি কী হচ্ছে। যারা এসেছে নানা প্রশ্ন করছে, তারা কারা। কিছু বুঝে ওঠার আগেই গুলি চালানো হয়। এমনই বলছেন নিহত বিতানের স্ত্রী। তিনি বলেন, 'প্রথমে মনে হয়েছিল আমরা বেঁচে গেছি। পরিবারের সকলে বেঁচে গেছি। কিন্তু ততক্ষণে আমার স্বামী আর নেই। ও মাথা নুইয়ে পড়ে ছিল। প্রথমে ভেবেছিলাম অজ্ঞান হয়ে গেছে। ওঠানো যাবে। কিন্তু...''
স্বামীকে বাঁচাতে অনেক চেষ্টা করেছিলেন তিনি। কিন্তু কিছুতেই কোনও লাভ হয়নি। বিতানের স্ত্রী জানান, জল খাওয়ানো, বুকে চাপ দেওয়া, মাউথ-টু-মাউথ... এই পরিস্থিতিতে যা যা করতে হয়ে বলে জানেন, সবই করেছিলেন। তবে বিতান নির্বিকার ছিলেন। কোনও সাড়া দেননি। তখনই বুঝে যান, সব শেষ। বিতানের স্ত্রী যখন এই ঘটনার ব্যাখ্যা দিচ্ছেন তখন তাঁর গলা কেঁপেই চলেছে। বোঝাই যাচ্ছে, এই ঘটনার কী প্রভাব তাঁর জীবনে পড়েছে।
তাঁদের আশেপাশে যারা ছিলেন তাঁদের সঙ্গে কী হয়েছিল? সংবাদমাধ্যমে বিতানের স্ত্রী বলেন, ''গুলির আওয়াজ পেতেই সকলে মাথা নীচু করে মাটিতে শুয়ে পড়েছিলেন। জঙ্গিরা এসে একজন একজনকে ধরে প্রশ্ন করছিল - আপনি হিন্দু না মুসলিম? কলমা জানেন? কলমা পড়তে পারবেন? এক বয়স্ক লোক চুপ করে ছিলেন। তাঁর মাথায় গুলি করা হয়। এক পলকে সব শেষ।''
গত ১৬ এপ্রিল বিতান এবং সন্তানকে নিয়ে জম্মু-কাশ্মীর গেছিলেন তাঁরা। ফেরার কথা ছিল আজ, ২৪ এপ্রিল। কিন্তু তার আগেই ২২ এপ্রিল সকালে পহেলগামের বাইসরান উপত্যকায় ঘটে যায় জঙ্গি হামলা। সেসময় পরিবার নিয়ে সেখানে উপস্থিত ছিলেন বিতান। গুলির আঘাতে গুরুতর জখম হন তিনি। দ্রুত তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষরক্ষা হয়নি।
বুধবার রাত ৮টার কিছু পর কলকাতা বিমানবন্দরে এসে পৌঁছয় বিতানের মৃতদেহ। সেখানে আগে থেকেই অপেক্ষা করছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী, তমলুকের বিজেপি সাংসদ অগ্নিমিত্রা পল-সহ আরও অনেকে। বিমানবন্দরেই বিতানের ছেলেকে কোলে তুলে নিতে দেখা যায় বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে। বিতানের স্ত্রী তখন অঝোরে কেঁদে চলেছেন। বিতানের ছেলেকে কোলে নিয়ে শুভেন্দু আশ্বস্ত করেন, এই জিনিস বরদাস্ত করা হবে না। বিতানের স্ত্রীও শুভেন্দুকে বলছেন, "আপনারা আছেন বলেই এসেছি। আপনাদের ভরসা করি। আমার স্বামীর খুনিদের শাস্তি চাই।"