
গ্রাফিক্স: শুভ্র শর্ভিন
শেষ আপডেট: 24 February 2025 19:27
দ্য ওয়াল ব্যুরো: একটি দুর্ঘটনা, একটি পরিবারের তিন সদস্যের রহস্যজনক মৃত্যু, আত্মহত্যার কাহিনি, পথ দুর্ঘটনা ও একাধিক জট। সব মিলিয়ে ট্যাংরা কাণ্ডের তদন্তে নাস্তানাবুদ খোদ পুলিশও। যত দিন যাচ্ছে, ঘটনার তত নতুন দিক যেন সামনে আসছে পরতে পরতে। মিলছে একাধিক তথ্য, ধরা পড়ছে অসঙ্গতি। সব শেষে থেকে যাচ্ছে উত্তর না পাওয়া কিছু প্রশ্ন।
কেবল তদন্তকারীরা নন, এখন সে সব নিয়ে ভাবছেন সাধারণ মানুষও। চায়ের দোকান থেকে বাসে-ট্রেনে শোনা যাচ্ছে নানা তত্ত্ব। প্রশ্ন উঠছে, কেন এই ঘটনায় তিন জন মহিলারই মৃত্যু হল? কেন বেঁচে গেলেন পরিবারের তিন পুরুষ? পুরোটাই কি কাকতালীয়? না এর পিছনে রয়েছে অন্য কোনও গল্প?
এই সংশয় হয়তো ঘনাতই না, যদি না ট্যাংরার ওই অভিশপ্ত বাড়িতে তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশরা টেবিলের উপর থেকে মেডিক্লেমের কাগজ খুঁজে পেতেন। পুলিশ মনে করছে, যাতে চিকিৎসায় কোনও সমস্যা না হয়, সেকারণেই হয়তো মেডিক্লেমের কাগজ সামনে রাখা হয়েছিল, একেবারে হাতের কাছে। মেডিক্লেমের কাগজ হাতে পাওয়ার পরেই ঘুরে যায় খেলা। যদি সবাই মরারই পরিকল্পনা করেছিলেন, তবে চিকিৎসার কাগজ কী কাজে লাগবে!
প্রণয়-প্রসূন, তাঁদের স্ত্রী ও দুই সন্তান। এই নিয়ে ছিল দে পরিবার। পারিবারিক ব্যবসা ছিল পরিবারের, সামলাতেন মূলত দুই ভাই। বেশ বিলাসেই থাকতেন সকলে। মিলমিশও ছিল বেশ। দুই জায়ের মধ্যেও কখনও তেমন কোনও বিবাদ লক্ষ্য করেননি প্রতিবেশীরা। দাদা-ভাই, ব্যবসায়িক কোনও সমস্যাও তেমন কখনও ছিল না।
ঘটনার পরে দুই ভাইয়ের প্রাথমিক বয়ান অনুযায়ী, গোটা পরিবারই নিজেদের শেষ করে দিতে চেয়েছিল। এর পিছনে মূল কারণ ছিল, বিপুল অঙ্কের দেনা। তাই ছ’জনই খান ঘুমের ওষুধ। পরিবারের ছোট মহিলা সদস্য অর্থাৎ কিশোরীর মৃত্যু হল বিষক্রিয়ায়। বাকি দুই মহিলাকে খুন করা হল হাতের শিরা কেটে। রয়ে গেলেন তিনজন। তিন পুরুষ সদস্য।
তিন মহিলার খুন ঠিক কে করেছে, সে বিষয়টি পুলিশ দেখছে। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, যদি দুই ভাই মিলেই পরিবার শেষ করার সিদ্ধান্ত নেন তাহলে পরিবারের তিন সদস্যের মৃত্যুর পরেও আর এক সদস্য অর্থাৎ নাবালক (বর্তমানে চিকিৎসাধীন) বেঁচে গিয়েছিল সেদিন। সে বেঁচে গেল কীভাবে। তাকে কি পরিকল্পনা মাফিকই বাঁচানো হল?
অনেকে বলছেন, বাড়ির দুই মহিলা অর্থাৎ দু’জনের স্ত্রীর বংশরক্ষায় কোনও ভূমিকা নেই, তাঁরা অন্য পরিবার থেকে এসেছেন। আর কিশোরীও বিয়ে করে নিলে পরিবার রক্ষা করতে পারবেন না। তাই তিনজনের জীবনের দাম হয়তো ছিল না প্রসূন ও প্রণয়ের কাছে বা কারও একজনের কাছে। কিন্তু বাড়ির নাবালককে বাঁচিয়ে রাখলে ও নিজেরা অর্থাৎ বাড়ির তিন ছেলে বেঁচে গেলে বংশরক্ষা সম্ভব। ক্ষীণ আশা ছিল, ব্যবসাও হয়তো দাঁড় করানো সম্ভব। সে কারণেই তিন মহিলাকে মারা হয়েছে।
অনেকে আবার বলছেন, কথায় আছে মহিলাদের জীবনযাপনে খরচ বেশি। খরচ কমাতেই হয়তো শুধুমাত্র তিন মহিলাকে মেরে ফেলা হয়েছে। এবিষয়ে যদিও তদন্তকারীরা কোনও ক্লু পেয়েছেন কিনা তা জানা যায়নি।
অন্যদিকে, বাড়ির বড় ছেলে জ্যোতিষ চর্চা করতেন বলে জানা যাচ্ছে। প্রতিবেশী ও আত্মীয়দের কথায়, তিনি জ্যোতিষে বিশ্বাস করতেন। সেখান থেকে এমন কোনও সিদ্ধান্ত নিলেন কিনা, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ঘটনায় একাধিক দিক উঠে এলেও, এখনই খুনের মোটিভ নিয়ে কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারেননি তদন্তকারী আধিকারিকরা। প্রসূন ও প্রণয়ের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা হচ্ছে। নাবালকের বয়ানও নেওয়া হয়েছে। সে দাবি করেছে, কাকা প্রসূন দেই তার মা, কাকিমা ও দিদিকে খুন করেছে। তাকে আজ, অর্থাৎ সোমবার ছুটি দেওয়ার কথা। তার তেমন কোনও চোট লাগেনি। তার দায়িত্ব কে নেবে, বিল কে মেটাবে, সেসবের উত্তর কারও কাছেই নেই। এখানেই হয়তো কাজে লাগবে সেই মেডিক্লেমের কাগজ!