
লালবাজারের অদূরে অবস্থানে জুনিয়র চিকিৎসকরা।
শেষ আপডেট: 10 October 2024 01:44
দ্য ওয়াল ব্যুরো: স্বাস্থ্য ভবনে প্রায় ৩ ঘণ্টার বৈঠক থেকে বের হল না কোনও সমাধান সূত্র। তারই মধ্যে 'বিচার চাই' স্লোগানের জন্য ষষ্ঠীর রাতে দক্ষিণ কলকাতার একটি পুজো মণ্ডপ থেকে ৯জন দর্শনার্থীকে আটকের প্রতিবাদে এবার লালবাজারের অদূরে বেন্টিঙ্ক স্ট্রিটে পুলিশের ব্যারিকেডের সামনে অবস্থান শুরু করল আন্দোলনরত জুনিয়র চিকিৎসকরা।
বুধবার রাত ১১টা থেকে লালবাজারের অদূরে শুরু হয়েছে এই অবস্থান। তাতে যোগ দিয়েছেন ধর্নামঞ্চের একাধিক সদস্য। অবস্থানে সামিল একাংশ সাধারণ মানুষও। আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, যাঁরা আমাদের হয়ে বিচারের দাবিতে স্লোগান দিয়ে পুলিশের হাতে আটক হলেন, তাঁদের পাশে দাঁড়ানোটা আমাদের নৈতিক দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। সে কারণেই এই ঘেরাও অবস্থান।' ওই ৯ জনকে না ছাড়া পর্যন্ত লালবাজারের অদূরে অবস্থান ঘেরাও চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তাঁরা।
অসমর্থিত সূত্রের খবর, সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে আটক ওই ৯ জনকে ইতিমধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে এ ব্যাপারে অফিসিয়ালি লালবাজারের কোনও বক্তব্য জানা যায়নি। পর্যবেক্ষকদের মতে, অসমর্থিত সূত্রের খবর সঠিক হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।
এদিন আন্দোলনকারীদের অন্যতম মুখ কিঞ্জল নন্দ লালবাজারের অদূরের ধর্না মঞ্চে হাজির হয়েছিলেন। কিঞ্জলের অভিযোগ, "আমরা পুলিশকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, ওঁদেরকে আটক করার কারণ কী? পুলিশ বলছে, ওরা তো চিকিৎসক নন, তাহলে এভাবে পুজো মণ্ডপে স্লোগান দিয়ে উত্তেজনা তৈরি করবেন কেন? আসলে পুলিশ ভুলে গেছে, এটা এখন আর ডাক্তারদের আন্দোলন নয়, সাধারণ মানুষের আন্দোলনে পরিণত হয়েছে।"
ঘটনার সূত্রপাত, নির্যাতিতার প্রতীকী মূর্তি নিয়ে এদিন উত্তর ও দক্ষিণ কলকাতার একাধিক মণ্ডপ পরিদর্শনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন জুনিয়র ডাক্তাররা। সন্ধেয় দক্ষিণ কলকাতার একটি মণ্ডপে জুনিয়র ডাক্তারদের হাতে ওই প্রতীকী মূর্তি দেখে বেশ কিছু মানুষ 'বিচার চাই' স্লোগান তোলেন। যার জেরে মণ্ডপে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশের সঙ্গে বাদানুবাদেও জড়িয়ে যায় কয়েকজন। পরে ওই ৯জনকে আটক করে লালবাজারে নিয়ে যায় পুলিশ।
এখবর পাওয়ার পরই লালবাজার ঘেরাওয়ের কর্মসূচি নেয় আন্দোলনকারীরা। বিষয়টি জানতে পেরে প্রায় সঙ্গে সঙ্গে লালবাজারের নিরাপত্তা বাড়ানো হয়। ব্যারিকেড বসিয়ে দেওয়া হয় বেন্টিঙ্ক স্ট্রিটে। সেখানেই বসে গভীর রাত পর্যন্ত বিক্ষোভ শুরু করেছেন আন্দোলনকারীরা।