
মুখ্যমন্ত্রীর কাছে বিনীত গোয়েল। ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 4 September 2024 10:39
দ্য ওয়াল ব্যুরো: লালবাজারের অদূরে জুনিয়র ডাক্তারদের প্রায় ২২ ঘণ্টা ধরে অবস্থানের পর মঙ্গলবার সন্ধেয় অবশেষে তাঁদের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক করেছেন কলকাতার পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েল। পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে দেখা করে আন্দোলকারী চিকিৎসকরা তাঁর হাতে স্মারকলিপি তথা দাবিপত্র তুলে দিয়েছেন। যাতে পষ্টাপষ্টি লেখা ছিল, কলকাতার পুলিশ কমিশনারের পদ থেকে অবিলম্বে যেন সরে যান বিনীত।
সূত্রের খবর, এর পরই লালবাজার থেকে নবান্নে যান কলকাতার পুলিশ কমিশনার। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর দেখা হয়েছে কিনা তা স্পষ্ট নয়। তবে স্বরাষ্ট্র সচিব নন্দিনী চক্রবর্তীর সঙ্গে দেখা করেছেন তিনি। এদিকে বৃহস্পতিবার আরজি করের ঘটনা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে শুনানি রয়েছে। হতে পারে সে ব্যাপারেই আলোচনা করতে গিয়েছিলেন কলকাতার পুলিশ কমিশনার। কিন্তু তিনি নবান্নে যেতেই তাঁর অপসারণ নিয়ে একটা জল্পনা শুরু হয়েছে। তবে কি আজকালের মধ্যেই কলকাতার পুলিশ কমিশনার পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হবে তাঁকে? বৃহস্পতিবার আরজি করের ঘটনা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে শুনানি রয়েছে। তার আগে নবান্ন এমন কোনও পদক্ষেপ করে কিনা তা নিয়ে ক্রমশই কৌতূহল বাড়ছে।
শাসক দলের একাধিক রাজ্য নেতা ঘরোয়া আলোচনায় অবশ্য বিনীতের প্রতি সহানুভূতিশীল। দলের এক রাজ্য নেতা এদিন বলেন, কলকাতার পুলিশ কমিশনারের হাতে তাঁরই অপসারণ চেয়ে স্মারকলিপি দেওয়ার ঘটনা বেনজির। আরও অস্বস্তিকর হয়ে উঠেছে, ২২ ঘণ্টা ধরে অবস্থান চলার পর ডাক্তারদের সঙ্গে দেখা করেছেন বিনীত।
অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, সোমবারই কেন আন্দোলনকারীদের সঙ্গে দেখা করে নিলেন না কলকাতার পুলিশ কমিশনার? তাহলে তো এতক্ষণ ধরে অবস্থান-বিক্ষোভ চলত না। কিন্তু ঘটনা হল, যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তাতে এই সব ব্যাপারে বিনীত নিজেই যে সব সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, তা নাও হতে পারে। তাঁকে হয়তো নবান্নের অনুমতি নিতে হচ্ছে।
তৃণমূলের ওই রাজ্য নেতার কথায়, ডাক্তাররা পুলিশের শিরদাঁড়া নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন ঠিকই। কিন্তু ঘটনা হল, পুলিশকে বহু সময়েই শাসক দল তথা সরকারের কথা শুনে চলতে হয়। বাম জমানাতেও এর ব্যতিক্রম ছিল না। এ ধরনের বিষয়ে আলিমুদ্দিনই সিদ্ধান্ত নিত। রিজওয়ানুর কাণ্ডের পর কলকাতার পুলিশ কমিশনারের পদ থেকে প্রসূন মুখোপাধ্যায়কে অপসারণের দাবি উঠেছিল। প্রসূন শাসক দলের আস্থাভাজন বলে পরিচিত ছিলেন। প্রথমে তাঁকে পুলিশ কমিশনারের পদ থেকে সরাতে চাননি বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। পরে আলিমুদ্দিনই তাঁকে সরানোর সিদ্ধান্ত নেয়।
এ বার লোকসভা ভোটের পর থেকেই রাজ্যে পুলিশ ও প্রশাসনে একটা বড় রদবদলের ব্যাপারে সরকারের শীর্ষস্তরে আলোচনা চলছে। সেই প্রক্রিয়া কিছুটা শুরুও করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বস্তুত সেই সময়ই কলকাতার পুলিশ কমিশনার পদে বদল নিয়েও একপ্রস্ত আলোচনা হয়। এমনকি পরবর্তী পুলিশ কমিশনার হিসাবে সম্ভাব্য দুটি মুখ নিয়ে প্রশাসনে আলোচনা ছিল। তাঁরা হলেই দুই সিনিয়র আইপিএস অফিসার পীযূষ পাণ্ডে ও রাজশেখরন।
সূত্রের খবর, আরজি কর কাণ্ড নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট কলকাতা পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলার পরও একবার নবান্নে এই মর্মে আলোচনা শুরু হয়েছিল। তার পর তা আবার থিতিয়ে যায়। এখন দেখার রাজনৈতিক দাবির মুখে পড়ে মুখ্যমন্ত্রী সত্যিই কলকাতার পুলিশ কমিশনার বদল করেন, নাকি তাঁকে এখনই না সরানোর জেদ ধরে রাখেন। কোনওটাই বিনীত গোয়েলের নিজের হাতে নেই।