
ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 15 November 2024 21:38
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভর সন্ধেয় কলকাতায় গুলি চলল। তৃণমূল কাউন্সিলর সুশান্ত ঘোষকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর চেষ্টা করে দুষ্কৃতীরা। তবে গুলি লাগেনি। অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন সুশান্তবাবু।
শুক্রবার রাত ৮টা ১০ মিনিট নাগাদ ঘটনাটি ঘটেছে কসবায় ১০৭ নম্বর ওয়ার্ডের রাজডাঙা এলাকায়। এদিন সন্ধেয় বাড়ির সামনে তৃণমূল কাউন্সিলরকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর চেষ্টা হয়। ঘটনায় একজন দুষ্কৃতীকে পিছু ধাওয়া করে ধরেও ফেলেন স্থানীয়রা। পরে অভিযুক্তকে তুলে দেওয়া হয় পুলিশের হাতে। আগ্নেয়াস্ত্র-সহ অভিযুক্তকে ধরেছে পুলিশ। ধৃতকে জেরা করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
ঘটনার প্রতিবাদে কসবায় অ্যাক্রোপলিস মলের সামনে অবরোধ শুরু করেছেন কাউন্সিলরের অনুগামীরা। তাদের বক্তব্য, ঘটনায় দ্বিতীয় অভিযুক্তকে দ্রুত ধরতে হবে এবং ঘটনার নেপথ্যে কে রয়েছে তা প্রকাশ্যে আনতে হবে পুলিশকে। তবেই অবরোধ উঠবে।
ঘটনায় চূড়ান্ত ক্ষোভ প্রকাশ করে তৃণমূল কাউন্সিলর সুশান্ত ঘোষ বলেন, "ঘটনার নেপথ্যে কে বা কারা আছে, জানি না। তবে গোটা ঘটনায় আমি ব্যথিত। কারণ, নিজের ওয়ার্ডেই আজকে আমাকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হল।"
কসবায় অ্যক্রোমলিস মলের অদূরেই তৃণমূল কাউন্সিলর সুশান্ত ঘোষের বাড়ি। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানাচ্ছেন, রাত ৮টা ১০ মিনিট নাগাদ ঘটনাটি ঘটে। বাড়ির সামনেই বসেছিলেন সুশান্তবাবু। কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলছিলেন। তখনই বাইকে করে দুজন হেলমেট পরিহিত যুবকের মধ্যে একজন বাইক থেকে নেমে সুশান্তকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর চেষ্টা করে।
তৃণমূল কাউন্সিলর সুশান্ত ঘোষ বলেন, "হঠাৎ করে একটা বাচ্চা ছেলেকে দেখলাম হেলমেট পরে আমার সামনের দিকে এগিয়ে আসতে। কাছে এসে বন্দুক বের করে দু'বার গুলি চালানোর চেষ্টা করে। কোনওভাবে বন্দুকটা লক হয়ে গিয়েছিল। তা না হলে তো এতক্ষণে আমি ডেডবডি হয়ে যেতাম।"
সুশান্ত এও বলেন, "মামুলি কোনও বন্দুক নিয়ে আসেনি। অভিযুক্ত নিজে বলেছে, তাকে সুপারি দেওয়া হয়েছিল। সবাই জানতে চায়, কে আমাকে মারতে ওই দুটি ছেলেকে পাঠিয়েছিল?" সুশান্ত এও বলেন, "আততায়ী নিজেও জানে না আমি কে। শুধুমাত্র টাকার বিনিময়ে খুন করতে এসেছিল।"
তাৎপর্যপূর্ণভাবে ঘটনার নেপথ্যে বিরোধীদের দোষারোপ করেননি তৃণমূল কাউন্সিলর। বরং তিনি বলেছেন, "না জেনে কেন বিরোধীদের দোষারোপ করব? আমি ভীত নই, তবে যেভাবে নিজের ওয়ার্ডে আমাকে আক্রমণ করা হল, তাতে আমি ব্যথিত। আগামীদিনে কাউন্সিলর থাকব কি না, সেটা সময় বলবে।"
গুলি কাণ্ডের প্রতিবাদে কসবায় পথ অবরোধ শুরু করেছেন স্থানীয়রা। ঘটনার জেরে অবরুদ্ধ ইএম বাইপাসও।