
তৃণমূল কাউন্সিলর সুশান্ত ঘোষ।
শেষ আপডেট: 16 November 2024 07:40
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শুক্রবার রাতে নিজের বাড়ির সামনে অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পান কসবার তৃণমূল কাউন্সিলর সুশান্ত ঘোষ। ফিল্মি কায়দায় পায়ে হেঁটে একেবারে সামনে এসে গুলি ছোড়ার চেষ্টা করে এক নাবালক। বন্দুক লক হয়ে যাওয়ায় গুলি বেরোয়নি, বরাতজোরে প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন সুশান্তবাবু।
ঘটনার জেরে রাতেই নিরাপত্তা বাড়ানো হয় তৃণমূল কাউন্সিলরের। পুলিশ সূত্রের খবর, এখন থেকে চারজন সশস্ত্র রক্ষী থাকবেন তাঁর সঙ্গে। এদিকে অভিযুক্তর বয়ানের ভিত্তিতে মহম্মদ ইকবালের খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ। সূত্রের খবর, গুলি কাণ্ডের নেপথ্যে স্থানীয় যোগ উড়িয়ে দিচ্ছে না পুলিশ।
ঘটনার প্রতিবাদে শুক্রবার রাতে কসবায় অ্যাক্রোপলিস মলের সামনে রাজডাঙা রোড অবরোধ করেন স্থানীয়রা। দীর্ঘ অবরোধে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে ইএমবাইপাস। ক্ষুব্ধ সুশান্ত এও বলেন, "আমি ভীত নই, তবে যেভাবে নিজের ওয়ার্ডে আমাকে আক্রমণ করা হল, তাতে আমি ব্যথিত। আগামীদিনে কাউন্সিলর থাকব কি না, সেটা সময় বলবে।"
সূত্রের খবর, রাতে টেলিফোনে সুশান্তর সঙ্গে কথা বলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ঘটনার বিস্তারিত খোঁজখবর নিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার রাত ৮টা ১০ মিনিট নাগাদ ঘটনাটি ঘটেছে কসবায় ১০৭ নম্বর ওয়ার্ডের রাজডাঙা এলাকায়। এদিন সন্ধেয় বাড়ির সামনে তৃণমূল কাউন্সিলর সুশান্ত ঘোষকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর চেষ্টা হয়। ঘটনায় একজন দুষ্কৃতীকে পিছু ধাওয়া করে ধরেও ফেলেন স্থানীয়রা।
পরে অভিযুক্তকে তুলে দেওয়া হয় পুলিশের হাতে। আগ্নেয়াস্ত্র-সহ অভিযুক্তকে ধরেছে পুলিশ। ধৃতকে জেরা করে অপর দুষ্কৃতীর খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ।
কে এই অভিযুক্ত? জানা যাচ্ছে, বছর ১৬র এই অভিযুক্তর বাড়ি ভিনরাজ্যে। হিন্দিভাষী ওই নাবালক ধরা পড়ার পর জানায়, "আমাকে মহম্মদ ইকবাল পাঠিয়েছিল। কাকে মারতে হবে তার ছবি সঙ্গে দিয়েছিল। এর বেশি কিছু জানি না।"
ঘটনার নেপথ্যে দলেরই একাংশ যুক্ত থাকতে পারে বলে মত সুশান্তর অনুগামীদের। তাৎপর্যপূর্ণভাবে ঘটনার নেপথ্যে বিরোধীদের দোষারোপ করেননি তৃণমূল কাউন্সিলর। বরং তিনি বলেছেন, "না জেনে কেন বিরোধীদের দোষারোপ করব?"