
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও ফিরহাদ হাকিম।
শেষ আপডেট: 14 November 2024 20:23
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাসের রেষারেষি বন্ধে একগুচ্ছ পদক্ষেপ নিল সরকার।
এবার থেকে নিজেদের মর্জি মতো বেসরকারি বাস চালানো যাবে না। মানতে হবে নির্দিষ্ট টাইমটেবিল। বেপরোয়া চালকদের শায়েস্তা করতে এখন থেকে শহরের সব রাস্তায় বসানো হবে স্পিড ব্রেকার। থাকবে সিসিটিভি নজরদারিও। নিয়ম ভাঙলে বাতিল হবে সংশ্লিষ্ট চালকের লাইসেন্স। এজন্য দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকায় বাড়তি ট্রাফিক পুলিশ মোতায়েন করা হবে।
মঙ্গলবার সল্টলেকে দু’টি বাসের রেষারেষিতে মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছিল চতুর্থ শ্রেণির এক ছাত্রের। মায়ের সঙ্গে স্কুটিতে চেপে স্কুল থেকে ফিরছিল শিশুটি। ওই ঘটনায় ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী সব পক্ষকে নিয়ে অবিলম্বে রাজ্যের পরিবহণ মন্ত্রীকে বৈঠক ডাকার নির্দেশ দিয়েছিলেন। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে বৃহস্পতিবার দুপুরে বসেছিল প্রশাসনিক বৈঠক।
পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরে মন্ত্রী তথা কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিমের নেতৃত্বে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পরিবহণ মন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তী, রাজ্য পুলিশের ডিজি, পরিবহণ সচিব, কলকাতার পুলিশ কমিশনার, জয়েন্ট সিপি ট্রাফিক, সিপি বিধাননগর এবং ট্রাফিক পুলিশের কর্তারা। বৈঠকে হাজির ছিলেন বাস সংগঠনের সদস্যরাও। সেখানে বাসের রেষারেষি নিয়ে একগুচ্ছ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
শহরবাসীর অভিযোগ, কমিশনের লোভে চালকেরা বাস রেষারেষি করে চালান। তারই জেরে দুর্ঘটনা বাড়ছে। এ প্রসঙ্গে ববি বলেন, "কমিশনের লোভে রেষারেষি করে বাস দৌড়ানো আর বরদাস্ত করা হবে না। এবার থেকে ট্রাফিক মনিটরিং সিস্টেম থাকবে। সেই অনুযায়ী বাস চলবে। জিপিএস সিস্টেম চালু করা হচ্ছে, যাতে বাসের মুভমেন্টও দেখা যায়। আইন ভাঙলে বাতিল করা হবে লাইসেন্স।"
সূত্রের খবর, এদিন বৈঠক চলাকালীনও দু'বার ফিরহাদকে ফোন করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। বৈঠকে বিস্তারিত বিষয়ে খোঁজখবর নেন মুখ্যমন্ত্রী।
বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, কোন রুটে কতগুলি বাস চলছে তা সমীক্ষা করে দেখা হবে। সেই মতো নির্দিষ্ট সময় গ্যাপে বাস চালানোর সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হবে। এছাড়াও একটি অ্যাপ চালু করা হচ্ছে। যেখানে সেভ লাইফ সেফ ড্রাইভ নিয়ে সচেতনতার প্রচার করা হবে। থাকবে ট্রাফিক নিয়মাবলিও। শহরের যে সব রাস্তায় সিসিটিভি নেই সেখানেও বসানো হবে ক্যামেরা। নিয়মিত নজরদারি চালানো হবে। এছাড়াও পথ নিরাপত্তায় প্রতি মাসে পরিবহণ বিভাগের তরফে 'সেফ ড্রাইভ সেভ লাইফ' এর একটি কর্মসূচি করা হবে।