
শেষ আপডেট: 14 February 2024 21:33
প্রতিবারের মতো এবারেও তৃণমূল ভবনে সরস্বতী পুজো করলেন খড়দহের প্রবীণ বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। দলের অন্দরে তিনি অবশ্য তৃণমূলের পুরোহিত হিসেবেই পরিচিত।
১৯৯৮ সালে দলের জন্মলগ্ন থেকেই তৃণমূলের যেকোনও পুজোপাঠ করে থাকেন শোভনদেব। ৮০ বছর বয়সেও এবারে তার অন্যথা হল না। মঙ্গলবার সন্ধেয় তৃণমূল ভবনে পৌঁছে বাগদেবীর পুজোর যাবতীয় আয়োজন সেরে রেখে এসেছিলেন। বুধবার সকাল ৯.৪০ মিনিটে পার্টি অফিসে পৌঁছন একদা রাজ্যের বক্সিং চ্যাম্পিয়ন শোভনদেব।
পুজো, হোম, আরতি এবং পুষ্পাঞ্জলি- সব শেষ করতে ঘড়ির কাঁটা সওয়া ১২টা পেরিয়েছে। দলের একাধিক মন্ত্রী, সাংসদ, বিধায়ক এবং নেতা, কর্মীরা আগে থেকেই পাটি অফিসে হাজির হয়েছিলেন পুরোহিত মশাইয়ের পুজো দেখতে।
দক্ষিণা কত পেলেন? লাজুক কণ্ঠে বর্ষীয়ান শোভনদেব বলেন, “পুজো করি মনের আনন্দে। দক্ষিণা কোনও ফ্যাক্টর নয়। আমাকে এক আনা দিলেও নেব। তবে পার্টির পক্ষ থেকে এবারে ৫০০ টাকা দিয়েছে। পুষ্পাঞ্জলি মিলিয়ে সবশুদ্ধ প্রায় ২ হাজার টাকা পেয়েছি।”
কলকাতা পুরসভার কর্মী ছিলেন শোভনদেব। তৃণমূল কংগ্রেসের শ্রমিক সংগঠন আইএনটিটিইউসি-র প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি তিনিই। ট্রেড ইউনিয়ন করতে সমস্যা হবে বলে চাকরি জীবনে কখনও প্রোমোশন নেননি। তবে তৎকালীন পদস্থ কর্তাদের অনুরোধে অবসরের সাতদিন আগে পুরসভার চিফ সিকিউরিটি অফিসারের দায়িত্বভার গ্রহণ করেছিলেন তিনি।
বলছিলেন, “১২ বছর বয়স থেকে পুজো করে অভ্যস্ত। সেজন্য ছোটবেলা থেকেই হাতখরচের জন্য কখনও বাবার কাছে হাত পাততে হয়নি।“
কথা প্রসঙ্গে স্মৃতির সাগরে ডুব দেন তৃণমূলের প্রথম নির্বাচিত বিধায়ক। বলছিলেন, “ক্লাস সিক্সে পড়ার সময় থেকে পুজোপাঠের সঙ্গে যুক্ত। বাবার সঙ্গে দুর্গাপুজোয় তন্ত্রধারকের কাজ করেছি।”
বিজ্ঞান ও আইনবিদ্যায় ডিগ্রিধারী শোভনদেবের দেশবাড়ি হুগলির হরিপালে। ৮০ বছর বয়সেও হাজরায় বাড়ির দুর্গাপুজোয় মায়ের অষ্টমীর আরতি করেন তিনি নিজেই।
তবে এখন আর টানা দাঁড়িয়ে কিংবা বসে পুজো করতে পারেন না। সেজন্য মাঝে মধ্যে চেয়ারে বসেও পুজো করেন। যেমনটা এদিন তৃণমূল ভবনে দেখা গেল। শোভনদেবের কথায়, “ছোটবেলায় শিরদাঁড়ায় চোট লেগেছিল। সেই ব্যাথাটা এখন বাড়ছে।”
তরুণ বয়সে অবশ্য বক্সিংয়ে রাজ্য তো বটেই সারা দেশ কাঁপিয়েছেন হুগলির হরিপালের তরুণ। ৬৪ সালে বক্সিংয়ে ইন্ডিয়ার যুবদলের ক্যাপ্টেন ছিলেন তিনি। তিন তিনবার ইন্টার কলেজ চ্যাম্পিয়নও হয়েছেন। আশুতোষ কলেজের প্রাক্তনীর ঝুলিতে রয়েছে পর্বতারোহীর শংসাপত্রও। ফি-বারের মতো এবারেও স্রেফ লিকার চা খেয়ে দিব্যি একটা বেলা কাটিয়ে দিলেন তিনি।
পার্টি অফিসের পুজো সেরে দুপুর একটা নাগাদ বাড়ি ফিরে অল্প ভাত-তরকারি খেয়ে ফের হাজরায় স্থানীয় পার্টি অফিসে পৌঁছন। সেখানকার পুজোতে মায়ের ভোগ হিসেবে ছিল খিচুড়ি। তবে ইচ্ছে থাকলেও শরীরের কথা ভেবে তা আর খাননি তৃণমূলের পুরোহিত।