
সাঁকরাইল ব্লক তৃণমূলের সভাপতি অমৃত বসু ও শিক্ষামন্ত্রীর ছবি
শেষ আপডেট: 2 March 2025 14:35
তৃণমূলের (TMC) বহু নেতা, মন্ত্রী, কাউন্সিলর, সভাপতির ছেলে সক্রিয়ভাবে জোড়াফুলের সদস্য। কেউ কেউ আবার সৌভাগ্যক্রমে সাংসদ, কাউন্সিলরও হয়ে গিয়েছেন। কিন্তু তৃণমূল নেতার ছেলে বামপন্থী রাজনীতি করেন বা এসএফআইয়ের (SFI) সক্রিয় সদস্য এমন উদাহরণ বিরল।
শনিবার বিকেলে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে (Jadavpur University) ধুন্ধুমারের ঘটনা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় পড়ে গিয়েছে। সেই ঘটনায় শিক্ষা মন্ত্রী ব্রাত্য বসুর (Bratya Basu) গাড়িতে ভাঙচুর হয়েছে। তিনি আহত হয়েছে। আবার মন্ত্রীর গাড়ির সামনে বিক্ষোভ দেখাতে গিয়ে দুই বাম ছাত্র আহত হয়েছেন। এঁদের একজনের উপর দিয়ে শিক্ষা মন্ত্রীর গাড়ি চলে গেছে। তাঁর নাম ইন্দ্রানুজ রায়। তিনি অতি বাম সংগঠন আরএসএফের সদস্য বলে জানা গিয়েছে। আর এক ছাত্রের পায়ের উপর দিয়ে তৃণমূল সমর্থিত অধ্যাপক ওমপ্রকাশ মিশ্রের গাড়ির চাকা চলে গিয়েছে বলে অভিযোগ। তাঁর নাম অভিনব বসু (Abhinabha Basu)। তিনি এসএফআইয়ের সক্রিয় সদস্য বলে জানা গিয়েছে। তাঁদের দুজনকেই প্রথমে কেপিসি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ইন্দ্রানুজের চোট গুরুতর। তাঁকে কেপিসিতেই ভর্তি করা হয়েছে। অভিনবকে পরে কিড স্ট্রিটে ইরান সোসাইটিতে ভর্তি করা হয়েছে।
জানা গিয়েছে, এই অভিনব বসু সাঁকরাইল ব্লক তৃণমূলের সভাপতি অমৃত বসুর ছেলে। এদিন সন্ধেয় তাঁকে ফোন করা হলে অমৃত বসু অবশ্য স্বীকার করতে চাননি যে তাঁর ছেলে এসএফআই করেন বা চোট-আঘাত পেয়েছেন। তিনি বলেন, “আমার ছেলে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে। এখন হস্টেলেই পড়াশুনা করছে”। স্থানীয় তৃণমূল বিধায়ক প্রিয়া পাল আবার বলেন, তিনি অমৃত বসুর পরিবার বা যাদবপুরের ঘটনা নিয়ে কিছু জানেন না।
ছেলের রাজনৈতিক সত্ত্বা বাবা মানতে বা স্বীকার করতে রাজি হননি ঠিকই। কিন্তু হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা করানোর সময়ে দ্য ওয়ালকে অমৃত বসুর ছেলে অভিনব বসু বলেন, “হ্যাঁ বাবা তৃণমূল করেন। বাবা আমাকে নিয়ে কী বলেছেন জানি না। তবে আমি এসএফআই করি। বামপন্থী রাজনীতির দর্শনে বিশ্বাস করি। সক্রিয় ভাবে রাজনীতিটা করি।”
দ্য ওয়ালকে অভিনব আরও জানান, শিক্ষা মন্ত্রী ব্রাত্য বসুর গাড়ি ধাক্কায় তিনি আহত হননি। তাঁর পায়ে ধাক্কা মেরেছে ওমপ্রকাশ মিশ্রর গাড়ি। ব্রাত্য বসুর গাড়ি ঠিক তার পিছনেই ছিল। এসএফআইয়ের এই তরুণ সদস্যের কথায়, আমার পায়ে বিশেষ করে হাঁটুতে চোট লেগেছে।
শনিবার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ফের অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি। শনিবার তৃণমূলপন্থী অধ্যাপক সংগঠন ওয়েবকুপার বার্ষিক সাধারণ সভার মধ্যেই ছাত্র সংসদের নির্বাচনের দাবিতে বিক্ষোভ দেখায় এসএফআই। আন্দোলনের জেরে ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়ায়। অভিযোগ, শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে, লুকিং গ্লাস ও উইন্ড- স্ক্রিন ভাঙা হয়েছে। গাড়ির বনেটে ছোড়া হয়েছে জুতো।
এদিন ক্যাম্পাসে প্রবেশের সময় থেকেই পড়ুয়াদের প্রতিবাদের মুখে পড়েন শিক্ষামন্ত্রী। তুমুল স্লোগান দিতে থাকেন বামপন্থী ছাত্ররা। পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে, শিক্ষামন্ত্রীর গাড়ির চাকার হাওয়া খুলে দেওয়া হয়। এরপরই শুরু হয় ব্যাপক ভাঙচুর। শিক্ষামন্ত্রীর নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গেও হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়ে আন্দোলনকারীরা। পরে শিক্ষা মন্ত্রী বলেন, “আমার গাড়ি ভেঙে দেওয়া হয়েছে, নিরাপত্তারক্ষীদের ওপর হামলা হয়েছে। বারবার উপাচার্য বলেছিলেন ক্যাম্পাসে পুলিশ ডাকতে, কিন্তু আমি তা চাইনি।’’
ছাত্র সংসদ নির্বাচনের দাবিতে শনিবার সকাল থেকেই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ শুরু করেছিল এসএফআই। ওয়েবকুপার সভায় শিক্ষামন্ত্রীর উপস্থিতি ঘিরেই মূলত এই প্রতিবাদ। বিক্ষোভ চলাকালীন বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপেন এয়ার থিয়েটারে শিক্ষামন্ত্রীর বক্তৃতা শুরু হতেই পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যায়। আন্দোলনকারীরা ব্যানার হাতে নিয়ে কার্নিশে উঠে পড়েন। ২ নম্বর গেটের সামনেও ধুন্ধুমার পরিস্থিতি তৈরি হয়। শুরু হয় বোতল ও চেয়ার ছোড়াছুড়ি। উত্তেজনার মাঝে আক্রান্ত হন বেশ কয়েকজন অধ্যাপকও।
Posted by Abhinaba Basu on Friday 28 February 2025
এরপর শিক্ষামন্ত্রীর সভা থেকে বেরনোর সময় ফের চরম নাটকীয় পরিস্থিতি তৈরি হয়। গাড়িতে উঠতেই শিক্ষামন্ত্রীর পথ আটকায় বিক্ষোভকারীরা। বনেটে চড় মারা হয়, এমনকি ছোড়া হয় জুতো। দীর্ঘক্ষণ এই পরিস্থিতির পর কোনওক্রমে ক্যাম্পাস ছাড়েন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু। তারপরই সোজা এসএসকেএম হাসপাতালে চলে যান তিনি।
এই হিংসাত্মক বিক্ষোভের মাঝেই রক্তাক্ত হন দুই আন্দোলনকারী। তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন এই এসএফআই নেতা তথা তৃণমূল নেতার ছেলে অভিনব বসু।