
সজল ঘোষ ও অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 18 January 2025 18:41
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাঘাযতীনে বহুতল ধসে পড়ার ঘটনায় এমনিতেই এক প্রকার ফাঁপরে পড়েছে কলকাতা পুরসভা। যার পরিচালনার গুরুভাগ দায়িত্ব তৃণমূলের ওপর। সেই আবহেই গতকাল বিজেপির ৫০ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সজল ঘোষ অভিযোগ তোলেন ১০৯ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'বেআইনি' ভাবে 'হাতি বাড়ি' তৈরি করে রেখেছেন। সেই ছবি গুছিয়ে-গাছিয়ে বৃহস্পতি বিকেলে সাংবাদিক বৈঠকও করেন।
শুক্রবার খানিকটা সেই ঢঙেই এবার পাল্টা সজল ঘোষ থুড়ি 'মিডিয়াবাবু'র বাড়ির কাগজপত্র নিয়ে কর্পোরেশন অফিসে এসে উপস্থিত তৃণমূল কাউন্সিলর। দ্য ওয়ালের মুখোমুখি হয়ে অনন্যা বলেন, 'এটা দেখে শেখা'। বিজেপি কাউন্সিলরের বাড়ির ছবি দেখিয়ে অভিযোগ করেন, 'উনি এত অভিযোগ করছেন অথচ দেখুন তাঁরই বাড়ির কোনও ছাড় নেই। ঘোষবাবু আর কর্মকারবাবুর বাড়ির মধ্যে কোনও ছাড় নেই। ছাড় ছাড়া বাড়ি হয় বুঝি? যদি ধরেও নিই যে পুরনো বাড়ির ক্ষেত্রে হয়, তাহলে বলে রাখি একই ভাবে '৯৬ সালের বাড়ি আমি কিনেছিলাম। যেটা সিঁড়ি করতে গিয়ে ভেঙে পড়ায় আমাকে নতুন সিঁড়ি তইই করিয়ে রেগুলার করতে হয়। মিডিয়াবাবুর বাড়ির ওপরে আবার দুটো ফ্লোর রয়েছে। এগুলো খবর নিয়ে দেখলাম রেগুলার করেছেন। তারমানে ভেঙে ফেলার অর্ডার ছিল!'
এখানেই প্রশ্ন উঠছে সজল ঘোষ যেমন অনন্যার বিরুদ্ধে আদালতে যাওয়ার কথা বলেছেন, তাহলে কি একই ভাবে বিজেপি কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে অনন্যাও আদালতের দ্বারস্থ হবেন? সোজাসুজি সেই প্রশ্নে উত্তরে তৃণমূল কাউন্সিলর বলেন, 'আমার বিরুদ্ধে উনি আইনি পদক্ষেপ নিলে খুশিই হই। আমার কাছে যে কাগজপত্র আছে সেগুলো পরিষ্কার করে তুলে দিয়েছি। একটা জায়গায় সমস্যা হয়েছে, তা হল গুরুতর হিংসা। এর তো কোনও ওষুধ নেই ভাই আমার কাছে। আমি শিল্পী মানুষ। আমার বাড়ির সামনে হাতির মতো ফাইবার গ্লাসের এলিভিশন করেছি, তাতেও ওঁর জ্বালা। মিডিয়াবাবুকে ধন্যবাদ একটা হোয়াইট পাবলিসিটি দেওয়ার জন্য। যাঁরা ইনসাইডার, তাঁদের বলব, তথ্যটা দিতে ভুল করে ফেলেছেন। নির্বাচন এখনও এক বছর বাকি।'
সজলের বক্তব্য ছিল, ওই বাড়িটি নিয়ে পুরসভায় অভিযোগ জমা পড়েছিল। বিল্ডিং বিভাগ থেকে গত বছরের জুন মাসে বাড়িটির 'অবৈধ' অংশ ভেঙে ফেলার নির্দেশও জারি হয়েছিল। কিন্তু অনন্যা 'প্রভাব' খাটিয়ে বাড়িটির বেআইনি অংশ ভেঙে ফেলার নির্দেশটি স্থগিত করিয়ে দিয়েছেন। বিজেপি নেতার এহেন বক্তব্যে অনন্যা গতকালই দ্য ওয়ালকে বলেছিলেন কাগজই শেষ কথা বলবে। আজও বললেন, 'আমার বাড়ির সিঁড়িটি যখন ভেঙে পড়ে তখন নতুন সিঁড়ি আর লিফটের জন্য অর্ডার করা হয় তখন মেয়র সাহেবকে জানিয়েছি, এমএমআইসি-কে জানিয়েছি, বিল্ডিং ডিপার্টমেন্টকে জানিয়েছি। বাড়ির স্টেবিলিটি, লিফটের জায়গাগুলো নিয়ে বহুবার ইনসপেকশন হয়েছে। আমি নিজে যেহেতু জনপ্রতিনিধি সেই জন্য আরও বেশি করে ব্যাপারটা পরিষ্কার থাকা উচিত ছিল। তাই করেছি।'
বিজেপি কাউন্সিলর তথা দলের সভানেত্রী মীনা দেবী পুরোহিত জানিয়েছিলেন, আজকের কলকাতা পুরসভার এই বিষয় নিয়ে স্বয়ং মেয়রের কাছেই জানতে চাইবেন। মনে করা হয়েছিল, সরগরম থাকবে মাসিক অধিবেশন। থাকল বটে, তবে চর্চায় এবার ঢুকে গেল সজল ঘোষের বাড়ির প্রসঙ্গও।