
গ্রাফিক্স- দ্য ওয়াল।
শেষ আপডেট: 20 February 2025 14:20
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সরকারি গোডাউন থেকে চুরি হয়ে গিয়েছিল প্রাথমিকের ২ লক্ষ বই। যার বাজার মূল্য প্রায় ৩ কোটি টাকা।
২০২২ সালের ওই ঘটনায় জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের রিপোর্টে সন্তুষ্ট নয় কলকাতা হাইকোর্ট। প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানমের ডিভিশন বেঞ্চ ওই মামলায় বৃহস্পতিবার সিআইডি তদন্তের নির্দেশ দিল।
প্রধান বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, 'কারও একার পক্ষে এভাবে কোটি টাকার বই চুরি সম্ভব নয়। এর নেপথ্যে নিস্চয়ই বৃহত্তর ষড়যন্ত্র রয়েছে।"
আদালত সূত্রের খবর, ২০২২ সালের নভেম্বর মাসে ইসলামপুর সার্কেলের এস আই (স্কুল ইনন্সপেকটর) অফিসের গোডাউন থেকে প্রায় ২ লক্ষ বই চুরি হয়ে যায়। যার বাজার মূল্য ৩ কোটি টাকা। ২ ডিসেম্বর এ ব্যাপারে ইসলামপুর থানায় অভিয়োগ দায়ের করা হয়েছিল। তদন্তে নেমে গোডাউনের দায়িত্বে থাকা গণেশ মণ্ডল নামে এক ব্যাক্তিকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ধৃতকে জেরা করে পরে আরও একজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে ওই দু'জন জামিনও পেয়ে যায়। বই চুরির মামলায় চলতি বছরের ৩০ নভেম্বর আদালতে চার্জশিটও পেশ করে পুলিশ।
এ ব্যাপারে আদালতে একটি মামলা দায়ের হয়। অভিযোগ, প্রথম শ্রেণি থেকে চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত বাংলা, ইংরেজি-সহ প্রায় ৩ কোটি টাকার যে বই চুরির কথা হচ্ছে, সেই বই আদৌ গোডাউনে আনা হয়নি। বাইরে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছিল। এর পেছনে বড় চক্র রয়েছে বলে আদালতে দাবি করেন আবেদনকারীর আইনজীবী দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায়।
আদালতে তিনি বলেন, "ঘটনার পর প্রায় দুবছর অতিক্রান্ত। কিন্তু প্রকৃত দোষী বা এর পেছনে কারা রয়েছে তা এখনও স্পষ্ট করে বলতে পারেনি পুলিশ। তাছাড়া গোডাউন থেকে এই বিপুল পরিমাণ বই শুধু দু'জনের পক্ষে সরানো সম্ভব নয়। এর নেপথ্যে বড় চক্র রয়েছে। নিরপেক্ষ তদন্তকারী সংস্থা দিয়ে তদন্ত করানো হোক।"
এরপরই ঘটনার সময় উত্তর দিনাজপুর জেলা প্রাইমারি শিক্ষা সংসদ কী পদক্ষেপ নিয়েছিল, আদালতে সেই রিপোর্ট পেশ করার নির্দেশ দিয়েছিল প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ। রিপোর্টে সন্তুষ্ট না হওয়ায় এদিন সিআইডি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।