.jpeg)
ট্যাংরা হত্যাকাণ্ড।
শেষ আপডেট: 25 February 2025 10:44
চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটি (CWC)-র পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যেহেতু কিশোরের বাবা ও কাকা দুজনেই জীবিত, তাই তাকে এখনই হোমে পাঠানো সম্ভব নয়। তবে তার পরিবারের কেউ যদি দায়িত্ব নিতে অস্বীকার করে, তাহলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এখনও পর্যন্ত চলা তদন্তে উঠে এসেছে, মূলত অর্থনৈতিক সংকটে পড়েই দে পরিবার চরম সিদ্ধান্ত নেয়। জানা গেছে, তারা ছ'টি সংস্থা থেকে ১৫ কোটিরও বেশি ঋণ নিয়েছিল। ব্যবসায় ভরাডুবির জেরেই সপরিবার মৃত্যুর পরিকল্পনা করেছিল তারা।
জানা গেছে, ঘটনার দু’দিন আগেও দে পরিবারের সদস্যরা প্রতিদিন পায়েস খেয়েছিলেন, যাতে তুলসি পাতা মেশানো ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, সন্তানদের সন্দেহ এড়াতেই এই পরিকল্পনা করা হয়েছিল। শেষতম রাতে, ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে দেওয়া হয় খাবারে, যাতে সবাই নিস্তেজ হয়ে পড়ে। কিন্তু কিশোর জানিয়েছে, পরেরদিন সকালে সে ঘুম থেকে উঠে দেখে, তার মা ও কাকিমা শয্যায় নিথর পড়ে আছেন, দিদিরও সাড়া নেই।
পুলিশের তদন্ত অনুযায়ী, প্রথমে কিশোরের হাতের শিরা কাটার চেষ্টা করেছিলেন প্রসূন দে। কিন্তু কিশোর কান্নাকাটি শুরু করায় তারা থেমে যান। এরপর সম্ভবত দুই স্ত্রীর শিরা কাটা হয়। তদন্তকারীরা নিশ্চিত, ১৮ ফেব্রুয়ারি সকালেই এই ঘটনা ঘটে।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, দে পরিবারের চারতলা বাড়ির দু'টি ফ্রিজে যেখানে প্রচুর খাবার মজুত ছিল। তাহলে কি তাঁরা দীর্ঘদিন বাড়ির ভেতরেই থাকার পরিকল্পনা করেছিল? এছাড়াও, প্রণয় দে নিয়মিত ঘুমের ওষুধ কিনতেন। ধারণা করা হচ্ছে, সেই ওষুধই খাবারে মিশিয়ে পরিবারের সদস্যদের অচেতন করা হয়েছিল। পুলিশ এখন এলাকার ওষুধের দোকানগুলোতেও খোঁজ নিচ্ছে।
এদিকে, দুই ভাই, প্রসূন ও প্রণয়ের বয়ানে অসঙ্গতি ধরা পড়ছে বলে জানিয়েছে লালবাজার। তাদের একসঙ্গে বসিয়ে জিজ্ঞাসাবাদও করা হবে।
কিন্তু সবকিছুর পরেও সবচেয়ে করুণ প্রশ্ন রয়ে যাচ্ছে, ওই কিশোরের ভবিষ্যৎ নিয়ে। পরিবারের কেউ যখন তাকে দেখতে পর্যন্ত আসছে না, তখন তার দায়িত্ব কে নেবে, বাবা-কাকার শাস্তি হলে কি শেষমেশ হোমেই ঠাঁই হবে তার? সেই নিয়েই চলছে চিন্তাভাবনা।