
সুপ্রিম কোর্ট
শেষ আপডেট: 20 August 2024 08:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রবিবার বিকেলে যুবভারতী স্টেডিয়ামের সামনে ইস্টবেঙ্গল ও মোহনবাগান সমর্থকদের প্রতিবাদ মিছিলের ছবি একটা টাটকা। সেই মিছিলের উপর পুলিশি লাঠি চার্জ ও তাদের কয়েকজনকে প্রিজন ভ্যানে তোলার ছবিও দেখা গিয়েছে।
মঙ্গলবার সরাসরি সে প্রসঙ্গ না তুললেও সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড় জানিয়ে দিলেন, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ আটকাতে রাষ্ট্র যেন কোনও ক্ষমতা বা বল প্রয়োগ না করে। তা সে চিকিৎসকদের আন্দোলন হোক বা নাগরিক সমাজের আন্দোলন।
রবিবার যুবভারতীতে ইস্টবেঙ্গল-মোহনবাগানের ডার্বি ম্যাচ ছিল। নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে সেই ম্যাচ বন্ধ করে দেওয়ায় ফুঁসতে থাকে মহানগর। এমনকি শাসক দলের মধ্যে থেকেও এ নিয়ে প্রতিক্রিয়া হয়। তবে ম্যাচ বাতিল হলেও ইস্টবেঙ্গল ও মোহনবাগানের সমর্থকরা সেদিন যুবভারতীতে পৌঁছে যান। কারণ, তাঁদের স্লোগান ছিল ‘দুই প্রধানের এক স্বর/জাস্টিস ফর আরজি কর’।
যুবভারতীর সামনে সেই উজ্জীবিত ও সমষ্টিগত প্রতিবাদকে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ প্রথমে লাঠি চালায় বা লাঠি উঁচিয়ে যায়। এমনকি রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে থাকা স্থানীয় মানুষকেও ঘরে ঢুকে যেতে বলে। কিন্তু শেষমেশ দেখা যায়, প্রতিবাদের মুখে পড়ে পুলিশ লাঠি চার্জ থেকে বিরত হয়েছে। এমনকি প্রিজন ভ্যান ঘিরে ধরে দুই দলের সমর্থকরা আটকদের নামিয়েও নেয়।
দিনের শেষে দেখা যায়, ফেসবুকে পোস্ট হতে শুরু করেছে যে—রাষ্ট্রকে দশ গোলে হারাল মোহনবেঙ্গল। অর্থাৎ এই ধারণা অনেকের মধ্যে তৈরি হয়ে যায়, প্রতিবাদকে রুখে দিতে চেয়েছিল রাষ্ট্র। কিন্তু তা তারা পারেনি। অনেকের মতে, সরকারের উদ্দেশ্যও প্রতিবাদকে রুখে দেওয়া ছিল না। কিন্তু যেভাবে পুলিশি ব্যবস্থা সাজানো হয় তাতেই এহেন ধারণা তৈরি হয়েছে।
সেদিক থেকে এদিন সর্বোচ্চ আদালতের প্রধান বিচারপতি যে কথা বলেছেন, তা তাৎপর্যপূর্ণ। আরজি করের ঘটনা নিয়ে যে স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদ গোটা রাজ্য তথা দেশে হচ্ছে তা বিচারব্যবস্খাও দেখতে পাচ্ছে। সর্বোচ্চ আদালত এদিন জানিয়েছে, সব মানুষেরই শান্তিপূর্ণ ভাবে প্রতিবাদের অধিকার রয়েছে। তা যেন রাষ্ট্র তার ক্ষমতা দিয়ে দমন করতে না যায়।