
সুকান্ত মজুমদার
শেষ আপডেট: 17 April 2025 15:43
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ওয়াকফ সংশোধনী আইনের (Waqf Amendment Act) প্রতিবাদে যে হিংসা, অশান্তির ছবি মুর্শিদাবাদে দেখা গেছে তার কোনওটাই স্বতঃস্ফূর্ত জনরোষের কারণে নয়। বরং সেখানকার সূতি, ধুলিয়ান ও সামশেরগঞ্জের বিভিন্ন অংশকে 'উপদ্রুত' বানানোর ব্লু-প্রিন্ট তিন মাস ধরেই তৈরি হয়েছিল। তদন্ত করে নাকি গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন, শুধু একটা উপলক্ষ্যের সুযোগের অপেক্ষায় ছিল, সেই ইস্যুই 'ওয়াকফ'। তাই যদি হয়, তাহলে সব জানার পরেও কেন আগে থেকে কোনও পদক্ষেপ করল না পুলিশমন্ত্রীর (Mamata Banerjee) গোয়েন্দারা? প্রশ্ন রাখলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার (Sukanta Majumder)।
বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজ্যপালের সঙ্গে মুর্শিদাবাদের ঘরছাড়াদের সাক্ষাৎ করিয়ে, সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন সুকান্ত। তখনই ধরে ধরে পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে কাঠগড়ায় দাঁড় করালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুলিশ প্রশাসনকে। তাঁর প্রশ্ন, "পুলিশের গোয়েন্দাবিভাগ বলে তো একটা বিভাগ ছিল। তারা কী করছিল? সবই তো শুনলাম ওরা জানত, বলেছে তিন মাস ধরে মুর্শিদাবাদে অশান্তির ছক কষা হয়েছে। তুরস্ক থেকে নাকি টাকা এসেছে। তা যদি এতদিন ধরে ছক করা হয়েই থাকে, তাহলে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর তত্ত্বাবধানে থাকা গোয়েন্দা বিভাগ কী করছিল? ওয়েব সিরিজ বানাচ্ছিল? নাকি বসে বসে ফ্যাক্ট চেক করছিল? ওদের তো এখন কাজই হচ্ছে ফ্যাক্ট চেক করা।
মুর্শিদাবাদের ঘরছাড়াদের পাশে দাঁড় করিয়ে বিজেপির রাজ্য সভাপতি মনে করিয়ে দেন, "এঁরা মুখ্যমন্ত্রীর উপর ভরসা রেখেছিলেন। কিন্তু তার পর কী হল? পুলিশের সামনেই ঘর লুট হল, নির্যাতনের শিকার হলেন। এর দায় কার তাহলে?"
বস্তুত, দু'দিন আগে খবর হয়েছিল, মুর্শিদাবাদের ওই তিন অংশে যে কায়দায় হিংসাত্মক ঘটনাগুলি ঘটানো হয়েছে, তাতে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক 'বিশৃঙ্খলার' ছাপ স্পষ্ট। এমনকী গত শুক্রবার হাঙ্গামার দিনও 'দিকনির্দেশ' করতে সীমান্তের ওপার থেকে ৩০টির বেশি ফোন এসেছে জঙ্গিপুর মহকুমায়।
শুধু তাই নয়, গোয়েন্দাদের দাবি, আন্দোলনকে ‘ঢাল’ করে কীভাবে হিংসাশ্রয়ী হতে হবে, তার নির্দেশ দেওয়া আরও ৭০টি ‘ঘরোয়া’ মোবাইল কলকে ইতিমধ্যেই চিহ্নিত করা হয়েছে। এমন ৫০ জনের হদিশ তদন্তকারীরা পেয়েছেন, যারা এই হাঙ্গামার পরিকল্পনায় যুক্ত ছিল।
জানা গিয়েছিল, রেললাইনের পাথর মজুত করা, দোকানপাট লুট, বাছাই করে কিছু বসত বাড়িতে হামলা, সরকারি সম্পত্তি ধ্বংস, অগ্নিসংযোগ, সড়ক ও রেল যোগাযোগ থমকে দেওয়া—সবই পূর্ব পরিকল্পিত।
এবার সেই নিয়েই মুখ খুললেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার।