
ফাইল চিত্র
শেষ আপডেট: 19 March 2025 15:19
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ট্যাংরা কাণ্ডের (Tangra Triple Death) প্রায় ১ মাস পেরিয়ে গেছে। কী ঘটনা ঘটেছে তাও স্পষ্ট হয়েছে। পরিবারের তিন সদস্যকে খুন করার অভিযোগ দে পরিবারের ছোট ভাই প্রসূনের বিরুদ্ধে। তাঁকে নিয়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণও করেছে পুলিশ। কিন্তু এই ঘটনায় বেঁচে যাওয়া কিশোরের (Minor Boy) কী হবে, তা এখনও পরিষ্কার নয়। কারণ, কেউই নাবালকের দায়িত্ব নিতে চাইছে না।
নিজের স্ত্রী, মেয়ে এবং বৌদিকে খুন করেছেন প্রসূন। তারপর গাড়ি করে বেরিয়ে দাদা প্রণয় এবং তাঁর ছেলেকে নিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু সফল হননি। পুলিশের কাছে এমনই স্বীকারোক্তি তাঁর। ওই নাবালকও জানিয়েছে, কাকাই খুন করেছে। তাকেও মারার চেষ্টা হয়েছিল কিন্তু সে মরার ভান করে কোনও মতে বেঁচেছে! রাজ্য শিশু সুরক্ষা কমিশনের দুই প্রতিনিধি হাসপাতালে গিয়ে নাবালকের সঙ্গে কথা বলেছিলেন। তাদেরই এই বয়ান দিয়েছিল সে।
রাজ্য শিশু সুরক্ষা কমিশন তারপর থেকেই চেষ্টা করছে ওই নাবালককে আশ্রয় খুঁজে দেওয়ার। কারণ তাঁর মা, বোন কেউই বেঁচে নেই। বাবা এবং কাকা দুজনকেই জেলে যেতে হতে পারে। আগে নাবালক জানিয়েছিল, সে তার মৃত কাকিমা সুদেষ্ণার বাবা-মায়ের কাছে থাকতে চায়। তার নিজের দাদু-দিদা অর্থাৎ প্রণয়ের স্ত্রী মৃত রোমি দে-র মা-বাবার কাছে থাকার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল তাকে, সে খারিজ করে দিয়েছিল। কিন্তু এখনও বিষয়টি নিয়ে কোনও অগ্রগতি হয়নি।
সূত্রের খবর, দে পরিবারের বাকি লোকজনকে কিশোরের দায়িত্ব নিতে রাজি করানো যায়নি। ওই কিশোরের কাকিমার মা–বাবার বাড়ির দিকের লোকজনরাই বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় ভুগছেন। তাই এই বয়সে আলাদা করে কারও দায়িত্ব তাঁরা নিতে চাইছেন না। এখন কিশোরকে সরকারি হোমে রাখা ছাড়া কোনও উপায় খুঁজে পাচ্ছে না শিশু কমিশন।
তবে শিশুটির বর্তমান অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শিশু মনস্তাত্ত্বিকরা। পুলিশের কড়া পাহারায় থাকার ফলে তার মানসিক চাপ বাড়ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। দ্রুত তাকে হাসপাতাল থেকে বের করে স্বাভাবিক পরিবেশে নিয়ে আসার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।